‘বৈধ’ কাগজপত্র না দেয়ায় আত্মহত্যা করেন এসআই হাসান

0
484
‘বৈধ’ কাগজপত্র না দেয়ায় আত্মহত্যা করেন এসআই হাসান

বিসিএস পরীক্ষার জন্য ওসি ছাড়পত্র না দেওয়ায় পাবনা জেলার আতাইকুলা থানায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হাসান আলীকে নিজ গুলিতে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার।

চাকরিতে যোগদানের দেড় মাস পর গত রবিবার (২১ মার্চ) থানা ভবনের ছাদে উঠে নিজের পিস্তল দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করে এসআই হাসান আলী।

সোমবার ভোরে তার লাশ যশোরের কেশবপুরের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে এলাকায় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সোমবার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে হাসানের লাশ দাফন করা হয়।

পুলিশের দাবি হাসান আলী আত্মহত্যা করেছেন। তার বাবার দাবি বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাকে ছাড়পত্র দেননি। এ কারণে তাকে লাশ হতে হলো। এজন্য থানার ওসিই দায়ী।

তিনি জানান, যদিও জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা হাসানের ছুটি মঞ্জুর করেছিলেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আতাইকুলা থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, ‘হাসান বিসিএস পরীক্ষা দেবেন একথা তিনি জানেন না। ছুটি মঞ্জুর হলেও তিনি ছুটিতে যাননি।’

বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুল জব্বার অনেক কষ্টে ছেলে হাসানকে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্বদ্যিালয়ে পড়িয়েছেন। দুই বছর আগে হাসান এসআই পদে নিয়োগ পান। তার বাবা জব্বার এখনো ভ্যান চালান।

মা আলেয়া বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘শনিবার রাত ১২ টায় মোবাইল ফোনে ছেলের সঙ্গে তার কথা হয়। শুক্রবার খুলনায় তার বিসিএস পরীক্ষা ছিল। কিন্ত ছুটি না পাওয়ায় তার পরীক্ষা দেওয়া হলো না।’ এ সময় মা কাঁদতে কাঁদতে আরো বলেন ছেলে তাকে জানিয়েছে আতাইকুলা থানার ওসি স্যার অন্যদের ছুটি দিলেও তাকে (ছেলে) ছুটি দেননি।’ কালের কণ্ঠ

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন