
আমেরিকান জনসাধারণের উদ্দেশ্যে লেখা তাঁর দ্বিতীয় খোলা চিঠিতে এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। ২৯শে অক্টোবর ২০০৪-এ চিঠিটি প্রকাশিত হয়।
আর্কাইভ থেকে দেখুন:
HQ ভিডিও
https://archive.org/details/why-the-nine-eleven-attack-decision-hq
MQ ভিডিও
https://archive.org/details/why-the-nine-eleven-attack-decision-mq
LQ ভিডিও
https://archive.org/details/why-the-nine-eleven-attack-decision-lq
শাইখ উসামা রহিমাহুল্লাহ কেন নাইন ইলেভেন হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?
আমেরিকান লেখক উইলিয়াম ব্লুম তার বই ‘Rogue State’-এ লিখেছেন—
‘নাইন ইলেভেন-এর মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আমেরিকার জন্য সবচেয়ে জরুরি ছিল অথবা জরুরি মনে করা উচিত ছিল, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাটি হলো এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যে, ‘কেন এমনটা ঘটল?’
শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ. আমেরিকান জনসাধারণের উদ্দেশ্যে লেখা তাঁর দ্বিতীয় খোলা চিঠিতে এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। ২৯শে অক্টোবর ২০০৪-এ চিঠিটি প্রকাশিত হয়। চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন—
‘হে মার্কিনিরা, এই চিঠিতে আমি আরেকটি নাইন ইলেভেন থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করব। তোমাদের সাথে আমাদের যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল নিয়ে কথা বলব। এ সব হামলার নেপথ্য কারণগুলো তোমাদের জানাব। যে সময় এ হামলাগুলোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে সময়ের প্রকৃত অবস্থা তোমাদের সামনে তুলে ধরব। যেন তোমরা চিন্তা করতে পার। আল্লাহ তাআলা জানেন, টুইন টাওয়ার ধ্বংস করার কোনো চিন্তাই আমার মধ্যে ছিল না। কিন্তু যখন জুলুমের মাত্রা ছাড়িয়ে গেল, ফিলিস্তিন ও লেবাননে চোখের সামনে যখন আমাদের ভাইবোনদের ওপর ক্রুসেডার-জায়োনিস্ট জোটের নৃশংসতা দেখলাম, তখন তোমাদের টুইন টাওয়ার ধ্বংসের চিন্তা আমার মাথায় এলো। কিন্তু যে ঘটনাগুলো আমার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে, তা ১৯৮২ সাল ও তার পরে ঘটেছে। আমেরিকা তখন ইসরাইলকে লেবানন ধ্বংসের অনুমতি দিয়েছিল এবং এই ধ্বংসযজ্ঞে মার্কিন নৌবাহিনীর থার্ড ফ্লিট সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিল। তাদের বোমা হামলায় অগণিত মানুষ নিহত হলো, অসংখ্য মানুষ আহত হলো। আতংকিত মানুষগুলো ভিটেমাটিছাড়া হলো।
সেই ভয়াবহ দৃশ্যগুলো এখনো আমার চোখের সামনে ভাসে। ছিন্নভিন্ন রক্তাক্ত দেহ, এখানে সেখানে পড়ে থাকা নারী ও শিশুদের লাশ। ঘরভর্তি মানুষের ওপর তারা বোমা বর্ষণ করেছিল, উঁচু উঁচু ভবনগুলো ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল, বৃষ্টির মতো বোমা পড়ছিল শহরজুড়ে। মনে হচ্ছিল, দুর্বল কোনো শিশুকে হিংস্র কুমির কামড়ে ধরেছে, চিৎকার করা ছাড়া শিশুটির আর কিছুই করার নেই। কিন্তু কুমির কি অস্ত্র ছাড়া সংলাপের ভাষা বুঝবে?
সমগ্র বিশ্ব তখন নির্বিকার ভঙ্গিতে চেয়ে চেয়ে দেখছিল। সেই কঠিন মুহূর্তে আমার মনে যে অবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা বর্ণনা করা সম্ভব না। কিন্তু তখনই আমার মধ্যে জুলুমকে রুখে দেওয়ার এক দুর্দমনীয় চেতনা জাগ্রত হয়, জালেমকে শাস্তি দেওয়ার এক অদম্য ইচ্ছা জন্ম নেয়। লেবাননের উঁচু উঁচু ভবনগুলো যখন ধসে পড়তে দেখেছিলাম, তখনই ঠিক করেছিলাম, জালেমদেরকেও আমি এই একই শাস্তি দেব, আমেরিকার উঁচু উঁচু টাওয়ারগুলো ধ্বংস করে দেব, যাতে ধ্বংসের স্বাদ তারাও কিছুটা অনুভব করে এবং আমাদের নারী ও শিশুদের হত্যা করা থেকে কিছুটা হলেও পিছু হটে।
এমন অসংখ্য নারকীয় নির্যাতন আর বর্বর জুলুমের প্রতিশোধ নিতেই মূলত নাইন ইলেভেন-এর হামলাটি হয়েছে। নিজের বাড়িঘর রক্ষার জন্য কেউ যদি অস্ত্র হাতে তুলে নেয়, তাহলে তাকে কি তিরস্কার করা যায়? আত্মরক্ষা করা ও জালেমকে তার জুলুমের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া কি সন্ত্রাসবাদী কাজ? এটা যদি অপরাধ হয়, তাহলে এই অপরাধ করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’


