মালিতে এফএলএ এবং জেএনআইএম যোদ্ধাদের সমন্বিত অপারেশনের দ্বিতীয় দিন

0
0

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে সন্ত্রাসী জান্তা ও তাদের মিত্র রাশিয়ান বাহিনীর বিরুদ্ধে গত ৪ জুলাই শনিবার থেকে সমন্বিত অপারেশন শুরু করে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জেএনআইএম এবং এফএলএ যোদ্ধারা। আজ ৫ জুলাই রবিবারও দেশের বিভিন্ন অংশে সমন্বিত এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

আয-যাল্লাকা মিডিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জেএনআইএম নিশ্চিত করেছে যে, দলটির মুজাহিদরা সমন্বিত এই অপারেশনের ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ ও মধ্য মালির বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ১০টি অভিযান পরিচালনা করেছেন।

বীরত্বপূর্ণ এই অভিযানগুলোর মাধ্যমে মুজাহিদরা মালির জান্তা বাহিনী এবং তাদের মিত্র রাশিয়ান বাহিনীকে হটিয়ে কেনিয়েরোবা, কুয়াকুরু এবং টিও এলাকার আংশিক নিয়ন্ত্রণ নেন। এসময় উক্ত এলাকাগুলোতে অবস্থিত শত্রু বাহিনীর বেশ কিছু সামরিক ঘাঁটি ও অবস্থানের নিয়ন্ত্রণও গ্রহণ করেছেন মুজাহিদরা।

একই ধারাবাহিকতায় জান্তা সমর্থিত ডোজো (Dozo) মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে হটিয়ে কোনা, সুমাদুগু, কারাকানি এবং সেনি কোরো এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেন জেএনআইএম মুজাহিদরা। সেই সাথে তাঁরা এসকল বিজিত এলাকায় অবস্থিত মিলিশিয়াদের সমস্ত সামরিক ঘাঁটি এবং অবস্থানেরও নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন।

এছাড়াও মালির গৌরি বুজি অঞ্চলে ডোজো মিলিশিয়াদের একাধিক সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছেন মুজাহিদরা। একইসাথে সোফারা এবং লেরে শহরেও জান্তা (ফামা)-র সাথে তীব্র লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন মুজাহিদগণ।

অপরদিকে উত্তর মালিতে এফএলএ যোদ্ধাদের পাশাপাশি জেএনআইএম মুজাহিদরা আনেফিস, আগুয়েলহক এবং গাও শহরে চলমান লড়াইয়েও অংশ নিয়েছেন। জান্তা এবং রাশিয়ান বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিচালিত এই অভিযানে জেএনআইএম মুজাহিদদেরকে ভারী অস্ত্র শস্ত্র এবং সামরিক যান ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

উত্তর মালির কিদাল শহর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের আনেফিস শহরটির কেন্দ্রীয় অঞ্চল ব্যতিত সমস্ত এলাকাই জেএনআইএম এবং এফএলএ যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। রাশিয়ান বাহিনী এবং মালির সশস্ত্র জান্তা বাহিনী শহরের কেন্দ্রস্থলে তাদের শিবিরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে সেখানে অবস্থান করছে। আনেফিসে আটকা পড়া রাশিয়ান এবং জান্তার সামরিক ইউনিটগুলোকে রসদ সরবরাহ করতে এবং আহতদের সরিয়ে আনতে গাও থেকে চারটি হেলিকপ্টার সেখানে অবতরণের চেষ্টা করে। কিন্তু প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হামলায় হেলিকপ্টারগুলোর মধ্যে দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার মধ্যে একটি আবার বিধ্বস্ত হয়; অন্য দুটি ফিরে যায়। এসময় প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকটি রুশ সাঁজোয়া যানও ধ্বংস হয়েছে।

রবিবার সকাল থেকেই আনফিসে শত্রুর কেন্দ্রীয় শিবিরের আশেপাশে ভারী আক্রমণ চালাতে শুরু করেছেন প্রতিরোধ যোদ্ধারা। ফলে আটকা পড়া শত্রু সৈন্যদের সহায়তায় গাও শহর থেকে রাশিয়ান বাহিনী এবং জান্তা সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি শক্তিবৃদ্ধিকারী কনভয় আনেফিসের পথে অগ্রসর হতে শুরু করেছে।

আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট (এফএলএ) জানিয়েছে যে, তারা আনেফিসের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলো সুরক্ষিত করতে সক্ষম হয়েছেন এবং গাও থেকে আসা হেলিকপ্টারগুলোকে নিষ্ক্রিয় করেছেন।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধউগ্র হিন্দুত্ববাদী খুনিদের যাবজ্জীবন রায় দেওয়ায় প্রাণনাশের হুমকিতে পড়েছে মধ্যপ্রদেশের মুসলিম বিচারক
পরবর্তী নিবন্ধগোপালগঞ্জে ভাগওয়া লাভ ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে বিবাহিত মুসলিম নারীকে নিয়ে পালিয়েছে হিন্দু যুবক