উত্তর প্রদেশে মসজিদ ভাঙার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও মুখ্যমন্ত্রীকে ‘অপরাধী’ বলার অভিযোগে মুসলিম সাংবাদিক আটক

0
2

ভারতে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলা প্রশাসক চত্বরে মসজিদ ভেঙে ফেলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় সাংবাদিক ও আম আদমি পার্টি’র সাবেক মুখপাত্র হুদা জারিওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছে হিন্দুত্ববাদী পুলিশ।

ভাইরাল এক ভিডিওতে মসজিদটি শহীদ করা হয়েছে বলে ওই সাংবাদিক প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ এবং উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে ‘অপরাধী’ বলে মন্তব্য করেছে্ন। পাশাপাশি মসজিদ ভাঙার সাথে সংশ্লিষ্ট দায়ীদের বিরুদ্ধে পুরো মুসলিম সম্প্রদায় অবস্থান নিয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

ফলস্বরূপ হিন্দুত্ববাদী আইনজীবী দুষ্যন্ত সিং এর অভিযোগের ভিত্তিতে সাংবাদিক হুদা জারিওয়ালাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১৫০ বছরের পুরোনো মসজিদ

মসজিদটি সাহারানপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে ৩১৫ বর্গমিটার জায়গার ওপর অবস্থিত। গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় বুলডোজার দিয়ে মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

মসজিদ কমিটি ও স্থানীয়গণ জানান, মসজিদটির বয়স প্রায় ১৫০ বছর। এছাড়া ১৯১১ সাল থেকে মসজিদটির অস্তিত্ব সংক্রান্ত নথি রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

হিন্দুত্ববাদী কর্মীর অভিযোগ থেকে বুলডোজার অভিযান

বজরং দলের সাবেক প্রাদেশিক সমন্বয়কারী বিকাশ ত্যাগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মসজিদটির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয় । তার অভিযোগ ছিল, জায়গাটিতে অবৈধ নির্মাণের পাশাপাশি বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। সমালোচকদের মতে, মসজিদটি নির্মূলের জন্য উদ্দেশ্য-প্রণোদিতভাবেই এসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

গত ১৭ জুলাই সিটি ম্যাজিস্ট্রেট মসজিদটিকে ‘অননুমোদিত স্থাপনা’ ঘোষণা করে। ৩০ দিনের মধ্যে জায়গাটি খালি করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ রুপি জরিমানাও করা হয়।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মসজিদ কমিটি জেলা জজের আদালতে আপিল করে। তবে ৪ সেপ্টেম্বর সেই আবেদন খারিজ করে দেয় হিন্দুত্ববাদী আদালত। পরদিন সকালেই ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করে খুব তড়িঘড়ি করেই মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়।

রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভ

মসজিদ ধ্বংসের ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছে বিএসপি প্রধান মায়াবতী, এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি, কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ এবং ভীম আর্মির প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ।

মসজিদটি দ্রুত ভেঙে ফেলা প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন ওয়াইসি। তিনি বলেছেন, সাহারানপুর কালেক্টরেট কার্যালয় প্রতিষ্ঠারও অনেক আগে থেকে মসজিদটির অস্তিত্ব ছিল।


তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/yc2uhyv8

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধকেনিয়ায় শত্রু সেনাদের একটি বৃহৎ সামরিক ঘাঁটিতে আশ-শাবাবের প্রচণ্ড আক্রমণ: হতাহত অসংখ্য শত্রু সেনা
পরবর্তী নিবন্ধইসরায়েলি সন্ত্রাসী বাহিনী ও দখলদারদের হামলায় পশ্চিম তীরে শহীদ ৪ ফিলিস্তিনি