
পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা সংকট এবং প্রাদেশিক অসন্তোষ ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। কাশ্মীর, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় ধারাবাহিক সহিংসতা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশটি এখন বহুমাত্রিক শাসন সংকটের মুখোমুখি। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের বলপ্রয়োগনির্ভর নীতি সমস্যার সমাধান তো করেইনি, বরং রাজনৈতিক বিভাজন ও নিরাপত্তা অস্থিরতাকে আরও গভীর করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কাশ্মীরে রাজনৈতিক সংলাপের অভাব জনবিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের জন্ম দিয়েছে। বেসামরিক হতাহতের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি এবং সরকারের দমনমূলক পদক্ষেপ জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থাহীনতা আরও বাড়িয়েছে। একই ধরনের নীতি বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়াতেও অনুসরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগের জবাবে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে ২০২৩ সালের শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক সামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান পরিচালিত হলেও সহিংসতা কমার পরিবর্তে আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভীও সম্প্রতি স্বীকার করেছে যে, বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা কার্যকরভাবে দেশের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারছে না। সে প্রশাসনিক সংস্কার এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট ও সশস্ত্র সহিংসতা পরস্পরের সঙ্গে জড়িত এবং শুধু সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এসব সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
তাদের মতে, কাশ্মীর, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ার পরিস্থিতি একই ধরনের শাসনব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন, জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়। বলপ্রয়োগনির্ভর নীতি অব্যাহত থাকলে দেশটি আরও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি হতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।
তথ্যসূত্র
1. The Multilateral Governance Crises in Pakistan
– https://tinyurl.com/mr367d4w


