কাশ্মীরে সাংবাদিক হেনস্থা বন্ধ করতে মালাউন মোদি সরকারকে নির্দেশ দিলো অ্যামনেস্টি

0
1355
কাশ্মীরে সাংবাদিক হেনস্থা বন্ধ করতে মালাউন মোদি সরকারকে নির্দেশ দিলো অ্যামনেস্টি

বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মিথ্যে অভিযোগে জম্মু ও কাশ্মীরের মালাউন পুলিশ ইউএপিএ আইনের অধীন চিত্র সাংবাদিক মাসরাত জাহারা ও সাংবাদিক পিরজাদা আশিকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার ঘটনাকে গত মঙ্গলবার তীব্র সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়া। ওই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম বন্ধ করতে চাপ দিয়েছে এই সংস্থা।

সাংবাদিকদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা বিষয়ে বলতে গিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কার্যনির্বাহী অধিকর্তা অবিনাশ কুমার বলেছেন, ইউএপিএ ভারতের সন্ত্রাসবাদরোধকারী আইন। কিন্তু যে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা সরকারের নীতির সমালোচনা করছেন তাঁদের দমনপীড়নের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে এই আইনকে। এটা এই আইনের অপব্যবহার। তিনি আরও যোগ করেছেন, কাশ্মীরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্ত চেয়ে যে এফআইআর হয়েছে তা স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারকে লঙ্ঘন করছে।

তাঁর মতে, কোভিড মহামারির এই সংকটকালে ইউএপিএ-র মতো কঠোর আইনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের টানাহেঁচড়া ও ধরপাকড় করে একটা প্রতিশোধ ও ভয়ের বাতাবরণ তৈরি হচ্ছে। তিনি এও বলেন, কাশ্মীরে দীর্ঘকাল ধরে লকডাউন চলছে। ইন্টারনেট স্পিডও নিয়ন্ত্রিত। এ ছাড়া তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই খেয়ালখুশি মতো কাউকে আটক করে রাখা হচ্ছে এবং তাঁরা আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার সুযোগটুকু থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। এভাবে কাশ্মীরের মানবাধিকাহরণ করা হচ্ছে তো বটে, সেইসঙ্গে ভারতসহ গোটা বিশ্বের কাছে সেখানকার সংবাদ এসে পৌঁছতে পারছে না।

কাশ্মীরের সাংবাদিকদের থানায় ডেকে তাঁদের খবরের বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা দিতে বলা হচ্ছে। পীরজাদা আশিককে ৪০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে নির্দিষ্টপুলিশ অফিসারের কাছে উপস্থিত হতে আদেশ দেওয়া হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পীরজাদা আশিক জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের আগস্টের পর আমার সঙ্গে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার এমনটা হল। আমাকে তলব করা হল এবং আমার করা দুটি খবর নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। কোভিড টেস্টিং কিট কাশ্মীর থেকে জম্মুতে পাঠিয়ে দেওয়ার খবর বিষয়ে। আর একটি হল, দক্ষিণ কাশ্মীরে দুই সেনাকে মেরে ফেলে উত্তর কাশ্মীরের বরামুলাতে সমাধি দেওয়ার খবর প্রসঙ্গে। ওই দুই সেনার পরিবার মৃতদেহ দাবি করেও পাননি। এমনটা রিপোর্টের জন্য আমাকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে।

শ্রীনগরের ২৬ বছরের পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রসাংবাদিক মাসরাত জাহারাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশ-বিরোধী পোস্ট করে যুবসমাজকে প্ররোচিত করার দায়ে ইউএপিএ আইনের আওতায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। মাসরাত জাহারার কাজ আন্তর্জাতিকমহলে প্রশংসিত হয়েছে এরআগে। প্রকাশিত হয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট, আল জাজিরা সহ ভারতের প্রথম সারির নানা মিডিয়াতে। সাইবার পুলিশ স্টেশন কাশ্মীর জোন এক প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাসরাত জাহারার পোস্ট জনতাকে উত্তেজিত করতে পারে এবং এতে আইন – শৃঙ্খলা ব্যহত হতে পারে, সেই সঙ্গে ওই পোস্ট দেশদ্রোহমূলক কাজকর্মে উৎসাহ দেয়। এর আগেও সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের হেনস্থা করা হয়েছে।

আসিফ সুলতান নামের আরও এক কাশ্মীরি সাংবাদিককে ২০১৮ সালের ২৭ আগস্ট গ্রেফতার করে জেলে পোরা হয়। এখনও তিনি মুক্তি পাননি। এ ছাড়া অরুণ ফেরেরা, বিনায়ক সেন, ভার্নন গঞ্জালভেজ, সুধীর ধাওয়ালে, মহেশ রাউত, সোমা সেন, সুরেন্দ্র গাডলিং, রোনা উইলসন, সুধা ভারদাবা, ভারভারা রাও, গৌতম বলাখা, অখিল গগৈয়ের মতো বহু মানবাধিকার কর্মীকে এই কঠোর আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুবের কলম সূত্রে জানা যায়, অ্যামনেস্টির অবিনাশ কুমার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, ‘ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে হলে তাকে অবশ্যই যুক্তি ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। ভারত সরকারকে প্রেসের মুখে লাগাম পরানো বন্ধ করতে হবে।’

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন