
ভারতে মহারাষ্ট্র রাজ্যের মালেগাঁও পৌর কর্পোরেশন বিদ্যুৎ বিভাগ অফিসে সম্প্রতি আসরের নামাজ আদায়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৫ ফেব্রুয়ারি ৭ মুসলিমের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পৌরসভার এক কর্মচারী। এই কর্মচারীর নাম মহেন্দ্র রঘুনাথ সাওয়ান্ত, সে পৌরসভার গোডাউন রক্ষক হিসেবে কর্মরত।
এফআইআরে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মুসলিম বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা উপস্থাপন করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ৪ থেকে ৫ জন সহযোগীসহ সেলিম ও লোকমান (মালেগাঁও লোক-সংঘর্ষ সমিতির সভাপতি) পৌরসভার বিদ্যুৎ অফিসে রাস্তার লাইট ও রেজিস্টারের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চায়। তারা গোডাউন রক্ষক রঘুনাথ সাওয়ান্তকে এই ব্যাপারে জোরাজুরি করেছে। একপর্যায়ে বিকাল ৫টার দিকে তারা অফিসে জোর করে নামাজ আদায় করে।
তবে মূল সত্য ঘটনা হল, স্থানীয় একটি ওয়ার্ডের মুসলিম বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট সমস্যা মোকাবেলা করছিল। তাই মালেগাঁও লোক-সংঘর্ষ সমিতির সভাপতি লোকমান কামালের নেতৃত্বে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা পৌর কর্পোরেশন বিদ্যুৎ বিভাগে অভিযোগের উদ্দেশ্যে গমন করে।
বাসিন্দারা জানায়, উক্ত দিন বিকাল ৩টায় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে তাদের সাক্ষাতের একটি পূর্বনির্ধারিত সিডিউল ছিল। কিন্তু কর্মকর্তারা তাদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে বাধ্য করেছিল।
এক সময় আসরের নামাজের সময় ঘনিয়ে আসলে বাসিন্দারা বিদ্যুৎ অফিসেই নামাজ আদায় করে নেয়। তাদের আশঙ্কা ছিল, মসজিদে নামাজের জন্য অফিস ত্যাগ করলে কর্মকর্তারাও আজকেও সাক্ষাত বাতিল করতে পারে। কেননা এর আগেও বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ সংক্রান্ত অভিযোগগুলো বারবার উপেক্ষা করা হয়েছিল।
এই প্রসঙ্গে মহারাষ্ট্র রাজ্যের এক হিন্দুত্ববাদী মন্ত্রী নীতেশ রানে সাংবাদিকদের বলেছে, ভারত একটি হিন্দু রাষ্ট্র। এখানে সরকারি অফিসে এভাবে নামাজ পড়তে দেওয়া হয় না। প্রাক্তন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সাংসদ কিরিট সোমাইয়া মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীকে এক বার্তায় জানায়, সরকারি অফিসে প্রকাশ্য নামাজ পড়া অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয়। সে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারীদের সাসপেন্ড ও সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার মত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিল।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/3p25a7pw
2. https://tinyurl.com/mvtjwsbu


