অ্যামেরিকার ড্রোন সন্ত্রাস : হামলায় নিহত কিশোরের বিচার প্রক্রিয়া বাতিল করলো মার্কিন আদালত।

0
617
অ্যামেরিকার ড্রোন সন্ত্রাস : হামলায় নিহত কিশোরের বিচার প্রক্রিয়া বাতিল করলো মার্কিন আদালত।

আব্দুর রহমান আল-আওলাকি ইয়েমেনি বংশদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক। কোঁকড়ানো চুল আর মনমাতানো হাসিতে অপার সম্ভাবনাময় সেই কিশোরের সকল সম্ভাবনা অঙ্কুরেই ধ্বংস করে দেয় বিশ্ব সন্ত্রাসী আমেরিকা।

২০১১ সালের ১১ অক্টোবরে ইয়েমেনের একটি রেস্তোরাঁয় চাচাতো ভাইদের সাথে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন আব্দুর রহমান। সেই সময় পরিকল্পিত মার্কিন ড্রোন হামলায় মাত্র ষোল বছরেই নিহত হন তিনি। হামলায় তাঁর এবং তাঁর সঙ্গীদের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।
আব্দুর রহমান আল-আওলাকির হত্যার মাত্র দুই সপ্তাহ পরে তার বাবা শাইখ আনোয়ার আল-আওলাকিও (রাহিমাহুল্লাহ) মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন। তিনিই প্রথম মার্কিন নাগরিক যিনি মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন।

আব্দুর রহমান আল-আওলাকির দাদা নাসের আল-আওলাকি তাঁর নাতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘কখনও ভাবিনি আমাদের আদরের এই সুন্দর ছেলেটিকে আমাদের নিজ সরকার হত্যা করবে। আমরা সত্যিই হতাশাজনক পরিস্থিতিতে ছিলাম এবং আমরা আজও ভুগছি। আমি আশা করি, কোন আমেরিকান হয়তো আমার নাতির সাথে যা ঘটেছিল তা অন্যায় হিসাবে দেখবে।’

২০১২ সালে দাদা নাসের আল-আওলাকি নাতির হত্যাকাণ্ডের জন্য মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটস এন্ড এসিএলইউ-এ একটি মামলা দায়ের করেন।
কিন্তু আমেরিকার আদালত যুদ্ধ এবং জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে মামলাটি পুরোপুরি বাতিল করে দিলে তিনি বলেন, যে আদালত একটি নিস্পাপ শিশু হত্যার মামলা বিনা অযুহাতে বাতিল করে দেয়, এমন বিচারব্যবস্থার উপর আমার কোন আস্থা নেই।
আমেরিকার আদালতের প্রতি আস্থা না থাকায় শেষ অবধি নাসের আল-আওলাকি মামলার আপিল না করার সিদ্ধান্ত নেন।

মামলার উকিল মারিয়া লাহুদ জানায়, ‘বিদেশে একজন মার্কিন নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে, অথচ আদালত এ মামলার কাজ চালাতে অস্বীকার করছে!’
এই মামলা বাতিল হওয়ার কারণ কি তবে এটাই যে আব্দুর রহমান ছিলেন সায়েখ আনোয়ার আল আওলাকির সন্তান?

এসব ঘটনার মধ্যেই নাসের আল-আওলাকির জীবনে আরও একটি দুঃখজনক ঘটনা অবতারন করে মার্কিন সন্ত্রাসী সেনারা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ২০১৭ সালে মার্কিন কমান্ডোরা ইয়েমেনে অভিযান চালিয়ে তাঁর আট বছরের নাতনী নাওয়ারকেও হত্যা করে।

এক দশকে তিনি তার ছেলে, নাতি এবং নাতনিকে হত্যার শিকার হতে দেখলেন। আমেরিকান আদালত ব্যবস্থায় তার ন্যায়বিচারের ব্যর্থ চেষ্টা করে গত মাসে নাসের আল-আওলাকিও মারা যান।

ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের এক পরিসংখ্যানের তথ্য মতে, ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ওবামা প্রশাসন ইয়েমেনে ১৩৮টিরও বেশি ড্রোন হামলা চালিয়ে অন্তত ৪১ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে। যদিও বাস্তব সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

পরিসংখ্যানে আরও বলা হয়, ২০১৭ সালে ইয়েমেনে ড্রোন হামলা আগের চেয়ে তিনগুণ বৃদ্ধি করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।

এয়ারওয়ার্স গ্রুপ নামের অন্য একটি মানবাধিকার সংস্থা গত মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানায়, কথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অযুহাতে গত ২০ বছরে মার্কিন বিমান ও ড্রোন হামলার ফলে কমপক্ষে ৪৮,৩০৮ জনেরও বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়।

ইয়েমেন, সোমালিয়া, সিরিয়া, আফগানিস্তানসহ অসংখ্য মুসলিম দেশে হাজার হাজার নিরীহ পুরুষ, মহিলা এবং শিশুদের হত্যা করে আমেরিকা। এর জন্য কোন প্রকার বিচারের ব্যবস্থা বা কোন অনুশোচনাও প্রকাশ করেনি সন্ত্রাসী আমেরিকা।

অতি সম্প্রতি আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল সন্ত্রাসী আমেরিকা। প্রাথমিকভাবে তারা বলেছিল যে হামলাটি ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে এবং জঙ্গিদের সবাই নিহত হয়েছে। পরে জানা যায় এ হামলায় একই পরিবারের ১০ জন বেসরকারি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

মার্কিন বাহিনী এভাবেই বিশ্বজুড়ে একের পর এক শিশু ও নিরীহ মানুষ হত্যা করে চলেছে। কিন্তু এজন্য কাউকে কোনদিন জবাবদিহি করা হয়নি।
ড্রোন হামলায় হত্যাকাণ্ড এখনো অব্যাহত রেখেছে সন্ত্রাসী আমেরিকা।

তথ্যসূত্র :
——-
১। Still no justice for American teenager killed ten years ago by US in Yemen –
https://tinyurl.com/2zcfbhp9

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন