আবারও মেয়ে হওয়ার আশঙ্কায় হিন্দু স্ত্রীকে কুপিয়ে-পুড়িয়ে হত্যা

0
210

আবারও কন্যা সন্তানই হতে পারে- এই আশঙ্কায় ২৭ বছরের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করলো হিন্দু স্বামী। শুধু কুপিয়ে ক্ষান্ত হয়নি। স্ত্রীর মরদেহ ছোট ছোট টুকরো করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে সেই ছাই দূরে নিয়ে ফেলে আসেন এই হিন্দু স্বামী।

সম্প্রতি এমন ভয়ংকর ঘটনা ঘটে ভারতের উত্তরপ্রদেশে। খুনের ঘটনাটি ঘটে গত ৪ জানুয়ারি। কিন্তু এটি সামনে আসে গত মঙ্গলবার। নিহত নারী উর্মিলার বড় মেয়ে যখন মামা বাড়িতে অজান্তেই সেদিনের ঘটনার কথা বলে, তখনই সবার টনক নড়ে। তারপরই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত রবীন্দ্র কুমারকে গ্রেপ্তার করেছে। উত্তপ্রদেশের রায়বেরিলির বাইরে থেকে যে ছাই উদ্ধার হয়েছে তা লখনউয়ের ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।

সার্কেল অফিসার বিনীত সিং জানিয়েছেন, ওই নারীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে রবীন্দ্রের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। নিখোঁজ নারীকে ট্রেস করতে পারছিল না তারা। গত ১০ জানুয়ারি, উর্মিলার বোন বিদ্যা দেবী দেহ পুলিশ স্টেশন গিয়ে রবীন্দ্রর নামে খুনের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। তার অভিযোগ, বোনকে খুন করেছে তার স্বামীই।

সার্কেল অফিসার আরও জানান, হত্যার ঘটনার পর উত্তরপ্রদেশের ১১২ নম্বরে ফোন করে রবীন্দ্র জানান, উর্মিলা নিখোঁজ।

জানা গেছে, ২০১১ সালে রবীন্দ্র ও উর্মিলার বিয়ে হয়। তাদের দুটি মেয়ে রয়েছে। একজনের বয়স ৭ ও অন্যজনের ১১ বছর। ফের অন্তঃসত্ত্বা হন উর্মিলা। রবীন্দ্র ও তার পরিবার চাইছিল, এবার একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হোক। কিন্তু পর পর মেয়ে হওয়ায় এবারও আশঙ্কা ছিল যে মেয়ে হবে। এই আশঙ্কাকে বিশ্বাস করে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করে রবীন্দ্র। উর্মিলার মেয়ের মুখে জানা যায় কীভাবে তাদের মাকে খুন করা হয়।

এই হত্যার ঘটনার সঙ্গে শ্বশুর কারাম ছন্দ্র ও দেওর সঞ্জীব ও ব্রিজেসও জড়িত ছিল বলে মেয়ে জানিয়েছে। বাড়ি থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশের ছয় জনের একটি দল।

এদিকে, পুলিশের জেরায় ভেঙে পড়েন রবীন্দ্র। সে সময় তিনি হত্যার ঘটনা স্বীকার করে নিয়ে পুরো ঘটনাটি জানিয়েছেন পুলিশকে। তিনি জানান, রাগের মাথায় স্ত্রীকে সজোরে ধাক্কা মারেন। তারপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। শুধু তাই নয়, গমকলের গ্রাইন্ডারে দেহ পিষে দেওয়া হয়। নৃশংস খুনের পর দেহের টুকরোতে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। এরপর একটি ব্যাগে অস্থি-ছাই নিয়ে বাড়ি থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে গিয়ে ফেলে আসে অভিযুক্ত।

সূত্রঃ আমাদের সময়

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন