অবরুদ্ধ কাশ্মীর, আঘাত হানার সময় কি এখনো হয়নি?

2
802

উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারত দখলীকৃত কাশ্মীরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত ও জটিল হয়ে উঠেছে। রাজ্যটিতে পূর্ব হতেই বিদ্যমান ছিল ৫ লক্ষাধিক উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী সেনা। প্রতি দশজন কাশ্মীরীর বিপরীতে মোতায়েন করা আছে ১ হিন্দুত্ববাদী দখলদার সেনা। এরপর বিগত ১০ দিনের মধ্যে ৪ বারে বৃদ্ধি করা হয়েছে ৮০ হাজার সেনাকে! ভারতীয় সংবাদসংস্থা ‘কলকাতা ২৪x৭’ এর বরাতে জানা যায়,  প্রথমে ১০হাজার, তারপর ২৮হাজার, তারপর আরো ৩৫হাজার এবং সর্বশেষ আজকে পাঠানো হয়েছে আরো ৮হাজার সেনা। অবশ্য অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার হিন্দুত্ববাদী সেনাকে কাশ্মীরে পাঠিয়েছে ভারত।

কাশ্মীরে এত বিপুল পরিমাণ সেনা পূর্বে বিদ্যমান থাকা এবং নতুন করে আরো সেনা পাঠানোর পরেও উগ্র হিন্দুত্ববাদী দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী “অমিত শাহ” ঘোষণা করেছে প্রয়োজনে আরো সেনা পাঠানো হবে কাশ্মীরে।

কাশ্মীরে চালানো হতে পারে ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা- এই আশংকা এখন সবার মনে! রবিবার মধ্যরাত হতেই আতংক ছড়িয়ে পড়ে পুরো কাশ্মীর উপত্মকায়। দলে দলে রাতের অন্ধকারেই সামরিক বাহিনীর বহর ঢুকতে থাকে রাজ্যটিতে। ৫ আগস্ট মধ্যরাত থেকে শ্রীনগরে কারফিউ জারি করা হয়। পরে তা কাশ্মীরেও জারি করা হয়। সকাল হতেই ইন্টারনেট, ভিডিও ভয়েস কল ও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাস্তা-ঘাটে মানুষের চলাচলও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এমতাবস্থায় আতংকিত অনেক জনসাধারণ, পর্যটক ও বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ দ্রুতই রাজ্য থেকে সরে পড়ার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেন। এক সময় ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীরা কাশ্মীরী মুসলিমদের অপমানিত করার জন্য বলতো, তোমরা পাকিস্তান চলে যাও!  আজ সে বিষয়টিই সত্য হতে চলেছে! কাশ্মীরে হিন্দুত্ববাদীদের  সন্ত্রাসী কার্যক্রম থেকে বাঁচতে নদী পার হয়ে পাকিস্তান শাসিত আজাদ জম্মু-কাশ্মীরে পৌঁছাতে চেষ্টা করেছেন অনেক কাশ্মীরী মুসলিম। এসময় তাদের অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা যায়।

স্থানীয় সাংবাদিক ও কাশ্মীর ভিত্তিক নিউজ চ্যানেলগুলো জানায় যে, আচমকা ভারতীয় দখলদার সন্ত্রাসী বাহিনী পুরো জম্মু-কাশ্মীরকে ঘিরে ফেলেছে। শহর ছাড়া গ্রাম্য এলাকাতেও হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় সন্ত্রাসী বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। জায়গায় জায়গায় পুলিশ ও সেনা চৌকি তৈরি করা হয়েছে।

এদিকে আজ ৫ই আগস্ট সকাল ১০:০০টার সময় সংসদে বসার কথা থাকলেও সকাল ৯:০০টাতেই বসে সংসদসভা। সংসদ শুরু হতেই রাজ্যসভায় সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করে উগ্র হিন্দুত্ববাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সঙ্গে সঙ্গেই সংসদে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। কয়েক মিনিটের জন্য মূলতবি রাখা হয় অধিবেশন। পরে ফের অধিবেশন শুরু হলে, বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যেই মালাউনদের রাষ্ট্রপতির নির্দেশনামা পড়ে শোনায় কেন্দ্রীয় উগ্র হিন্দুত্ব সন্ত্রাসবাদের লিডার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

এর মাধ্যমে ভারতীয় কুফরী সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ, যাতে কাশ্মীরকে নামেমাত্র বিশেষ মর্যাদা দেয়ার কথা ছিল, অর্থাৎ (জম্মু ও কাশ্মীরকে নিজেদের সংবিধান ও একটি আলাদা পতাকার স্বাধীনতা দেযা়। এছাড়া পররাষ্ট্র সম্পর্কিত বিষয়াদি, প্রতিরক্ষা এবং যোগাযোগ বাদে অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়।) তা বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রায় ৭০ বছর যাবত নামে মাত্র স্বায়ত্ত্বশাসন ভোগ করতো কাশ্মীরীরা। এখন সেটাকেও শেষ করে দিয়ে সম্পূর্ণভাবে ভারতের হিন্দু মুশরিকদের আয়ত্ত্বাধীনে থাকবে জম্মু-কাশ্মীর! তবে, জেনে রাখার বিষয় হলো- ভারত কিন্তু কাশ্মীরের জনগণ চায় না, তারা চায় কেবলই কাশ্মীর নামক ঐ ভূখণ্ডটি!

৩৭০ ধারা বিলুপ্ত করার পাশাপাশি কাশ্মীরকে দু’টুকরো করে দেওয়া হয়, কাশ্মীরের বড় অংশটাকেই আলাদা করে দিয়ে ঘোষণা করা হয় “লাদাখ” নামক নতুন এক রাজ্যের । ছোট অংশটিকেই রাখা হয় জম্মু-কাশ্মীরের অধীনে!

দুটি রাজ্যই আলাদাভাবে ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসাবে থাকবে। যার একটি হচ্ছে জম্মু-কাশ্মীর এবং অপরটি হচ্ছে লাদাখ। দু’টি জায়গাতেই নিয়োগ করা হবে দু’জন লেফটেন্যান্ট গভর্নর ।

৩৭০ ধারা বাতিল করার পর থেকেই আনন্দে মেতে উঠে পুরো উগ্র হিন্দুত্ববাদী সমাজ, অনেকেই বলতে শুরু করেছে- কাশ্মীর পেয়েছি, পাকিস্তান পাবো, পাবো বাংলাদেশও। এবার করবো রাম মন্দির, তাড়াবো মুসলিম, প্রতিষ্ঠা করবো রাম রাজত্ব। মোদি সরকারের মাধ্যমেই পূর্ণ হবে আমাদের স্বপ্নের অখণ্ড হিন্দুত্ববাদী ভারত।

পুরো ভারতবর্ষের মুশরিক উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীরা যখন রাম রাজত্ব আর অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠার জন্য উন্মাদ হয়ে উঠেছে, প্রস্তুতি নিচ্ছে রাম রাজত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য, প্রতিটি মন্দিরকে যখন তারা নিজেদের জন্য এক একটা প্রশিক্ষণ শিবির হিসাবে তৈরী করছে! এমন অবস্থায় ভারতবর্ষে আমাদের মুসলিমরা রয়েছেন নির্লিপ্ত! নেই কোন প্রস্তুতি, নেই কোন পরিকল্পনা!

আমাকে বলুন তো, মুসলিমরা কি প্রস্তুত এই গো-পূজারী মুশরিকদেরকে প্রতিহত করতে ও নিজেদের আত্মরক্ষার জন্যে!? আর, এখন তো কেবলই প্রস্তুত থাকলে চলবে না, আঘাত হানার সময় হয়ে গেছে! দুশমন যে ঘরে ঢুকে পড়েছে! তাই, আর দেরি কেন?! নিজ ঘরে নয়, দুশমনের ঘরেই তাকে আঘাত হানার চিন্তা করতে হবে!

সর্বশেষে,  এই জাতিকে লক্ষ্য করে বলছি- জেগে উঠো হে ঘুমন্ত শার্দূল! ভারতে আঘাত হানো, সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়ার সময় হয়েছে, সময় হয়েছে সীমান্ত ভেঙ্গে ফেলার!  ওহে তিতুমীরের উৎসূরীরা! গোলামীর জিঞ্জির ভেঙ্গে ফেলে রচনা করো নতুন এক ইতিহাস! বজ্র কন্ঠে তাকবির ধ্বনি তুলে শপথ নাও মুক্তির, জেগে উঠো তুমি এ যুগের বিন কাসেম, গজনবী, তিতুমীর হয়ে। তুমিও ত্রাস হয়ে হানো আঘাত দিল্লির ঐ মসনদে। বিইযনিল্লাহ, ‘গাজওয়াতুল হিন্দ বিজয়ের সুসংবাদ গ্রহণ করো হে উম্মাহ! এ সুসংবাদ প্রদান করেছেন তোমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। নিজেকে এখনই জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্ত করে নাও! আঘাত হানো দুশমন মুশরিকদের শিবিরে, ধসিয়ে দাও তাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। মনে রাখবে, মুসলিম কখনো হারে না। হয় শাহাদাত লাভে ধন্য হয়, নয়তো ফিরে আসে বিজয়ী বেশে! উভয়টাতেই সে জয়ী! সুতরাং, বিজয় আসবে অচিরেই, বিইযনিল্লাহ।


লেখক: ত্বহা আলী আদনান।

Facebook Comments

2 মন্তব্যসমূহ

  1. আমাদের কাছে তো কিছুই নেই আমরা কি দিয়ে লড়াই করব?
    মালুরা যখন আমাদের ভাই বোনদের উপর অত্যাচার করে তখন নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে পারি না এখন কি করবো কিছু বুঝতে পারতেছি না

  2. ইদ আমি কীভাবে উদযাপন করি..
    এই ভিডিও নাশিদটি এখন ইউটিউবে আনএভেলেবল। অনুগ্রহ করে সাইটে আপলোড দিন। জাযাকাল্লাহ।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন