
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় আয়োজিত হয় হিন্দুদের রথযাত্রা। এতে অংশ নেয় লাখো হিন্দু। এ উপলক্ষে বের হওয়া বিশাল শোভাযাত্রার কারণে রাজধানীসহ সারা দেশেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির ও ইসকনসহ বিভিন্ন মন্দির থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। একইভাবে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর, গোপালগঞ্জ, নড়াইল, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রথযাত্রা পালিত হয়।
এদিকে, বৃহস্পতিবার ঢাকায় হিন্দুত্ববাদীদের উগ্র সংগঠন ইসকনের উদ্যোগে হিন্দু রথযাত্রা পালিত হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্বামীবাগ আশ্রম থেকে জগন্নাথ, বলদেব ও শুভদ্রার রথ নিয়ে শোভাযাত্রা শুরু হয়। পরে জয়কালী মন্দির হয়ে শাপলা চত্বর, পল্টন মোড়, সচিবালয় মেট্রো স্টেশন, জাতীয় প্রেস ক্লাব, হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, শহীদ মিনার ও পলাশীর মোড় হয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।
দেশজুড়ে রথযাত্রার নির্ধারিত রুটে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পল্টন, প্রেস ক্লাব, হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, শহীদ মিনার ও পলাশী এলাকায় যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। অনেক সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। রথযাত্রার কারণে কিছু এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং যানবাহনকে বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা দীর্ঘ সময় রাস্তায় আটকে পড়েন।
এ ছাড়া রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক জনসমাগম, মাইকিং ও বাদ্যযন্ত্রের শব্দে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা ও পথচারীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেকের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হয় এবং নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে সমস্যার সৃষ্টি হয়।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, রাজধানী ঢাকায় ইসকন ৯ দিনব্যাপী শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসবের আয়োজন করেছে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টায় স্বামীবাগ ইসকন মন্দির অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা শেষে আড়াইটার দিকে রথযাত্রার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সভায় সভাপতিত্ব করে ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিতাই স্বামী। এতে আরও উপস্থিত ছিল প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি গোকুল ভি কে, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য দেবাশীষ রায় মধু এবং ইসকন বাংলাদেশের যুগ্ম সম্পাদক গৌরাঙ্গ দাসসহ অনেকে।
তথ্যসূত্র:
১। বর্ণাঢ্য রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল
– https://tinyurl.com/yswx3a2h
২। সারা দেশে রথযাত্রায় লাখো ভক্তের ঢল
– https://tinyurl.com/3m2xfrs3


