নির্ধারিত সময়ে সেনা প্রত্যাহারের সাথে সাথে পূর্ণাঙ্গ শরিয়াহ্ ব্যবস্থা চায় তালেবান

2
1801
নির্ধারিত সময়ে সেনা প্রত্যাহার সাথে সাথে পূর্ণাঙ্গ শরিয়াহ্ ব্যবস্থা চায় তালেবান

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সকল আমারিকান ও ন্যাটো জোটের সদস্যদের আফগানিস্তান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে তালেবান। পাশাপাশি তালেবান এও জানিয়েছে যে, তারা আফগানিস্তানে পূর্ণাঙ্গ একটি ইসলামিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

গত ১৯ মার্চ শুক্রবার, মস্কোতে একটি সংবাদ সম্মেলন থেকে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে তালেবান প্রতিনিধিগণ জানিয়েছেন যে, দোহা চুক্তি অনুযায়ী আগামী পহেলা মে এর মধ্যে আফগানিস্তান থেকে আমেরিকা ও ন্যাটো জোট তাদের সকল সেনা ও কর্মকর্তাদেরকে আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। একই সাথে তারা বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার না করলে মুজাহিদীনরা অবশ্যই ‘প্রতিক্রিয়া’ দেখাবেন। তবে কি হবে সেই প্রতিক্রিয়া, তা সরাসরি না বললেও এটা স্পষ্ট যে, তালেবান মুজাহিদিন প্রতিক্রিয়াস্বরূপ পূণরায় আমেরিকা ও ন্যাটো জোটের সেনাদের ঘাঁটিতে বড় ধরণের হামলা চালানো শুরু করবেন।

এদিকে ‘জো বাইডেন’ প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, তারা ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে তালেবানের করা চুক্তি পর্যালোচনা করে দেখছে। গত বুধবার বাইডেন এবিসি নিউজকে একটি সাক্ষাৎকারে বলেছে, ‘পহেলা মে এর মধ্যে সেনা প্রত্যাহার করা হতে পারে, তবে এর সম্ভাবনা খুবই কম। সে আরো বলেছে, সেনা প্রত্যাহারের তারিখ পিছাতে পারে’ তবে তা কতদিন তা স্পষ্ট করেনি বাইডেন।

তালেবানের আলোচকদের দলের মুখপাত্র মুহতারাম সুহাইল শাহীন হাফিজাহুল্লাহ্ বলেছেন, দখলদার সেনাদের আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। তিনি হুমকির স্বরে বলেছেন, পহেলা মে এর মধ্যে সেনা প্রত্যাহার না করলে তা চুক্তি ভঙ্গ বলে গণ্য হবে। এবং এর জন্য আমরা কোনোভাবেই দায়ী থাকবো না, চুক্তি ভাঙার জন্য তারা অবশ্যই আমাদের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া দেখবে। তিনি আরো বলেন, আমরা আশা করছি এরকম কিছু হবে না, আরো আশা করছি তারা আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাবে এবং আমরা আমাদের শাসনব্যবস্থা ও অভ্যন্তরীণ ইস্যু নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনা করতে পারব। ইসলামিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি করে তিনি বলেন, তালেবান ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞবদ্ধ। তিনি ইঙ্গিত করেছেন, পুতুল আশরাফ ঘানির ইসলামি শাসনব্যবস্থার সংজ্ঞা আর তালেবানের ইসলামি শাসনব্যবস্থার সংজ্ঞা এক নয়।

তালেবান শাসনব্যবস্থায় নারীদের অংশগ্রহণ

তালেবানের ইস্যুকৃত বক্তব্যগুলোতে মেয়েদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাবার অনুমতির কথাও জানিয়েছে, যার প্রেক্ষিতে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে নারীদের সু-শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছবিও গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। যেখানে দেখা গেছে, শত শত মেয়ে ইসলামী নিয়ম মেনেই শিক্ষা গ্রুহণ করছেন। তালেবান প্রতিটি বক্তব্যেই বারবার একটি কথা জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইসলামী শরিয়াহ্ অনুযায়ী তারা নারীদের পূর্ণাঙ্গ অধীকার দিবেন, এজন্য নারীদের অবশ্যই শরীয়াহ মেনে চলতে হবে। তারা বলেছেন।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে আমেরিকা, রাশিয়া এবং চীন বারবার তালেবানকে অনুরোধ করেছে যে, তারা যেন এই বসন্তে বড় ধরণের কোনো অভিযান না চালান। তা স্বত্ত্বেও তালেবান সংবাদ সম্মেলনে এবিষয়ে কোন বক্তব্য বা প্রতিজ্ঞা করেনি।

মস্কোর এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন তালেবানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আব্দুল ঘানি বারাদার হাফিজাহুল্লাহ্ ও তার ১০ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধিদল। এছাড়া মার্কিন কূটনীতিক জালমাই খালিলযাদ, আফগানিস্তানের রিকন্সিলিয়েশন কাউন্সিল এর প্রধান আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ এবং পাকিস্তান, ইরান, ইন্ডিয়া ও চীনের প্রতিনিধিরা।

নির্ধারিত সময়ে সেনা প্রত্যাহার সাথে সাথে পূর্ণাঙ্গ শরিয়াহ্ ব্যবস্থা চায় তালেবান

2 মন্তব্যসমূহ

  1. আমরা (তালেবান)ধৈর্য অনেক ধরেছি অপেক্ষা অনেক করেছি।আর নয় স্পষ্ট আমাদের কথা ১ই মের মধ্যে আমেরিকা সমস্ত সৈন্য প্রত্যাহার না করলে অবশ্যই তাদেরকে ইহার জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে এবং আমরা ঐ সাদা চামড়ার কুলাঙ্গারদেরকে দেখিয়ে দিব, আল্লাহর কারিশমা এবং আমাদের বাহুর শক্তি।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন