অবশেষে গাইবান্ধার বহুল আলোচিত রাম মূর্তি নির্মাণের মূল হোতা হরিদাস চন্দ্র গ্রেপ্তার

0
31

সারাদেশব্যাপী আলোচিত গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় রাম মূর্তি নির্মাণের মূল হোতা হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাস (৩৬) কে গ্রেপ্তার করেছে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) পুলিশ।

রোববার (১২ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালি মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত হরিদাস চন্দ্র ওরফে তরণী দাস উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোপীনাথ চন্দ্র দাসের ছেলে এবং শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দির ও মন্দির এলাকায় রামমূর্তি নির্মাণের মূল হোতা।

দৈনিক ইত্তেফাক এক প্রতিবেদনে জানায়, ঢাকার উত্তরা (পশ্চিম) থানার একটি মানি লন্ডারিং মামলায় তাকে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এবং তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাবার অভাবের সংসারে ৫ ভাই ও এক বোনের মধ্যে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ছিল ৪র্থ। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া শেষে সে এলাকা ছেড়ে ভারতে চলে যায়। দীর্ঘদিন পর ২০২৪ সালে সে এলাকায় (পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামে) ফিরে আসে। এরপর গ্রামের শ্রী শ্রী কালী মন্দিরের পুরাতন অবকাঠামো পরিবর্তন করে আধুনিকায়নের কাজ করার উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়ে সে গ্রামে একটি বৈঠক করে। ওই বৈঠকে হরিদাসকে সভাপতি এবং বিপিন চন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তিকে সাধারণ সম্পাদক করে মন্দির কমিটি গঠন করা হয়।

এরপর ২০২৫ সালের মে মাসে গ্রামের শ্রী শ্রী কালী মন্দিরের পুরাতন অবকাঠামো পরিবর্তন করে আধুনিকায়নের কাজ শুরু করে তারা। মন্দিরের নাম পরিবর্তন করে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দির নাম করণ করে। সম্প্রতি তারা মন্দির চত্বরে ৮১ ফুট রাম মূর্তি নির্মাণ কাজ শুরু করে। এসব নির্মাণ কাজ ও কাজের অর্থের উৎস নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনায় আসে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস। এরপর রাম মূর্তি অপসারন ও তাকে গ্রেপ্তার এবং এসব কাজে অর্থের অনুসন্ধানের দাবিতে পলাশবাড়ী ও গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২২ সালের ৭ নভেম্বর জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও র‌্যাব যৌথ অভিযানে রাজধানীর বনানী থেকে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের প্রটোকল অফিসারের ভুয়া পরিচয়ে বদলি বানিজ্য, টেন্ডারবাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে র‌্যাব এক সংবাদ সম্মেলনে গনমাধ্যমকে জানায়, হরিদাস ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ে ভারতে যায়। সেখানে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে সেখানকার পঞ্চায়েত প্রধানের কাছ থেকে কৌশলে এতিম সনদ সংগ্রহ করে। পরে স্থানীয় একটি বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে।

এছাড়াও সে বিয়ে করার জন্য ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়েছিল। সে সময় হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস থেকে সে তাওহীদ ইসলাম নাম গ্রহণ করে। এরপর তার শ্বশুর বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকায় কিছু জমি ক্রয় করে। পাশাপাশি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে বদলি বানিজ্য, টেন্ডারবানিজ্য ও প্রতারণা শুরু করে।


তথ্যসূত্র:
১। গাইবান্ধার রাম মূর্তি নির্মাণের মূল উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র অর্থ পাচার মামলায় গ্রেপ্তার
– https://tinyurl.com/3ppkmpen

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধনওগাঁয় নিজেদের ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার
পরবর্তী নিবন্ধশিক্ষাসহ সব খাতে এগিয়ে যাচ্ছে আফগানিস্তান: তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী