
অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে আসন্ন অমরনাথ যাত্রার অজুহাতে ভারী যুদ্ধের প্রস্তুতিমূলক সামরিক মহড়া শুরু করেছে দখলদার ভারতীয় বাহিনী। বিষয়টি কাশ্মীর অঞ্চলে দখলদার ভারত কর্তৃক চূড়ান্ত ও তীব্র সামরিকীকরণের ইঙ্গিত বহন করে। সেইসাথে এটি স্থানীয়দের মধ্যে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
১ জুলাই কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিসের প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রীনগরের সিনিয়র পুলিশ সুপার ড. জি ভি সন্দীপ চক্রবর্তী নিজে উপস্থিত থেকে পান্থ চক ট্রানজিট ক্যাম্পে সামরিক প্রস্তুতিমূলক একটি বিস্তৃত মহড়া তদারকি করছে। এই কর্মসূচিতে ফিদায়িন-ধাঁচের হামলা, সড়ক দুর্ঘটনা, আইনি বিশৃঙ্খলা মোকাবেলা, গণহারে লোকজন অপসারণ এবং চিকিৎসা সেবা প্রদানসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বারামুল্লার হামরে রেলওয়ে স্টেশনেও আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশ ইউনিটের সমন্বয়ে একই ধরনের মহড়া কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অমরনাথ যাত্রা আরম্ভের পূর্বে ‘যুদ্ধ মহড়া’র এই কার্যক্রমকে মূলত অধিকৃত কাশ্মীরে ভারতের সামরিক আগ্রাসন আরও মজবুত করার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি তীর্থযাত্রার রুটগুলোতে ৪০০ এরও অধিক এআই-সক্ষম সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন, স্নাইপার টিম এবং আরএফআইডি ট্র্যাকিং সিস্টেম মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এত বড় আকারের সামরিকীকরণ এবং ধারাবাহিক মহড়া আয়োজনের প্রয়োজন ছিল না। বরং অধিকৃত ভূখণ্ডে ভীতির পরিবেশ তৈরি করতে ও ভারী সামরিক উপস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগগুলো গ্রহণ করা হয়েছে।
এ পদক্ষেপ নিরাপত্তার অজুহাতে কাশ্মীরিদের চলাচল এবং দৈনন্দিন জীবনকে আরও সীমাবদ্ধ করছে।
তথ্যসূত্র:
https://tinyurl.com/mr47rc4r


