
আফগানিস্তানে রেখে যাওয়া মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম এখন আফগান সরকারের সম্পদ এবং তা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের লেনদেন বা সমঝোতায় যাবে না ইমারাতে ইসলামিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এসব সামরিক সরঞ্জাম ফেরত নেওয়ার দাবির জবাবে ইমারাতে ইসলামিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মৌলভী আব্দুল কাহার বলখি এ অবস্থান জানিয়েছেন।
সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মৌলভী আব্দুল কাহার বলখি হাফিযাহুল্লাহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রেখে যাওয়া সামরিক সরঞ্জাম আফগান রাষ্ট্রের সম্পদ এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিয়ে কোনো লেনদেন বা সমঝোতা করা হয় না। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলে সংলাপ ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে তা সমাধানের পথ খোঁজা যেতে পারে।
সাক্ষাৎকারে তাঁকে বলা হয়, এসব সামরিক সরঞ্জাম মার্কিন করদাতাদের অর্থে কেনা হয়েছিল। জবাবে বলখি হাফিযাহুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তানে দীর্ঘ সামরিক আগ্রাসনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে বহু মানুষকে হত্যা করেছে এবং দেশটির বড় একটি অংশ ধ্বংস করেছে। তাই এসব সরঞ্জামের অর্থের কথা বলার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে আফগানিস্তানে তাদের কর্মকাণ্ডের মূল্য পরিশোধ করা উচিত।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের পর বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম আফগানিস্তানে থেকে যায়। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, আফগান সেনাবাহিনী ভেঙে পড়ার সময় প্রায় ৭০০ কোটি ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র আফগানিস্তানে রয়ে যায়। ২০২২ সালের মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানে ৭৮টি বিমান, ৪০,০০০ সামরিক যান এবং ৩ লাখের বেশি অস্ত্র রয়েছে।
ইমারাতে ইসলামিয়ার কাছে এই অস্ত্র এখন আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, আফগানিস্তান ইমারাতে ইসলামিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই অস্ত্র ব্যবহার করবে এবং আফগানিস্তানের স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় যে কোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত তাঁরা।
তথ্যসূত্র
1. عبدالقهار بلخی، سخنگوی وزارت خارجه امارت اسلامی
– https://tinyurl.com/yvvdms83


