বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়নে পাঁচ বছরে ইমারাতে ইসলামিয়ার যুগান্তকারী অগ্রগতি

0
6

দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী ও দৃঢ় করতে গত পাঁচ বছরে বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান সরকার। কৃষি সম্প্রসারণ, পানি ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদারের লক্ষ্যে নেওয়া এসব প্রকল্প দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করছে।

ইমারাতে ইসলামিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমীর খান মুত্তাকি হাফিযাহুল্লাহ দেশের বৃহৎ অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলোর অগ্রগতিকে সরকারের অর্থনৈতিক নীতির গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক খাত অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। দেশের ইতিহাসে শিল্পকারখানা ও বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়নে বর্তমান সময়ের মতো এত ব্যাপক অগ্রগতি আগে কখনো দেখা যায়নি।

পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি সম্প্রসারণে কুশ তেপা খাল প্রকল্প ইমারাতে ইসলামিয়ার অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে এগিয়ে চলছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পটি এখন নির্মাণের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং শিগগিরই তা কার্যকর হওয়ার পথে।

বালখ, জাওজান ও ফারিয়াব প্রদেশের মধ্য দিয়ে নির্মাণাধীন কুশ তেপা খালটি আমু নদীর পানি কৃষিজমিতে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে দেশের কৃষি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রায় ২৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালের পানি পরিবহন সক্ষমতা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬৫ ঘনমিটার। প্রকল্পটির তিনটি ধাপের কাজ সম্পন্ন হলে ৩০ লাখ জেরিব (প্রায় ৬ লাখ হেক্টর) জমি সেচের আওতায় আসবে।

কুশ তেপা খাল শুধু একটি পানি স্থানান্তর প্রকল্প নয়; বরং উত্তর আফগানিস্তানের কৃষি উন্নয়নে এটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করতে পারে। প্রকল্পটি চালু হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জ্বালানি খাতের অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধন করেছে ইমারাতে ইসলামিয়া। ধারাবাহিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে তুর্কমেনিস্তান থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় গ্যাস পরিবহনের লক্ষ্যে গৃহীত টাপি প্রকল্পে আফগানিস্তানের অংশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হেরাত নগরী পর্যন্ত নির্ধারিত পাইপলাইন রুটের একটি বড় অংশে প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই অগ্রগতি দেশটির শিল্পখাত, বিদ্যুৎ খাত এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে প্রস্তাবিত টাপি গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পের বার্ষিক পরিবহন সক্ষমতা ৩৩ বিলিয়ন ঘনমিটার। প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে গ্যাস পরিবহনের ট্রানজিট ফি হিসেবে আফগানিস্তান প্রতি বছর প্রায় ৪০ কোটি মার্কিন ডলার আয় করবে, যা দেশটির জাতীয় রাজস্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। ৩০ বছর মেয়াদি গ্যাস সরবরাহ চুক্তির আওতায় প্রকল্পটি শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একই সঙ্গে মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বিদ্যুৎ সহযোগিতা জোরদারে কাসা-১০০০ প্রকল্পের কাজও উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে এই বিদ্যুৎ প্রকল্প। বহুদেশীয় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি বিনিময় ও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কয়েক বছর স্থগিত থাকার পর আফগানিস্তানে প্রকল্পটির কার্যক্রম পুনরায় গতি পেয়েছে এবং এর কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের বসন্তের মধ্যে সম্পন্ন হবে এবং একই বছরের গ্রীষ্মে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে।

কাসা-১০০০ প্রকল্পের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ দক্ষিণ এশিয়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান ও পাকিস্তানকে যুক্ত করা এ প্রকল্পের সঞ্চালন সক্ষমতা ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে আফগানিস্তানের অংশ প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট। প্রায় ১ হাজার ৩৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ সঞ্চালন লাইন নির্মাণের এ প্রকল্প আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

আঞ্চলিক যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নেও আফগানিস্তানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সংযোগস্থলে পরিণত করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। আফগান ট্রান্স প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ২০২৫ সালে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে আফগানিস্তানের মধ্য দিয়ে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানকে যুক্ত করে একটি আঞ্চলিক রেল ও পণ্য পরিবহন করিডোর প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ইমারতে ইসলামিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম আঞ্চলিক মেগাপ্রকল্প, যার উদ্দেশ্য মধ্য এশিয়াকে দক্ষিণ এশিয়ার সাথে রেলপথের মাধ্যমে সংযুক্ত করা।

গত পাঁচ বছরে ইমারাতে ইসলামিয়ার অধীনে বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পগুলো আফগানিস্তানের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন গতি সঞ্চার করেছে। কুশ তেপা খাল কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায়, টাপি জ্বালানি খাতে এবং কাসা-১০০০ বিদ্যুৎ সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক রেল ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগ আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক সক্ষমতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর পথ তৈরি করছে।

এছাড়াও আভ্যন্তরীণ অর্থনীতি, প্রশাসনিক কাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দেশকে সুসংহত করতে প্রতিনিয়ত আরও অসংখ্য কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন তালেবান নেতৃত্বাধীন এবং ইমারাতে ইসলামিয়ার সৎ, দক্ষ ও উলামাদের সমন্বয়ে গঠিত প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ। এর ফলে, বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক মন্দা এবং যুদ্ধ-সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার মত অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করা সত্ত্বেও, ইমারাতে ইসলামিয়া যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ও বহু জাতি-ভাষার আফগান জনপদকে ক্রমান্বয়ে আখিরাতমুখী করার পাশাপাশি দুনিয়াবি উন্নয়নের চরম শিখরে দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।


তথ্যসূত্র

1. Major Infrastructure Projects Advance in Afghanistan Over Past Five Years
– https://tinyurl.com/5yu48x63

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধফসলি জমি বিনষ্টের আশঙ্কায় নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিকে ‘তৌহিদি জনতা’ তকমা লাগিয়ে মিডিয়ায় অপপ্রচার
পরবর্তী নিবন্ধ২০২৫ সালে কর্মস্থলে নিজ সহকর্মীদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে ২০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা