
বরিশালে অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে অণ্ডকোষ চেপে ধরে মারধর এবং জোর করে চেক ও স্ট্যাম্পে সই নেয়ার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বরিশাল নগরের সদর রোড এলাকায় অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে চেকে স্বাক্ষরের ঘটনাটির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে টনক নড়ে প্রশাসনের। এ ঘটনায় মামলা করার পর রোববার (৫ জুলাই) বিকালে নগরের ‘টপ টেন’ এলাকা থেকে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদ নামের দুজনকে আটক করে পুলিশ। ভুক্তভোগী আবদুল আজিজ হাওলাদার সাংবাদিকদের জানায়, বৃহস্পতিবার তাকে অণ্ডকোষ চেপে ধরে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে জোর করে ছয়টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও ৭০ লাখ টাকার একটি চেকে সই করতে বাধ্য করা হয়।
স্থানীয় লোকজনের অনেকে লিটুকে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানান। কিন্তু বরিশাল মহানগর যুবদল তা অস্বীকার করেছে। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন দাবি করে জানায়, লিটু কখনো কোনো পদে ছিল না এবং এর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
দৈনিক মানবজমিন সূত্রে জানা যায়, লিটুর বড় ভাইয়ের নাম মাহবুবুর রহমান পিন্টু। সে বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি।
বরিশাল মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার বেলাল হোসেন জানায়, ভুক্তভোগী ব্যক্তি এ ঘটনায় আদালতে একটি অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে লিটুসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়। এর ভিত্তিতে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা যায়, লিটু আগে আব্দুল আজিজ হাওলাদারে আবাসন কোম্পানির ব্যবসায়িক অংশীদার ছিল। ২০২৩ সালে লিটুর শেয়ারের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সব আর্থিক পাওনা চুকিয়ে ফেলা হয়। ওই সময় তাদের মধ্যে আর কোনো দেনা-পাওনা নেই মর্মে লিখিত ঘোষণাপত্রও দেয়া হয়। সবকিছু মিটিয়ে ফেলার পরও গত কয়েক মাস ধরে লিটু তার কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করছিল। কিন্তু হিসাবনিকাশ মিটে যাওয়ায় আব্দুল আজিজ হাওলাদার এই টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এ জন্য বৃহস্পতিবার তার ওপর শারীরিক নির্যাতন করে ব্লাংক চেকে স্বাক্ষর নেয়া হয়। আবদুল আজিজ হাওলাদার জানায়, ঘটনার পরপরই তিনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে অভিযুক্তরা চেক ভাঙাতে ব্যর্থ হয়।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি অফিসের ভেতরে আবদুল আজিজের ওপর চড়াও হয়। একজন তাকে আটকে রাখে। এ সময় তারা কক্ষে থাকা অন্য কর্মীদের বের হয়ে যেতে বলে। এমনকি ওই কোম্পানির এক কর্মী বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাকেও সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। ভাইরাল হওয়া ওই ফুটেজে আবদুল আজিজকে চড়-থাপ্পড় মারা হয় এবং অণ্ডকোষ চেপে তার সামনে স্ট্যাম্প ও চেক রেখে তাতে জোর করে সই নিতে দেখা যায়।
তথ্যসূত্র:
১। বরিশালে অণ্ডকোষ চেপে ধরে ব্লাংক চেক ও স্ট্যাম্পে সই, গ্রেপ্তার ২
– https://tinyurl.com/4b2etu49


