আলোচনা আর যুদ্ধই নয়; বরং ই’লমি ময়দানেও সমানভাবে অবদান রাখছেন মুজাহিদ উমারাগণ

0
1302
আলোচনা আর যুদ্ধই নয়; বরং ই’লমি ময়দানেও সমানভাবে অবদান রাখছেন মুজাহিদ উমারাগণ

গত ৯০ দশক থেকে আফগানিস্তানসহ বিশ্বের একাধিক যুদ্ধের ময়দানে কুফ্ফার আর মুরতাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে জিহাদ চালিয়ে যাচ্ছেন আল-কায়েদা ও তালিবান মুজাহিদিনরা। যুদ্ধ আর রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও তারা এটা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে, ইলমি মাশগালাহ কখনোই ‘জিহাদের প্রতিবন্ধক নয়, কিংবা বরকতময় এই জিহাদী মাশগালাহ কখনোই ইলমচর্চার প্রতিবন্ধক হয় না।

যার দৃষ্টান্ত তাঁরা মালি, সোমালিয়া ও বরকতময় খোরাসানের ভূমিতে দিয়ে যাচ্ছেন। বামাকো নিউজের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, সাহেল অঞ্চলের মালি, বুর্কিনা-ফাসো ও নাইজার সীমান্তেই আল-কায়েদা তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে প্রায় ৬ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। তারা সেখানে নতুন সিলেবাস তৈরি করে শিক্ষাকার্যক্রম চালাচ্ছেন। অনুরূপ পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ায় হারাকাতুশ শাবাব মুজাহিদিনও তাদের নিয়ন্ত্রিত ইসলামিক ভূমিতে নিজস্ব সিলেবাস দিয়ে প্রাথমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও শরিয়াহ্ বিভাগের শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তাদের এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছরই শত শত ছাত্র বিভিন্ন বিভাগ থেকে সনদ গ্রহন করছেন।

শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরী হাফিজাহুল্লাহ্ বিভিন্ন সময় তাঁর আলোচানায় মুজাহিদদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোতে ছাত্রদের দ্বীনি-ইলম শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন।

অপরদিকে খোরাসানের ভূমি আফগানিস্তানেও থেমে নেই তালিবান মুজাহিদগণ। তাঁরাও নিজস্ব সিলেবাসেই ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। গত বছরও তাঁরা সারাদেশে নতুন করে ৫ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মুজাহিদগণ নিজস্ব সিলেবাসের কিতাব লিখার পাশাপাশি বিভিন্ন ফনের উপরেও গুরুত্বপূর্ণ কিতাবাদী রচনা করছেন। যেমন, কাতারভিত্তিক তালিবানদের আলোচনাকারী দলের প্রধান এবং আফগানিস্তানে ‘মাজলিসে উলামা আদ্ব- দীন ও বিচারবিভাগের প্রধান শাইখ আবদুল হাকিম হাফিজাহুল্লাহ্ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কিতাব লিখেছেন, যা বিষয়বস্তুর দিক থেকে ইসলামী বিচার ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।

শাইখ আবদুল হাকিম এই বিষয়ে কিতাব লিখার অন্যতম কারণ হল তিনি তালিবানদের বিচারক ছিলেন।

তাঁর রচিত কিতাবগুলো হল- “ইসলামের ইতিহাসে বিচারের সম্পূর্ণ পদ্ধতি”, “যাদুল-মুহতায ফী তাহকিক আল-মিনহাজ”, “যাদুশ-শারীই ফি তাওযিহ জামিউত-তিরমিযী”, “যাদুল-মাহাফিল ফি শারহিশ-শামাইল ”এবং“ রওজাতুল-ক্বাজা”।

তালিবানদের আলোচক দলের অন্য একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং সম্মানিত আলেম শাইখ মাওলানা শিহাবুদ্দিন দিলাওয়ার হাফিজাহুল্লাহ্’ও “শিহাবুল-বুখারী” নামে ৬ খন্ডে (ভলিউম) বুখারী শরীফের একটি শরাহ্ লিখেছেন। তিনি ৯০ দশকে ইমারতে ইসলামিয়ার অধীনে পাকিস্তান ও সৌদি আরবে রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন। পেশোয়ারে আফগান কনস্যুলেটেও তিনি কনসাল জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও, তালিবান ও আল-কায়েদার বড় বড় উমারাগণও বিভিন্ন ফনের উপর এবং বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে যুগোপযোগী গুরুত্বপূর্ণ অনেক বই লিখেছেন।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন