এক বছরে বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়নে ইমারাতে ইসলামিয়ার যুগান্তকারী অগ্রগতি, ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান

0
2

দেশজুড়ে অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে ইমারাতে ইসলামিয়া। গত এক বছরে কৃষি সম্প্রসারণ, পানি ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদারের লক্ষ্যে নেওয়া এসব প্রকল্প দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করছে। এসব উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত ‘গণমাধ্যমের আয়নায় সরকার’ শীর্ষক সপ্তম অনুষ্ঠানে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের এই চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত এক বছরে ইমারাতে ইসলামিয়ার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পানি ব্যবস্থাপনা, সড়ক নির্মাণ, রেল যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ বলেন, বাঁধ নির্মাণ ও বড় ধরনের পানি প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরিতে বর্তমানে কাজ চলছে।

কুনার নদীতে বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই প্রকল্প কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে না। এটি আফগানিস্তানের স্বার্থে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এর কারণে কোনো পক্ষের ক্ষতি হবে না। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে জলবিদ্যুৎ, কয়লা ও সৌরশক্তি—এই তিনটি খাতে আফগানিস্তানের অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করা প্রয়োজন এবং তিন ক্ষেত্রেই কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি কুনার নদীতে বাঁধ নির্মাণের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও কাবুল পৌরসভা এ সময় মোট ৫১৪ কিলোমিটার সড়ক পাকা ও কংক্রিটের কাজ সম্পন্ন করেছে। একই সময়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সড়ক, সেতু, রেলপথ ও মসজিদ নির্মাণসহ মোট ২৬২টি প্রকল্পের পরিকল্পনা করেছে। এসব প্রকল্পের কয়েকটি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও এগিয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। পাঁচটি রেল প্রকল্পের জরিপ ও নকশা প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গত এক বছরে রেলপথ ব্যবহার করে ৭০ লাখ ৬২ হাজার মেট্রিক টনের বেশি পণ্য পরিবহন করা হয়েছে।

আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে কয়েকটি বড় প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ বলেন, ট্রান্স-আফগান প্রকল্প অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক প্রকল্প এবং এর নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ওয়াখান প্রকল্প বাস্তবায়নকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং এর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইমারাতে ইসলামিয়া কাজ করছে।

বিদ্যুৎ খাতে ইমারাতে ইসলামিয়ার উন্নয়ন পরিকল্পনাও বিস্তৃত হচ্ছে। পানি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা দা আফগানিস্তান ব্রেশনা শেরকাত (DABS) বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ১২টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এ খাতে ৭ হাজার ৪০০ কোটি আফগানির বেশি মূল্যের চুক্তি হয়েছে। পাশাপাশি ৪০টি প্রকল্পের কাজও সম্পন্ন হয়েছে।

দেশের সাধারণ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন অগ্রগতি হয়েছে। ১৪৪৭ হিজরি চন্দ্রবছরে দা আফগানিস্তান ব্রেশনা শেরকাত নতুন ৭০ হাজার ৬৫৩ জন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সেবা দিয়েছে। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৬১ হাজার ৬০০ জন, বাণিজ্যিক গ্রাহক ৭ হাজার ২৩৩ জন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ১ হাজার ১৭৩টি, সরকারি প্রতিষ্ঠান ৫৪২টি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ১০৫টি।

নগর উন্নয়ন ও আবাসন খাতেও নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। এ সময় ৯৪টি নগর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও অনুমোদন করা হয়েছে। প্রত্যাবর্তনকারী নাগরিকদের জন্য ৩৩টি আবাসিক এলাকা পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রদেশে ৪৭ হাজারটি জমির প্লট বিতরণ করা হয়েছে।

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ বলেন, পানি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়, পল্লী পুনর্বাসন ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, নগর উন্নয়ন ও আবাসন মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের ফলে দেশের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

পানি ব্যবস্থাপনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সড়ক ও রেল যোগাযোগ থেকে নগর উন্নয়ন—বিভিন্ন খাতে চলমান এসব প্রকল্প আফগানিস্তানের দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত উন্নয়নের একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগের বড় প্রকল্পগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংযোগের সম্ভাবনাকেও সামনে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় এসব উদ্যোগ দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে অবকাঠামো নির্মাণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে একই ধারায় এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করছে।


তথ্যসূত্র
1. Mujahid: Development, Infrastructure Projects Expanding Across Afghanistan
– https://tinyurl.com/2hv2wp2k

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধভারতের উত্তরাখণ্ডে মাদ্রাসা সিলগালা অভিযান জোরদার, ২০টি প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম বন্ধ