মহারাষ্ট্রে ৩ মুসলিম স্কুলছাত্রকে খুঁটিতে বেঁধে হিন্দুত্ববাদীদের নির্মম নিপীড়ন, ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই পুলিশের অবস্থান

0
0

১০ জুলাই ভারতে মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলায় ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী ৩ মুসলিম স্কুলছাত্রকে খুঁটিতে বেঁধে নির্মমভাবে নিপীড়ন করেছে একদল উগ্র হিন্দুত্ববাদী। উগ্রপন্থীরা ভুক্তভোগী মুসলিম বালকদের বেল্ট, বৈদ্যুতিক তার ও পাইপ দিয়ে মারধর করেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

নিপীড়নের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে মুসলিম বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়।

ঘটনার দিন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান বালকদের পিতামাতা। নিপীড়ন বন্ধ করতে তারা হস্তক্ষেপ করলে হামলাকারীরা তাদেরকেও গালিগালাজ ও হুমকি-ধমকি দিতে আরম্ভ করে।

পরবর্তীতে পিতামাতা থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাত থেকে কোনভাবে বালকদের উদ্ধার করে। এই সময় বালকদের পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে, তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

কিন্তু বালকদের উদ্ধারের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। পুলিশ উক্ত নিপীড়নের ঘটনায় প্রত্যক্ষ সাক্ষী হলেও তারা প্রাথমিকভাবে হিন্দুত্ববাদী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর দায়ের করেনি।

বরং ঐদিন রাতে শচীন রাউতরও নামে প্রধান অভিযুক্ত ভুক্তভোগী মুসলিম বালকদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করে। ফলে স্থানীয় মুসলিম ও সচেতন শ্রেণির নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম নেয়।

ঘটনার ১০ ঘণ্টারও অধিক সময় পার হলে হিন্দুত্ববাদী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা লিপিবদ্ধ করে পুলিশ। এই সময়ের মধ্যে প্রধান ২ আসামী শচীন রাউতরও এবং নীতিন শিন্ডে পালিয়ে যায়।

এছাড়া ৬ অভিযুক্তকে প্রথমে পুলিশ আটক করেছিল, কিন্তু আটকের মাত্র ২ দিন পর এই হিন্দুত্ববাদীদেরও জামিন দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, হিন্দুত্ববাদী দুর্বৃত্তরা বালকদের মুসলিম পরিচয়কে টার্গেট বানিয়ে অত্যাচার করেছে। অথচ বালকদের মুসলিম পরিচয় প্রকাশের উপর বেশি জোর না দিতে ভুক্তভোগী পিতামাতাদের নির্দেশ দেয় পুলিশ।

ঘটনাটি ভারতে ক্রমবর্ধমান মুসলিম শিশু নিপীড়ন ও হিন্দুত্ববাদী পুলিশের মুসলিম বিরোধী অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।


তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/49nswfu4

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধশরিয়তের বিধান থেকে একচুলও সরে আসবে না ইমারাতে ইসলামিয়া: মৌলভী মোহাম্মদ খালিদ হানাফি হাফিযাহুল্লাহ