
ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুন আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ৪ হাজার ৯৩০ জনে পৌঁছেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫০ হাজার মানুষ। ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার দেশটির আইনপ্রণেতা হোর্হে রদ্রিগেজ সর্বশেষ মৃতের সংখ্যা ঘোষণা করেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ২১ হাজার ১২০ জন বর্তমানে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন। ভূমিকম্পের পর থেকেই দুর্যোগ কবলিত এলাকায় উদ্ধারকাজ চলছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের উদ্ধার তৎপরতা ছিল বেশ ধীরগতির।
ভূমিকম্পে বাস্তুচ্যুত সিনথিয়া পুলিদো আল জাজিরাকে বলেন, ‘ভূমিকম্পের পরপরই সাধারণ মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধারকাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু সরকারের কার্যকর উপস্থিতি অনেক পরে দেখা গেছে। আমরা এখনও সহায়তার অপেক্ষায় আছি।’
দুর্যোগের পর বিভিন্ন দেশ থেকে আসা আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো ইতোমধ্যে ফিরে গেছে। এখন মূলত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলার জন্য এই দুর্যোগ মোকাবিলা আরো কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞা জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। একই সঙ্গে দেশটির পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড পলিসি রিসার্চের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ মার্ক ওয়েইসব্রট বলেন, ভেনেজুয়েলার এমন গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সম্পদ রয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করতে দেশটিকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভেনেজুয়েলার প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার সম্পদ আটকে রাখা হয়েছে, যা আইনগতভাবে দেশটির প্রাপ্য।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনেজুয়েলাকে পুনর্গঠন করতে প্রায় ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন্য।
তথ্যসূত্র
1. Israeli attacks kill at least five Palestinians in Gaza despite ‘ceasefire’
– https://tinyurl.com/4rctjjht


