ফিলিস্তিনি যুবক আবু আতওয়ানকে মৃত্যু প্রায় অবস্থায় মুক্তি দিল ইসরায়েল

0
874
ফিলিস্তিনি যুবক আবু আতওয়ানকে মৃত্যু প্রায় অবস্থায় মুক্তি দিল ইসরায়েল

বিনা কারণে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক ফিলিস্তিনি যুবক গাজানফার আবু আতওয়ানকে অবশেষে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে অবৈধ দেশটি।

এর আগে টানা ৬৫ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। অবশেষে দখলদার কর্তৃপক্ষ কারাগার থেকে মুক্তি দেয় আবু আতওয়ানকে।

বিনা কারণে আটক করে বিচার বা তদন্ত করা ছাড়াই বার বার তার বন্দিত্বের মেয়াদ কথিত প্রশাসনিক নির্দেশে নবায়ন করছিল ইসরায়েল। আর এরই প্রতিবাদে মাজলুম এই ফিলিস্তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অনশনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পরলে মুক্তি পান তিনি।

আবু আতওয়ান মুক্তি পেলেও দখলদার সেনাদের হাতে গণহারে বন্দী অসংখ্য ফিলিস্তিনি। যাদের বেশিরভাগই কোনো কারণ ছাড়াই বন্দি আছেন। মুক্তি মিলছেনা এসব মাজলুম ফিলিস্তিনিদের।

বন্দী ফিলিস্তিনিদের ব্যাপারে কোনো রকম সাজানো বা মিথ্যা অভিযোগও দায়ের করতে না পেরে বিনা বিচারে আটক রেখেছে তাদের।

এ ধরনের বন্দিদের মধ্য থেকে গাজানফারসহ ২০ জন বন্দী ফিলিস্তিনি সকল প্রকার খাবার বয়কট করে। তাদের মধ্যে গাজানফার বেশি অসুস্থ হয়ে পরলে মুক্তি পান।

অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলি সেনারা গত বছরের অক্টোবর মাসে ২৮ বছর বয়স্ক নিরপরাধ গাজানফারকে আটক করেছিল।

তার বন্দিত্বের মেয়াদ দুই দফায় ছয় মাস করে মোট এক বছর পর্যন্ত নবায়নের নির্দেশ দিয়েছিল ইসরায়েলি আদালত। আর এরই প্রতিবাদে গত মে মাস থেকে কারাগারে খাবার বর্জন তথা অনশন চালিয়ে আসছিলেন গাজানফার।

গাজানফারের এই ঘটনা ফিলিস্তিনি বন্দিদের ব্যাপারে বিশ্ব সমাজের নীরবতা প্রকাশ পেয়েছে। গাজানফারের আগেও অনেক নিরপরাধ ফিলিস্তিনি বন্দী অনশন করেছিল। কিন্তু বিশ্ব সমাজ এসব বন্দীর মুক্তি দিতে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করেনি।

বর্তমানে দখলদার ইসরায়েলি কারাগারে ৪০ জন নারী ও ২৫০ শিশুসহ প্রায় ৫,৫০০ ফিলিস্তিনি বন্দী রয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৫২০ জন কথিত প্রশাসনিক বন্দি তথা বিনা বিচারে বন্দি।

কারাগারে তাদের মানবেতর অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্দিদের অনেককেই কয়েকবার করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে রেখেছে দখলদার ইসরায়েল। ৫৪০ জন ফিলিস্তিনি বন্দী এক বা একাধিক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শিকার।

১৯৬৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২২৫ ফিলিস্তিনি দখলদার কারাগারে নির্যাতনের শিকার হয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন।

তাদের অনেককেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

সূত্র : আল জাজিরা

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন