হক্কানী আলেম ও সত্যের পথিক মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ একটি নিদর্শন -মুফতি আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আল-মাহদী হাফিজাহুল্লাহ

0
691

আমাদের অনেকের ধারণা, যিনি নিজে ভালো হবেন, তাকে সবাই ভালো বলবে এবং তিনি সবার প্রিয় হবেন। একইভাবে আমরা মুমিন, কাফির, মুরতাদ ফাসিক, ফাজির নির্বিশেষে সকলের কাছে সমাদৃত হওয়াকে অনেক সময় বড় ব্যক্তির বুজুর্গ হওয়ার প্রমাণ বা নিদর্শন হিসেবে পেশ করি। শোনা যায় তিনি এত বড় বুজুর্গ যার কোনো শত্রু নেই। যাকে সবাই সমীহ করে। কিন্তু বস্তুত এটি গোমরাহির নিদর্শন।
.
হক্কানী, বুজুর্গ ও সত্যবাদীর নিদর্শন হল, তাকে পৃথিবীর খারাপ মানুষগুলো খারাপ বলবে এবং বেশি কষ্ট দিবে।
.
একারণেই আমরা দেখি আমাদের প্রিয় রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানে পৃথিবীর সর্বকালে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, অথচ তাঁকেই এই পৃথিবীর বুকে সর্বাধিক কষ্ট দেয়া হয়েছে। খোদ রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

ما أوذي أحد مثل ما أوذيت في الله. كنز العمال، طبع مؤسسة الرسالة، ج:3، ص: 247
“আল্লাহর পথে আমাকে যত কষ্ট দেয়া হয়েছে, দ্বিতীয় কাউকে এত কষ্ট দেয়া হয়নি।” -কানযুল উম্মাল, খ. ৩, পৃ. ২৪৭
.
সাআদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা. থেকে একটি বর্ণনায় এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
أشد الناس بلاء الأنبياء ثم العلماء ثم الأمثل فالأمثل. المستدرك للحاكم، برقم: 5463
“সর্বাধিক কঠিন বালা মসিবতের শিকার আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম। তারপর উলামাযে কেরাম, তারপর যে তাঁদের আদর্শের যত নিকটে সে।” -মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং ৫৪৬৩
.
এ কারনেই সুফিয়ান ছাওরী রহ. (মৃত্যু: ১৬১ হি.) বলেন-
إِذَا أَثْنَى عَلَى الرَّجُلِ جِيْرَانُهُ أَجْمَعُوْنَ، فَهُوَ رَجُلُ سُوءٍ، لأَنَّهُ رُبَّمَا رَآهُم يَعصُوْنَ، فَلاَ يُنْكِرُ، وَيَلقَاهُم بِبِشْرٍ. -سير أعلام النبلاء، ج: 7، ص: 278، طبع مؤسسة الرسالة الثالثة: 1405هـ.
“যখন কারো প্রতিবেশীরা সকলেই তার প্রশংসা করে, বুঝতে হবে লোকটি ভালো নয়। কারণ তার মানে দাঁড়ায় সে তাদেরকে অনেক সময় অন্যায় করতে দেখেও তাতে বাধা দেয়নি, বরং তার সঙ্গে হাসি খুশি আচরণ করেছে।”

তিনি আরো বলেন-
إِذَا رَأَيتَ الرَّجُلَ مُحَبَّباً إِلَى جِيْرَانِهِ، فَاعْلَمْ أَنَّهُ مُدَاهِنٌ. -سير أعلام النبلاء، ج: 7، ص: 278، طبع مؤسسة الرسالة الثالثة: 1405هـ.
“যখন তুমি কাউকে দেখবে সে তার প্রতিবেশীদের সকলে প্রিয় পাত্র, বুঝে নিবে- সে শরীয়তের বিষয়ে অবহেলা ও শিথিলতা প্রদর্শনকারী।” -সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, খ. ৭, পৃ. ২৭৮

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন