দেশজুড়ে হত্যা-ধর্ষণ-ছিনতাইমূলক অপরাধ লাগামহীন, বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতাকে দায়ী ভাবছেন বিশ্লেষকগণ

0
4

দেশজুড়ে হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পুলিশের অপরাধ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে এক হাজার ৭৭৫ হত্যাকাণ্ড এবং ১০ হাজারের বেশি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় প্রায় প্রত্যেক মাসেই অপরাধের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এর সঙ্গে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ধারাবাহিক ঘটনায় জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংবাদ মাধ্যমের বরাতে জানা যায়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগে জানুয়ারিতে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল এক হাজার ২৮১টি। জুন মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় দুই হাজার ১৯৪টিতে। একইভাবে জানুয়ারিতে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ছিল ২৮৭টি, যা জুনে বেড়ে ৩২৩টিতে পৌঁছায়। ফেব্রুয়ারিতে অপরাধের সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও পরের মাসগুলোয় প্রায় সব ধরনের অপরাধই ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। দিনদুপুরে সড়ক, গণপরিবহন কিংবা বাড়ি ফেরার পথে হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে হত্যা করা হয় ২৮৭ জনকে। এরপর ফেব্রুয়ারিতে ২৫০, মার্চে ৩১৭, এপ্রিলে ২৮৮, মে মাসে ৩১০ এবং জুনে সর্বোচ্চ ৩২৩ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

কেবল খুন নয়, অন্যান্য অপরাধের গ্রাফও ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানুয়ারি মাসে মোট ১৪ হাজার ৫৮টি মামলা রেকর্ড হয়, যার মধ্যে ৫২টি ডাকাতি, ১৬৩টি দস্যুতা এবং এক হাজার ২৮১টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা। ফেব্রুয়ারিতে মামলার সংখ্যা ১১ হাজার ৭৭৫টি, যার মধ্যে দস্যুতা ১৩৪ এবং মাদক-সংক্রান্ত মামলা তিন হাজার ৩৫৯টি। মার্চে অপরাধের সংখ্যা এক লাফে বেড়ে হয় ১৬ হাজার ১৫৭টি, যেখানে মাদক-সংক্রান্ত মামলাই ছিল পাঁচ হাজার ৬২টি। এপ্রিলে মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭ হাজার ১৮০টি, যার মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন ছিল দুই হাজার ১১টি। মে মাসে মোট ১৮ হাজার ১৪৯ মামলার মধ্যে মাদক-সংক্রান্ত মামলা ছিল সাত হাজার ৯২টি। আর জুনে অপরাধের সব রেকর্ড ভেঙে ১৮ হাজার ৭৪৯টি মামলা দায়ের হয়, যার মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল দুই হাজার ১৯৪টি এবং মাদক মামলা ছিল ছয় হাজার ৫৮৫টি।

আইনশৃঙ্খলার এমন চরম সংকটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত নারী ও শিশুরা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী বছরের প্রথম ছয় মাসে ১০ হাজারের বেশি নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

সম্প্রতি শিশু রামিসাকে ধর্ষণের মর্মান্তিক ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হলেও এখনো পর্যন্ত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় জনমনে হতাশা ও উদ্বেগ বাড়ছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, বর্তমান বিচারব্যবস্থার কাঠামোর মধ্যে অপরাধীদের দ্রুত ও কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব? একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, বিদ্যমান শাসন ও বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে হত্যা, ধর্ষণ, ছিনতাইসহ ভয়াবহ অপরাধ কতটা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে? নাকি বিচারে দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাবে, আর দেশের মানুষকে অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই বসবাস করতে হবে!


তথ্যসূত্র:
১। অপরাধের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী, জনমনে বাড়ছে আতঙ্ক
– https://tinyurl.com/m5kkakz3

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধদক্ষিণ লেবাননে আইইডি বিস্ফোরণে দুই দখলদার ইসরায়েলি সেনা নিহত, আহত ৭
পরবর্তী নিবন্ধপাকিস্তানের ৩টি অঞ্চলে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ৬ অভিযান