
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী অপহরণের ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এক শিক্ষার্থীকে অজ্ঞান করে অপহরণের পর রাতে আন্তঃনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবারের বগি থেকে উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে আরেক শিক্ষার্থী অপহরণকারীর হাতে কামড় দিয়ে চলন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে লাফিয়ে পড়ে রক্ষা পায়।
দৈনিক আমার দেশ জানায়, সর্বশেষ সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে পৌরশহরের দৌলতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে। বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জেরিন আক্তার (১১) টিফিনের সময় বিদ্যালয়ের গেটের বাইরে গেলে কয়েকজন যুবক তাকে রাস্তায় পড়ে থাকা একটি রুমাল তুলে দিতে বলে। পরিবারের দাবি, রুমালটি তুলতেই সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে অপহরণকারীরা তাকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়।
বিদ্যালয় শেষে জেরিন বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোহনগঞ্জ রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা আন্তঃনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবারের বগি থেকে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। এ সময় তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠান।
এর আগের দিন রোববার (১২ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে পৌরশহরের টেংগাপাড়া এলাকার মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সোমাইয়া আক্তারকে (৯) অপহরণের চেষ্টা করা হয়।
ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসে থামে। সেখান থেকে নেমে এক যুবক সোমাইয়ার হাত ধরে জোর করে গাড়িতে তুলে মুখ চেপে ধরে। পরে সিএনজিটি দ্রুত নেত্রকোনার দিকে রওনা দেয়। পথিমধ্যে উপজেলার বিরামপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে সোমাইয়া অপহরণকারীর হাতে কামড় দিয়ে চলন্ত সিএনজি থেকে লাফিয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন।
পরপর দুই শিক্ষার্থী অপহরণের ঘটনায় মোহনগঞ্জের অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত অপহরণচক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
অভিভাবক শামীমা আক্তার শিশির সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এমনিতেই আতঙ্কে থাকি। এই ঘটনার পর সেই আতঙ্ক আরও বেড়েছে। শহরের বিভিন্ন সড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে দ্রুত অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার করা হোক।’
মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উম্মে হাবিবা আসমা বলেন, ‘ঘটনার পর শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের একা বিদ্যালয়ের বাইরে না যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে অভিভাবক বা কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে যেতে বলা হয়েছে।’
দৌলতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘জেরিনের ঘটনায় শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সে বর্তমানে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করা উচিত।’
তথ্যসূত্র:
১। মোহনগঞ্জে পরপর দুই শিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টা, আতঙ্কে অভিভাবকরা
– https://tinyurl.com/2n6k4wfs


