
রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে কথিত জঙ্গি কার্যকলাপে জড়িত থাকার সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর মসজিদের ভেতর বৈঠক করার সময় তাদের আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, পুলিশের কাছে তথ্য এসেছিল যে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা রাজধানীর একাধিক এলাকা থেকে এসে এই মসজিদেই একত্র হবে! এ তথ্যের ভিত্তিতেই নাকি অভিযান চালানো হয় এবং তাদের আটক করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে যে, আটক হওয়া ২৩ জন একই সংগঠনের সদস্য কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত হয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। পলিশ আরও জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মূলত তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
আটকের পর প্রাথমিক তদন্তে উগ্রবাদী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। অন্য ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিটিটিসির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আখতার মোর্শেদ তাদের আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। পরে ১২ জনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেয়।
আটক হওয়া যুবকদের একজন পুলিশের গাড়িতে ওঠার সময় গণমাধ্যমকে চিৎকার করে বলেন, ‘আমরা মসজিদে ব্যবসার বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলাম। আজ সমাবেশের আগে আমরা একে অপরকে চিনতাম না। আমার পাশে দাঁড়ানো ব্যক্তিকেও আমি চিনি না। আমরা কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন বা এ ধরনের কোনো প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত নই।’
এদিকে, সন্দেহের ভিত্তিতে আটক করা যুবকদের ‘জঙ্গি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে আটক যুবকদের পরনে পাঞ্জাবি ও মাথায় টুপি থাকার বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে এসব গণমাধ্যমগুলো দেশের মুসলিমদের বহুল প্রচলিত পাঞ্জাবি ও টুপিকে জঙ্গিদের পোশাক হিসেবে চিহ্নিত করার একটি ঘৃণ্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
তথ্যসূত্র:
১। তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে জঙ্গি সন্দেহে ২৩ জন আটক
– https://tinyurl.com/tch3b45a


