
ভারতের অবৈধ অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের রামবান জেলায় উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের দ্বারা এক মুসলিম যুবক হত্যার প্রতিবাদে বাসিন্দাদের বিক্ষোভ সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে। হত্যার শিকার মুসলিম যুবকটির নাম তানভীর আহমেদ চোপান, বয়স ২৫।
বিজেপি, আরএসএস ও বজরং দলের মতো উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত সন্ত্রাসীরা কথিত ‘গোরক্ষা’ এর অজুহাত দিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়েছিল। ঘটনার দিন তিনি গবাদি পশু বহনকারী মিনিট্রাক নিয়ে জম্মু থেকে রামবান জেলায় তার নিজ গ্রাম মুন্ডখালে যাচ্ছিলেন।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ১৩ এপ্রিল রামবান জেলায় শ্রীনগর-জম্মু মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা, জেলা জুড়ে সেদিন সম্পূর্ণ লকডাউন পালন করা হয়।
স্বচ্ছ তদন্ত, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে। দলমত নির্বিশেষে কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতারা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
কাশ্মীরের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ রুহুল্লাহ মেহেদি বলেছে, অভিযুক্তরা যদি মুসলিম হতো, তাহলে তাদেরকে রাতারাতি সন্ত্রাসী ট্যাগ দেওয়া হতো, বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের অধীনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হতো। হিন্দুত্ববাদী হওয়ায় এখানে ‘গোরক্ষক’ শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু আমারা হিন্দুত্ববাদী অভিযুক্তদের ‘সন্ত্রাসী’ বলবো।
সাজ্জাদ শাহীন নামে কাশ্মীরের একজন বিধায়ক বলেছে, নিহত তানভীরের কাছে গবাদি পশু পরিবহনের জন্য বৈধ কাগজপত্র ছিল। হত্যার পূর্বে তার গাড়িতে পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তাকে জোর করে টেনে গাড়ি থেকে নামানো হয়েছিল। তাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছিল।
কাশ্মীরি এক নেত্রী ইলতিজা মুফতি তার এক্স পোস্টে জানায়, তাদের নিকট ঘটনাটি যেন যথেষ্ট বেদনাদায়ক মনে হচ্ছে না। অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা তো দূরের কথা, দোষীদের বিরুদ্ধে এখনও মামলা নেওয়া হয়নি। বাস্তব সত্য হল, গো-রক্ষকরা ঠাণ্ডা মাথায় খুন করে প্রাতিষ্ঠানিক দায়মুক্তি ভোগ করে যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/2kj7az97


