মুসলিম নারীদের পর্দা পালনে কোন দেশে কত জরিমানা?

0
660
মুসলিম নারীদের পর্দা পালনে কোন দেশে কত জরিমানা?

সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে মুসলিম নারীদের ফরজ বিধান পর্দা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে নারীরা বোরকার সঙ্গে সম্পূর্ণ মুখ ঢাকা পোশাক নিকাব এবং হিজাব প্রকাশ্যে পরিধান করতে পারবেন না।

ইউরোপে মুসলিম নারীদের বাধ্যতামূলক ইবাদতের উপর কাফেরদের নগ্ন আক্রমণ নতুন কিছু নয়। ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষ থেকেই ক্রুসেডার ইউরোপের বিভিন্ন দেশ মুসলিম নারীদের পর্দার বিধানে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ আইন অমান্যকারীর জন্য রয়েছে জেল-জরিমানা।

মানবাধিকার ও নারী-স্বাধীনতার বুলি আউড়ানো কুফফার দেশসমূহে মুসলিমদের জন্য নেই কোন মানবাধিকার বা স্বাধীনতা। অথচ তারাই নারী উন্নয়ন, নারী স্বাধীনতার কথা বলে বলে মুখে ফেনা তুলে।

আসুন, জেনে নেয়া যাক হিজাব পড়ার জরিমানা কোন দেশে কেমন।

ফ্রান্স

ক্রুসেডার গুরু ফ্রান্স ইউরোপের প্রথম দেশ, যেখানে বোরকা পরিধানকে আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়। ফ্রান্সে তীব্র মুসলিম বিদ্বেষই এই আইন কার্যকরে ভূমিকা রাখে। ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ক্রুসেডার ফরাসি এমপিদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে এই আইন পাশ হয়ে যায়। ২০১১ সালের ১১ এপ্রিল এই আইন কার্যকর হয়।

ফ্রান্সে ৫০ লাখেরও বেশি মুসলিম বসবাস করে। বোরকা বা নেকাব পড়লে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে এ আইনে।

সুইজারল্যান্ড

দেশটিতে ২০১০ সালের আইন অনুযায়ী উন্মুক্ত স্থানে মুখ ঢেকে রাখা নিষিদ্ধ। এই নিয়মটি রাস্তাঘাট, দোকানপাট ও প্রশাসনিক অধিদপ্তরগুলোর পাশাপাশি গণপরিবহন ও পৌরসভা ভবনগুলোতে প্রযোজ্য।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, খোদ ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত এই আইনের পক্ষে অনুমোদন দেয়। অনুমোদিত এই আইনটি লঙ্ঘন করলে দেশটির হিসেবে দেড়শ ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়াতে উন্মুক্ত স্থানে নিকাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে ২০১৭ সালের ১ অক্টোবর। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে দেড়শ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা আরোপিত হয়েছে।

তবে অস্ট্রেলিয়ার সাংবিধানিক আদালত ২০২০ সালের শেষের দিকে এমন আরও একটি আইনকে প্রত্যাবর্তন করেছে যেটি পাস হয়েছিল ২০১৯ সালে। এই আইনটিতে নার্সারী ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদেরকে হিজাব পড়তে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

বেলজিয়াম

বেলজিয়ামে ২০১১ সালের একটি আইন পাস করে বলা হয়েছিল যে উন্মুক্ত স্থানে এমন পোশাক পরিধান করা যাবে না, যা ব্যক্তির চেহারাকে আংশিক বা পুরোপুরি ঢেকে রাখে।

এই আইন লংঘন করলে ১৫ থেকে ২০ ইউরো জরিমানা। পাশাপাশি রয়েছে ৭ দিনের জেল।

বুলগেরিয়া

বুলগেরিয়ায় ২০১৬ সালের একটি আইন পাস করে বলা হয়েছিল যে উন্মুক্ত স্থানে এমন পোশাক পরিধান করা যাবে না, যা ব্যক্তির চেহারাকে আংশিক বা পুরোপুরি ঢেকে রাখে। এই আইন লংঘন করলে দুইশ লিভা তথা প্রায় একশত দুই ইউরো পরিমাণ জরিমানা।

ডেনমার্ক

ডেনমার্কেও রয়েছে উন্মুক্ত স্থানে হিজাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা। ২০১৮ সালের আগস্টে করা এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের জন্য রাখা হয়েছে এক হাজার ক্রোনার জরিমানা। যা প্রায় ১৩০ ইউরো পরিমাণ। বারবার আইন লংঘন করলে এটি পৌঁছে যেতে পারে ১০ হাজার ক্রোনার পর্যন্ত।

জার্মানি

অন্যদিকে জার্মানিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য হিজাব নিষিদ্ধ না হলেও রয়েছে কাছাকাছি আইন। সেখানে উন্মুক্ত স্থানে হিজাব পড়তে কোনো বাধা না থাকলেও তদন্তের সময় মুখ খুলতে বাধ্য করা হয় মুসলিম নারীদেরকে।

আনুষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে জার্মানিতে রয়েছে একেক রাজ্যে একেক নিয়ম। কোনো রাজ্যে হিজাবকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে আবার কোনো রাজ্যে বৈধ।

২০১৭ সালে জার্মানির সাংবিধানিক আদালত ওই দেশের নারী শিক্ষকদের উপরে হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞা জাড়ি করেছে। বলা হয়েছে এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করা যাবে।

নেদারল্যান্ড

নেদারল্যান্ডে ২০১৫ সালে আইন করে বোরকা নিষিদ্ধ করা হয়। বিশেষ করে জনসমক্ষে, অর্থাৎ স্কুল, হাসপাতাল ইত্যাদির মতো জায়গায বোরকা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আইনটি কার্যকর হয় ২০১৯ সালের ১ আগস্ট।

এই আইন লঙ্ঘনকারীদের জন্য রয়েছে একসঙ্গে দেড়শ ইউরো জরিমানা।

নরওয়ে

নরওয়েতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে রয়েছে একই রকমের নিয়ম। ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে এই নিয়মটি চালু হয়।

ইতালি

ইতালির দুটি অঞ্চল লোম্বার্ডি এবং ভেনেটোকে হাসপাতাল ও সরকারী প্রতিষ্ঠানে পুরো মুখের পর্দা করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০০৩ সাল থেকে দেশটির বিদ্যালয়গুলোতে নিকাব নিষিদ্ধ রয়েছে।

সূত্র : আরবি সংবাদ মাধ্যম আল হাররা।

মুসলিম নারীদের পর্দা পালনে কোন দেশে কত জরিমানা?

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন