সোমালিয়ায় দখলদার শক্তি: শান্তি রক্ষার নামে যুদ্ধাপরাধ ও আতঙ্কবাজী

1
1318
সোমালিয়ায় দখলদার শক্তি: শান্তি রক্ষার নামে যুদ্ধাপরাধ ও আতঙ্কবাজী

আফগানে বিদেশী দখলদার শক্তির আগ্রাসন নিয়ে আমরা চিন্তা করলেও প্রায় সময়েই ভুলে যাই সোমালিয়ার কথা। কিন্তু সাংবাদিকদের রিপোর্ট বলছে, বিগত কয়েক বছরে সোমালিয়া ব্যাপক ভাবে সামরিকিকরণ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গেছে। ফলশ্রুতিতে এখন দেশটির প্রায় সবখানেই বিদেশি শক্তি এবং প্রাইভেট কন্ট্রাক্টর (ব্যক্তিগত বা ভাড়াটে সামরিক বাহিনী) দিয়ে পূর্ণ হয়ে গেছে। এই ব্যাপক সামরিকিকরণ দেশটিকে পরিণত করেছে এক খোলা আকাশের কারাগারে।

এত বেশি সংখ্যক দখলদার সশস্ত্র বাহিনী তৈরি হবার কারণে দেশটিতে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গণহত্যা, অবাধ গুম-গ্রেফতার এবং আরো অনেক অপরাধ। গ্রাম্য অঞ্চলে এসব অপরাধ তো আরো ভয়ানক আকার ধারণ করেছে।

সোমালিয়ায় বিদেশী শক্তি ও তাদের পদলেহী মুর‍তাদ সরকারি বাহিনী চলমান যুদ্ধে যেসব যুদ্ধাপরাধ করেছে, তার সিংহভাগই ধামাচাপা পড়েছে ক্ষমতার জোরে। একইভাবে ধামাচাপা দেয়া হয়েছে সাপের মাথা আমেরিকার চালানো হত্যাযজ্ঞকেও। কথিত ওয়ার অন টেররের নামে নির্বিচারে ড্রোন হামলা করে তারা শহীদ করেছে অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে, যারা কোনোভাবেই এই যুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত নন।

সোমালিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম হালগান মিডিয়া বিগত কয়েক বছর ধরে এরকমই অনেক মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তারা হয় দখলদার বাহিনীগুলোর ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ধুঁকে ধুঁকে জীবন অতিবাহিত করছেন, অথবা হারিয়েছেন তাদের প্রিয়জনকে। আবার অনেকে সাক্ষী হয়েছেন কুফফার সংঘ জাতিসংঘের কথিত শান্তিরক্ষী বাহিনী ‘AMISOM’ এর বিচারবহীর্ভূত হত্যাকান্ড ও ধর্ষণের।

প্রতিটি সাক্ষাৎকার দেবার সময় ভুক্তভোগীরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছিলেন। তারা জানান, কথিত শান্তিরক্ষীদের রুটিন ফুট পেট্রোলের বুটের আওয়াজও তাদের আতঙ্কিত করে তোলে। এমনকি রাতের বেলায় দূর আকাশে বিমানের আওয়াজও তাদের ঘুম হারাম করে তোলে – এই বোধহয় সব লন্ডভন্ড করে দিলো আমেরিকান ও দখলাদর বাহিনীগুলোর ড্রোন।

অপরদিকে যদি আল-কায়েদা শাখা আল-শাবাবের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর দিকে নজর দেয়া হয়, দেখা যাবে, শরীয়াহ্’র সুশীতল ছায়াতলে অনেক ভালো অবস্থানে আছেন জনগণ। আদল ও ইনসাফ সেখানকার জনগণের নিত্যসঙ্গী।

IMG-20210618-184632-518

সেখানে হাত কাটার ভয়ে কেউ চুরি করে না, ধর্ষণ করে না প্রস্তরাঘাতে বেদনাদায়ক মৃত্যুর ভয়ে। সেখানে বাজারগুলোতে দাম মনিটর করেন আল-শাবাবের পুলিশ বাহিনী। সালাতের ওয়াক্ত হবার সাথে সাথেই সব দোকানপাট ও কাজকর্ম বন্ধ করে বাধ্যতামূলক মসজিদে আসতে হয় সবাইবে। অভাবী ও দরিদ্রদের দেয়া হয় খাবার ও আর্থিক সহায়তা। যেকোনো ফিতনার উদ্ভবের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে জনগণের সামনেই শরিয়ার সীমারেখায় তাদেরকে কঠোর সাজা দেয়া হয়।

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন