
ভারতের তামিলনাড়ুতে জাতপাতের বিদ্বেষ ও বুলিংয়ের শিকার হয়ে একাদশ শ্রেণির এক দলিত শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। অভিযোগ, স্কুলে গরুর গোশত খাওয়ার কথা জানানোর পর থেকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ওপর হেনস্তা অনেক বেড়ে যায়। পরে বুধবার (২১ অক্টোবর) পিলামেডু এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে ১৬ বছর বয়সী ওই স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় শ্রেণিশিক্ষকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার শ্রেণিশিক্ষক পি বিজয়কুমারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্কুলের প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমার ও দুই সহপাঠীকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীর মায়ের অভিযোগ, দুই সহপাঠী নিয়মিত তার ছেলেকে জাতপাত নিয়ে কটূক্তি করত, খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিদ্রূপ করত এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করত। প্রায় দুই মাস আগে শ্রেণিকক্ষে গরুর গোশত খাওয়া নিয়ে আলোচনার পর থেকে হেনস্তা অনেক বেড়ে যায়।
মায়ের অভিযোগ অনুযায়ী, শ্রেণিশিক্ষক বিজয়কুমার তফসিলি জাতিভুক্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় আনার জন্য তাদের শনাক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিল। বৃত্তির সুবিধা নিতে ওই শিক্ষার্থীও নাম লেখায়।
পরে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে গরুর গোশত খায়- এমন শিক্ষার্থীদের দাঁড়াতে বলে। তখন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন দাঁড়ায়। এরপর থেকেই দুই সহপাঠী তাকে জাতপাত ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে হেনস্তা করতে শুরু করে।
শিক্ষার্থীর মা জানান, তার ছেলে শ্রেণিশিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক- দুজনকেই বিষয়টি জানিয়েছিল। কিন্তু কেউই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ছেলের জন্য স্কুলে গিয়ে অভিযোগ জানানোর কথা ভাবলেও তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, এতে তার ছেলেকে আরও একঘরে করা হতে পারে এবং হেনস্তা বাড়তে পারে।
পরিবারের দাবি, সম্প্রতি স্কুলে ফেরার আগে কয়েক দিন সে ক্লাসেও যায়নি। বুধবার সকাল ৮টার দিকে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ওই শিক্ষার্থী। পুলিশের ধারণা, পরে সে বাড়িতে ফিরে আসে।
শিক্ষার্থীর মা গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে। ওই দিন দুপুরের দিকে বাড়িতে ফিরলে তিনি ছেলেকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। তবে ঘটনাস্থলে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি বলে জানায় পুলিশ।
শিক্ষার্থীর বাবা কেরালার একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রে কাজ করেন। তামিল সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, তার ছেলে আইনজীবী হতে চেয়েছিল। ছেলের মৃত্যুর জন্য শিক্ষক ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন তিনি।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা পিলামেডু থানার বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান।
একজন অধিকারকর্মী অভিযোগ করেন, তামিলনাড়ুর গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলোতে শ্রেণিকক্ষে গরুর গোশত খায় এমন শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্যে শনাক্ত করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে দলিত শিক্ষার্থীরা অন্যান্য শিক্ষার্থীদের দ্বারা জাতপাতভিত্তিক হেনস্তার ঝুঁকিতে পড়ছে।
এ ঘটনায় একদিকে জাতপাতভিত্তিক বৈষম্য অপরদিকে গরুর মাংসকে কেন্দ্র হিন্দুত্ববাদী ভারতে বিরাজমান নেতিবাচক মনোভাবের দৃষ্টান্ত আবারও সামনে এসেছে।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/yc4mymsj


