
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার এক বৃদ্ধ মুসলিম ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক হওয়ার পর পরিবারের নিকট তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ভুক্তভোগী জলিল আখতার (৬৬) বর্তমানে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে তাদেরকে কোনও তথ্য দিচ্ছে না পুলিশ।
করণদিঘির বালিয়ামোরা এলাকার বাসিন্দা জলিল আখতারকে গত ১৯ জুন নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। ভারতীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও তাকে হয়রানিমূলকভাবে বিভিন্ন আটককেন্দ্রে স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবার।
পরিবারের বক্তব্য, আটকের পরদিন স্বজনেরা থানায় যায়। পুলিশের চাহিদা অনুযায়ী জলিল আখতারের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, রেশন কার্ড এবং প্যান কার্ডসহ বিভিন্ন নথি থানায় দাখিল করা হয়। কিন্তু ওইদিন ভুক্তভোগী জলিলের সাথে স্বজনদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া মামলাটি সম্পর্কে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
বাংলাদেশে পুশইনের আশঙ্কা
পরিবারের দাবি, জলিল আখতারকে চাকুলিয়ার নিজামপুর হোল্ডিং সেন্টার ও পরে শিলিগুড়ির ফুলবাড়ি ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয়েছে। এমনকি তাকে সীমান্তে বাংলাদেশ বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (BSF) হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানায়। এরপর তাকে পুনরায় নিজামপুর হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে আসা হয়।
নিজামপুর সেন্টার স্থানান্তরের কয়েকদিন পর থেকে নিখোঁজ
জলিল আখতারের কন্যা কুনসুম খাতুন জানান, ৫ দিন আগে তিনি নিজামপুর হোল্ডিং সেন্টারে পিতার সাথে দেখা করেছেন। কিন্তু ঠিক তার পরদিন থেকে তিনি পিতার আর খোঁজ পাচ্ছেন না।
তিনি আরও জানান, তার পিতা বৃদ্ধ এবং ডায়াবেটিসে ভুগছেন। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকায় তার শারীরিক ও মানসিক কষ্ট বাড়ছে। স্থানীয়দের থেকে পাওয়া তথ্য থেকে তিনি জানান, তার পিতাকে একটি গাড়িতে করে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আর কোনও তথ্য দিচ্ছে না পুলিশ।
জলিল আখতারের ভাই মতিউর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিশ্চয়তায় পরিবারের সদস্যরা চরম মানসিক কষ্টের মধ্যে রয়েছেন।
পরিবারের বক্তব্য, জলিল আখতার ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন, এখানেই বেড়ে উঠেছেন। তাদের প্রশ্ন, জলিলের ভারতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত একাধিক নথি রয়েছে, তাসত্ত্বেও কেন তাকে এতদিন আটক রাখা হয়েছে?
জলিল আখতারকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তার মুক্তির বিষয়ে আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/cf8pu92s


