
পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে গত ৯ এবং ১১ জুন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ করা হাজার হাজার নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীর ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে পাকিস্তানি সন্ত্রাসী সামরিক বাহিনী। এতে অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরো অন্তত আড়াই শতাধিক মানুষ।
পাকিস্তানী সন্ত্রাসী সামরিক বাহিনীর এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন পাকিস্তান ভিত্তিক প্রতিরোধ বাহিনী ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন পাকিস্তান (আইএমপি) মুখপাত্র মাহমুদুল হাসান হাফিযাহুল্লাহ। গত ২৪ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি মোতাবেক ১০ জুন ২০২৬ ঈসায়ি তারিখে প্রকাশিত উক্ত বিবৃতিতে মাহমুদুল হাসান হাফিযাহুল্লাহ সর্বপ্রথম মহান আল্লাহ তাআলার প্রশংসা এবং সম্মানিত রাসুল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করেন। তারপর পাকিস্তান এবং বিশেষ করে আজাদ কাশ্মীরে বসবাসকারী মুসলিমদের প্রতি সালাম জানিয়ে বলেন,
” আজ আবারও পাকিস্তানের ঘাড়ে চেপে বসা জেনারেলরা এবং তাদের সরকারি প্রশাসন আজাদ কাশ্মীরের মজলুম মুসলমানদের রক্ত ঝরাতে মেতে উঠেছে। এখানকার নিপীড়িত জনতার ন্যায্য দাবির জবাবে তারা বন্দুক আর গুলির ভাষা ব্যবহার করছে। কাশ্মীরে এখন আক্ষরিক অর্থেই আগুন আর রক্তের হোলিখেলা চলছে। গোটা রাজ্যজুড়েই যেন এক অঘোষিত কারফিউর আবহ! খোদ সেনাবাহিনীর ছত্রছায়াতেই আমাদের এই আজাদ কাশ্মীর এখন পরিণত হয়েছে (ভারত অধিকৃত) অবরুদ্ধ কাশ্মীরের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবিতে। সাধারণ মানুষের মনে ঘৃণার বীজ বুনে দিয়ে দেশটাকে আবারও দুই টুকরো করার সব আয়োজন সম্পন্ন করা হচ্ছে।
আমেরিকার দালাল এই জেনারেলদের বোকা বোকা নীতি আর দেশবিরোধী সব সিদ্ধান্তের কারণে আজ পুরো দেশটাই এক চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বেলুচিস্তান আর খাইবার পাখতুনখাওয়ায় আগুন আর রক্তের হোলিখেলা শেষ করে এই জেনারেলরা এখন তাদের বন্দুকের নল ঘুরিয়েছে কাশ্মীরিদের দিকে। আর ওদিকে, এমন একটা পরিস্থিতি দেখে ভারত সরকার যেন খুশিতে আত্মহারা হয়ে উঠেছে!
আমরা—ইসলামের মুজাহিদরা—এমন যেকোনো ধরনের সমাধানকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছি, যা মুসলমানদের মাঝে আরও বেশি বিভেদ আর দূরত্বের জন্ম দেয়।
আজাদ কাশ্মীরের সাহসী অথচ মজলুম মুসলমানদের প্রতি আমাদের একটাই বার্তা—আপনারা কেবলমাত্র ইসলামের বুনিয়াদের ওপর দাঁড়িয়েই সংগ্রাম শুরু করুন। দুনিয়া ও আখিরাতের আসল মুক্তি আর সাফল্য তো কেবল ইসলামি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাঝেই লুকিয়ে আছে। তাই এবার জেগে উঠুন! ইসলামি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে যত বাধাই আসুক না কেন, তা গুঁড়িয়ে দিন। যেসব প্রতিষ্ঠান এই দেশটিকে আমেরিকার দাসত্বের শেকলে বন্দি করে রাখার মূল কারিগর, তাদের প্রত্যেককে ধ্বংস করে দিন এবং নিজেদের এই জিহাদি ভূখণ্ডকে আবারও পবিত্র জিহাদের মূল কেন্দ্র আর সূতিকাগার হিসেবে গড়ে তুলুন। সেই আলোকিত সকাল আসতে আর বেশি দেরি নেই, যেদিন মহান আল্লাহর এই প্রিয় জীবনব্যবস্থা আমাদের এই দেশে তার পূর্ণ জৌলুস নিয়ে জ্বলজ্বল করে উঠবে। “
তথ্যসূত্র
– https://tinyurl.com/yck3nbsy


