বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি ইথিওপিয়া-সোমালিয়ার চেয়েও কম

0
327
বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি ইথিওপিয়া-সোমালিয়ার চেয়েও কম

বাংলাদেশ মোবাইল ইন্টারনেটের গতির দিক দিয়ে ভারত কিংবা পাকিস্তানের থেকে পিছিয়ে। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রায় সব দেশেই বাংলাদেশের চাইতে বেশি গতির ইন্টারনেট রয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেটের গতি আফ্রিকার দরিদ্র দেশ ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার চাইতেও খারাপ অবস্থা।

অনলাইনে ইন্টারনেটের গতি দেখা যায়, এমন একটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট স্পিডটেস্ট’র গ্লোবাল ইনডেক্সের গত জানুয়ারি মাসে প্রকাশ করা সূচকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। অথচ বাংলাদেশে মোবাইল অপারেটরগুলো অনেকদিন ধরেই ফোরজি গতির ইন্টারনেট সেবা দিয়ে আসছে বলে দাবি করছে।

এমনকি খুব শিগগিরই তারা ইন্টারনেটের নব প্রযুক্তি ফাইভজি সেবা দেবে এমন কথাও বলছে। আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না দিলেও বড় একটি মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা তাদের ইন্টারনেটের গতি কম থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেছে, ‘মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর যে পরিমাণে ইন্টারনেট গ্রাহক রয়েছে তার চাইতে স্পেকট্রাম বা তরঙ্গের পরিমাণ কম। ফলে ইন্টারনেটের গতি কম হচ্ছে।’

বাংলাদেশের গ্রাহক অভিজ্ঞতা
বাংলাদেশের যেসব মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন তাদের একটি বড় অংশই যোগাযোগ, ব্রাউজিং বা বিনোদনের ক্ষেত্রে মোবাইল ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই মোবাইল ইন্টারনেটের গতি নিয়ে মানুষের অভিযোগের শেষ নেই।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাইমুনা সুলতানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সক্রিয়। তার নিজের একটি ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল আছে, যেখানে তিনি লাইভ স্ট্রিম করেন, ছবি বা ভিডিও আপলোড করেন। কিন্তু সম্প্রতি ইন্টারনেট গতি না পেয়ে মোবাইলের অপারেটর বদলেছেন। কিন্তু তেমন কোনো লাভ হয়নি তার।

দুটি অপারেটর তাদের বিভিন্ন বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগের দাবি করলেও মাঝে মাঝে ঢাকার ভেতরেই সংযোগ পেতে ঝামেলা পোহাতে হয় মাইমুনা সুলতানাকে। বিশেষ করে কোনো ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড কিংবা ১২তলার ওপরে গেলে তিনি তার অপারেটর থেকে আর নেটওয়ার্ক পান না।

ঢাকার বাইরে অনেক জেলাতেও একই জটিলতার মুখে পড়তে হয় তাকে। এভাবে যখন তখন সংযোগ চলে যাওয়া বা ইন্টারনেট স্পিড কমে যাওয়ার কারণে তিনি যে প্যাকেজগুলো কেনেন তার বেশিরভাগই অপচয় হয়ে যায়।

মাইমুনা সুলতানা বলেন, ‘আমরা গত মাসে শ্রীমঙ্গলে ঘুরতে গিয়েছিলাম। জায়গাটা এমন দুর্গম কোথাও না, শহরের কাছেই। কিন্তু আমার দুটো অপারেটরের একটাতেও ইন্টারনেট কানেক্ট করতে পারিনি। অথচ দুটোতেই আমি সাত দিনের প্যাকেজ কিনে রেখেছিলাম। আমার পুরো টাকাটাই অপচয়।’

তিনি বলেন, ‘আমার অফিস ঢাকাতেই একটা বহুতল ভবনের ১২তলার ওপরে। সেখানেও নেটওয়ার্ক পেতে ঝামেলা হয়। ওয়াইফাই থাকায় কাজ চালিয়ে নিতে পারি।

মোবাইল অপারেটরগুলো ফোরজি ইন্টারনেট দেয়ার দাবি করলেও সেটার সাথে পারফর্মেন্সের কোনো মিল নেই বলে অভিযোগ করেছেন সাদিয়া হক।

তিনি অনলাইনে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, সেক্ষেত্রে দিন-রাত তাকে ইন্টারনেট সংযোগের ওপর নির্ভর করতে হয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ওরা দাবি করে ফোরজি স্পিড, কিন্তু আমি লাইভ করতে গেলে কিছুক্ষণ পরেই ফুটেজ এতো খারাপ আসে। ফোরজিতে তো এমন হওয়ার কথা না। মাঝে মাঝে ইউটিউবে বাফারিং হয়। অথচ টাকা তো কম নিচ্ছে না। অন্য দেশের চাইতে বেশিই নিচ্ছে।’

স্পিডটেস্ট’র সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান
প্রতিষ্ঠানটি মোট ১৪০টি দেশের মোবাইল ইন্টারনেটের গতি জরিপ করেছে, সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৬তম। যা গত বছরের চাইতে এক ধাপ পিছিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে মালদ্বীপ। দেশটির অবস্থান ৪৫তম। ৮৮তম অবস্থানে রয়েছে মিয়ানমার। নেপালের অবস্থান ১১৪তম। এর চার ধাপ পিছিয়ে ১১৮তম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। ১২০তম অবস্থানে শ্রীলঙ্কা। ভারত ১৩১তম অবস্থানে।

মোবাইলের ইন্টারনেটের গতিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির মোবাইল ইন্টারনেটের গতি ১৮৩ এমবিপিএসের বেশি। তার পরেই রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, চীন, সৌদি আরব, নরওয়ে, কুয়েত ও অস্ট্রেলিয়া।

এই প্রতিটি দেশের মোবাইল ইন্টারনেটের গতি ১০০-১৭০ এমবিপিএসের বেশি। সে হিসেবে ১৩৬তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেটের গতি ১০.৫৭ এমবিপিএস। যেটা কিনা ভারতে ১২.৪১ এমবিপিএস এবং পাকিস্তানে প্রায় ১৮ এমবিপিএস।

মোবাইল ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে কী করা হচ্ছে
ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছে, ‘বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরগুলোর যে পরিমাণ গ্রাহক রয়েছে, সে হিসেবে তাদের স্পেকট্রাম বা বেতার তরঙ্গ ব্যবহারের পরিমাণ কম। ধরুন, একটি অপারেটরের গ্রাহকের সংখ্যা ৮ কোটি। কিন্তু তাদের স্পেকট্রাম বরাদ্দ আছে মাত্র ৩৭ মেগাহার্টজ। যেখানে গ্রাহক হিসেবে তাদের থাকার কথা ছিল ১০০ মেগাহার্টজের মতো। এই বেতার তরঙ্গই হলো মোবাইল নেটওয়ার্কের মেরুদণ্ড। এটি ঠিক না থাকলে, কোনোটাই ঠিক থাকবে না।’

সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন