বাংলাদেশকে ‘পশু সমাজে পরিবর্তন’ করার ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে ট্রান্সজেন্ডার কোটা

0
1351

ট্রান্সজেন্ডারদের উন্নয়য়নে কাজ করার ঘোষণা করছে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)। গত ১৬ জানুয়ারি আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে বিসিসির সভাকক্ষে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটিতে সাক্ষর করেছে বিসিসির নির্বাহী পরিচালক রণজিৎ কুমার।

একই সময়ে ট্রান্সজেন্ডার ও হিজরা কোটা চালুর ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; হঠাৎ করেই এমন সিদ্ধান্ত নিল প্রতিষ্ঠানটি।। ট্রান্সজেন্ডার কোটার সিদ্ধান্ত এমন সময় এসেছে, যখন দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ধর্মনিরপেক্ষতার নামে হিন্দুত্ববাদী ও পশ্চিমা এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ইসলাম-বিদ্বেষী এবং ডারউইন তত্ত্ব ও ট্রান্সজেন্ডারের মতো ঈমান বিধ্বংসী বিষয়াদি শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করেছে; এ নিয়ে দেশে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। তবে গাদ্দার সরকার দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর অভিমত ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব না দিয়ে এবং সুস্থ বিবেক ও রুচিশীলতার ধার না ধেরে বরাবরের মতোই বিদেশী ও হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নকে প্রাধান্য দিয়েছে।

হিজরাদেরকে ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে উল্লেখ করে একটি সূক্ষ্ম কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে সরকার। এটি মূলত কথিত প্রগতিবাদী ও নারীবাদীদের অপকৌশল। তারা হিজরাদের ট্রান্সজেন্ডার বলে উল্লেখ্য করেছে। কিন্তু হিজরা আর ট্রান্সজেন্ডার এক বিষয় নয়।

ট্রান্সজেন্ডার হচ্ছে যেসব মানুষ, যারা স্বাভাবিকভাবেই জন্ম নিয়েছে, কিন্তু পরবর্তীতে নিজেদেরকে ‘ছেলের চামড়ায় বন্দী মেয়ে’ বা ‘মেয়ের চামড়ায় বন্দী ছেলে’ ভেবে শয়তানি আবেগের বশে সার্জারির মাধ্যমে নিজেদের লিঙ্গ পরিবর্তন করেছে। এছাড়াও বিপরীত লিঙ্গের মতো আচরণ ও বিপরীত লিঙ্গের পোশাক পরিধানকারীদেরকেও ট্রান্সজেন্ডার বলে প্রচার করা হয়। ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক এর সবগুলো কাজই অকাট্যভাবে হারাম।

কিন্তু নাস্তিক্যবাদী ও কথিত প্রগতিবাদীরা ‘মানবাধিকার’, ‘ট্রান্সজেন্ডার’, ‘সমানাধিকার’ এজাতীয় পরিভাষাগুলোকে এমন কৌশলে প্রচার-প্রসার করে যে, এখানে তারা জায়েজ-নাজায়েজ বিষয়গুলোকে মিশিয়ে এক করে ফেলে। আর সচেতন মুসলিমরা এর বিরধিতা করলে তারা তখন তাদের ব্যবহৃত পরিভাষার ‘জায়েজ’ অংশটিকে হাইলাইট করে মুসলিমদেরকে মৌলবাদী বা মানবতাবিরোধী বলে প্রচার করতে থাকে।

যেমন ‘ট্রান্সজেন্ডার’ ইস্যুতে আলেম-ওলামাগণ বিরোধিতা করলে তারা প্রচার করে যে, হুজুররা হিজড়াদের অধিকারের বিরুদ্ধে। অথচ সম্মানিত আলেম-উলামা ও সচেতন মুসলিমগণ কখনোই হিজড়া-অধিকারের বিরুদ্ধে নয়, বরং তারা ‘ট্রান্সজেন্ডার’এর মোড়কে লিঙ্গ-পরিবর্তনকারী বিকৃত মানসিকতার লোকেদের বিরুদ্ধে কথা বলেন।

আর নাস্তিক্যবাদী সরকার এমন সময় একটি মুসলিম দেশে ট্রান্সজেন্ডারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে, যখন দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তাদের ক্ষমতার বিরোধী, এবং তাদের জনসমর্থন একেবারে তলানিতে। ক্ষমতালোভী গাদ্দার সরকার যে-কোনো মূল্যে দেশের ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। কিন্তু দেশের জনগণ তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। জনগণই তাদের পথে এখন একমাত্র বাধা।

ফলে ক্ষমতায় টিকে থাকতে বিদেশী প্রভুরাই এখন সরকারের একমাত্র ভরসা। আর এক্ষেত্রে বিদেশীরা সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে নিজেদের স্বার্থ ও এজেন্ডাকে চাপিয়ে দিয়েছে সরকারের কাঁধে। গাদ্দার সরকারও ক্ষমতার লোভে ভারতের হিন্দুত্ববাদ আর পশ্চিমাদের ট্রান্সজেন্ডারের ও প্রগতিবাদের বিষ ঢুকিয়ে দিয়েছে দেশের শিক্ষাক্রমে।

এখানে একটি বিষয় লক্ষনীয় যে, গণতান্ত্রিক সকল শাসকগোষ্ঠীই বিদেশীদের তাবেদারি করে ক্ষমতায় থাকার জন্য। কিন্তু কোন একটি বিষয় জনগণের ওপর চাপিয়ে দিলেই এর শতভাগ সফলতা অর্জন হয় না। এর জন্য দিতে হয় কিছু সুযোগ-সুবিধা, যেন মানুষ এর প্রতি আকৃষ্ট হয়। আর এভাবে ট্রান্সজেন্ডারের প্রতি দেশের মানুষকে আকৃষ্ট করতেই সরকার ট্রান্সজেন্ডারদের উন্নয়য়নে সহযোগীতার ঘোষণা করেছে; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের জন্য চালু করেছে কোটার ব্যবস্থা।

নাস্তিক্যবাদী সরকার একদিকে ট্রান্সজেন্ডারকে মুসলিম শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমে বাধ্যতামূলক করেছে, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রান্সজেন্ডারদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করেছে। হলুদ মিডিয়াও ট্রান্সজেন্ডার বিষয়টিকে ফলাও করে প্রচার করছে, এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে একটি নিকৃষ্ট বিষয়কে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মুসলিম শিশুদের ঈমান-আক্বিদাহ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে এ দেশকে ও দেশের ঐতিহ্যবাহী মুসলিম সমাজকে পুরোপুরি একটি পশু সমাজে পরিবর্তন করার সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছে নাস্তিক্যবাদী শাসকগোষ্ঠী।

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার প্রক্ষিতে দেশের সকল শ্রেণির মুসলিমদের দল-মত নির্বিশেষে এ শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া এখন সময়ের দাবি। যদি দেশের আপামর মুসলিম জনতা নাস্তিক্যবাদী শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে গাদ্দার সরকার এই শিক্ষাক্রম থেকে কখনোই সরে আসবে না।



লেখক : মুহাম্মাদ ইব্রাহীম



তথ্যসূত্র:
১। ট্রান্সজেন্ডারদের উন্নয়নে সহযোগিতা দেবে বিসিসি
https://tinyurl.com/n33w2363
২। ঢাবিতে চালু হচ্ছে ট্রান্সজেন্ডার কোটা
https://tinyurl.com/3y22s8md
৩। বিসিসি’র সঙ্গে বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সমঝোতা স্মারক
https://tinyurl.com/352255mv

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন