মালাউন বিএসএফের হাতে সীমান্তে ৪৩ বাংলাদেশী হত্যা ও ত্বাগুত সরকারের ভারত প্রীতি!

0
380

২০১৯ সালে ভারতীয় মালাউন বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশ সীমান্তে সাধারণ মানুষের উপর গুলি চালানো ও নির্যাতন আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গিয়েছে, ২০১৯ সালে অর্থাৎ এক বছরেই ৪৩ জনেরও অধিক বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় বিএসএফ সন্ত্রাসী বাহিনী। গত বছর যা ছিল ১৪ জনে।

গতকাল আইন ও সালিশ কেন্দ্রের উর্ধতন সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফাইজুল কবির ডেইলি স্টারকে জানান,” ৪৩ বাংলাদেশীর মধ্যে ৩৭ জন গুলিতে নিহত হয়েছেন, বাকী ৬ জন মালাউন বিএসএফ কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।” যা আজকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য মতে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় মমালাউন বিএসএফ এর হাতে সর্বোচ্চ সংখ্যক ৪৬ বাংলাদেশী প্রাণ হারিয়ে ছিলেন। ২০১৬ তে সংখ্যাটি ছিলো ৩১ জন ও ২০১৭ তে ২৪ জনে।

মানবাধিকার সুরক্ষা কর্মীদের মতে, নিরস্ত্র ও সাধারণ লোক হত্যা করা “সুস্থ মস্তিষ্কের কাজ হতে পারেনা”। যা ভারত নিয়মতান্ত্রিকভাবে বাংলাদেশীদের ক্ষেত্রে করে থাকে।

ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী লোকজন দৈনন্দিন প্রয়োজনে নিয়মিত সীমান্ত পারাপার হয়ে থাকেন। এসময় বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী কর্তৃক ভারতীয় কোন নাগরিক হত্যা না হলেও বিপরীত প্রতিনিয়ত ভারতীয় মালাউন সীমান্ত রক্ষীদের নির্যাতন ও গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ দিতে হচ্ছে বাংলাদেশীদের।

ভারতীয় মালাউন বিএসএফের উর্ধতন কর্মকর্তারা সীমান্ত হত্যা শূন্যতে নামিয়ে আনার প্রতিবার অঙ্গীকার করলেও তা যেন লাগাম ছাড়া ঘোড়ার মতো দিন দিন বেড়েই চলেছে। হত্যা, নির্যাতন কী না হচ্ছে সীমান্তে ভারতীয় মালাউন বিএসএফের দ্বারা?
এ বছরের এপ্রিলের শেষের সপ্তাহে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে বিএসএফ এক বাংলাদেশী যুবককে ধরে ১০ আঙ্গুলের নখ উপড়ে ফেলে!
সীমান্তে বর্বরোচিত নির্যাতনটি মিডিয়ায় আলোড়ন তোলে, মানবাধিকার সুরক্ষা অধিদপ্তর বিএসএফের এহেন ঘৃণ্য নির্যাতনের নিন্দা করে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান পত্রিকার সাক্ষাতকারে ঘটনাটিতে ভারতের অযাচিত বাড়াবাড়ি বলে উল্লেখ করলেও বিপরীতে ভারত প্রীতি বাংলাদেশ ত্বাগুত সরকার এই হত্যাকান্ডের কোন সুষ্ঠু বিচারতো দূরের কথা সামন্য প্রতিবাদটুকুও করছে না। বার বার ভারতকে বন্ধু রাষ্ট্র বলে দেশটির সাধারণ জনগণ এই ত্বাগুত সরকার হরহামেশাই মুলা খাওয়াচ্ছে! অন্যদিকে যারাই এর প্রতিবাদ করছে তাদেরকে ঘুম, খুন-হত্যা ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যার প্রমাণ আবরার হত্যা থেকে শুরু করে ঢাবির শিক্ষার্থীদের উপর হামলা, সাংবাদিকদেরকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা, এমন কোন পন্থাই বাকি রাখেনি এই ত্বাগুত সরকার যা তারা ভারতের স্বার্থ রক্ষার্থে করেনি।

ভারতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন,
“…দুর্ভাগ্যের বিষয় সরকার সীমান্তের ঘটনাগুলো নিয়ে কোন বিবৃতি দিচ্ছে না। মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা ভারতের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে নিয়মিত কথা দেন, কিন্তু আমরা সীমান্তে কোন উন্নতি বা তার প্রতিফলন দেখছি না।”

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান আরো বলেন,
“সরকার বলছে ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে ভালো। কিন্তু সীমান্ত হত্যা বেড়েই চলেছে…এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।”

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, এশিয়া ডিভিশনের এক্সুকিউটিভ ডিরেক্টর ব্রাড এডামস ডেইলি স্টারকে জানান,” ভারতীয় সরকারের সীমান্তে দুর্ব্যবহার ও পেশিবল হ্রাসের প্রতিজ্ঞা করা সত্ত্বেও বিএসএফ জওয়ানদের ঠাণ্ডা মাথায় সন্ত্রাসী তাণ্ডব যেন কমছেই না।”

২০০০ সালের পরে ১০০০ এরও বেশি বাংলাদেশী সীমান্তে ভারতীয় মালাউন বিএসেফ এর ঠাণ্ডা মাথার সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন।

২০১১ সালের ৭ই জানুয়ারি ভারতের অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় নিজ বাড়ীতে বাবার সাথে ফেরার পথে ১৫ বছরের ছোট্ট মেয়ে ফেলানী হত্যা বিশ্ব মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় তোলে।

মেয়েটিকে নির্যাতন করে হত্যার পর ভারতীয় মালাউন পশুগুলো মেয়েটিকে সীমান্তের কাটাতারে ঝুলিয়ে রাখে। ঘটনাটির নয় বছর পেরিয়ে গেলেও ভোক্তভোগী পরিবারটি এখনো সুবিচার পায়নি।

সর্বশেষ এটাই স্পষ্ট কথা যে, এই ত্বাগুত সরকার ও তার মন্ত্রীরা আমাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করছেনা, আমাদের জন্য তাদের বিন্দু পরিমাণও সমবেদনা নেই। তারা তো ঐপারের মালাউনদের স্বার্থ রক্ষার্থে ব্যাস্ত। এখন আমাদেরকেই আমাদের ফলাফল বাছাই করে নিতে হবে, হয়তো লাঞ্চনার জিন্দেগি নয়তো সম্মান ও মাথা উচু করে শত্রুর চোখে চোখ রেখে রুখে দাড়াবার জিন্দেগি।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন