
“রাম মন্দির থেকে কোটি কোটি রূপি লুট করা হয়েছে। ভগবান রাম যদি সেই লুটেরাদের শাস্তি দিতে না পারে, তবে তিনি কীভাবে আপনার উপকার করবে?”
এক সমাবেশে এ মন্তব্যগুলো তুলে ধরেছে উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন ক্যাবিনেট মন্ত্রী ও আপনা জনতা পার্টির প্রধান স্বামী প্রসাদ মৌর্য। অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে নির্মিত রাম মন্দিরের তহবিল আত্মসাতের ব্যাপারে সে অত্যন্ত জোরালোভাবে অভিযোগ করেছে। তার মন্তব্যগুলো ভারতের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, প্রাক্তন মন্ত্রী এ মন্তব্যগুলোর মাধ্যমে হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে।
তবে মন্ত্রীর সমর্থকদের দাবি, সে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে মন্তব্যগুলো করে নি, বরং মন্দিরের দুর্নীতি ও জবাবদিহিতা নিয়ে সে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
উল্লেখ্য যে, অযোধ্যা রাম মন্দির দুর্নীতির সঠিক আর্থিক পরিমাণ এখনও সুস্পষ্ট করে নি হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন। তবে ভারতের বিরোধী দল এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি—এই দুর্নীতির পরিমাণ ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৩৫ কোটি টাকারও বেশি) ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার অনুদান আত্মসাতের এই অভিযোগ তদন্ত করতে একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করেছে রাজ্য সরকার। শুক্রবার (১৯ জুন) উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
২০২৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্বোধন হওয়া এই মন্দিরটি ভারতের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। তবে উদ্বোধনের মাত্র দুই বছরের মাথায় খোদ মোদি-যোগীর স্বপ্নের প্রজেক্টে এমন বড় দুর্নীতির অভিযোগ ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/yks7vh5r


