হাজীগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ে ধর্ষণের ঘটনা একটি ভিত্তিহীন গুজব!

1
1118
হাজীগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ে ধর্ষণের ঘটনা একটি ভিত্তিহীন গুজব!

কুমিল্লায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা মণ্ডপে কোরআন অবমাননার জেরে সারাদেশে নানান অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে চলেছে। মিডিয়া, প্রশাসন, সরকার সবাই একযোগে হিন্দুদের পক্ষে সাফাই গাইছে এবং নানান ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করছে। রাষ্ট্রযন্ত্র ও মিডিয়ার এমন অবস্থানে উৎসাহিত বোধ করে হিন্দুরা দেশের নানান স্থানে প্রতিবাদ মিছিল করছে; অথচ তাদের কোরআন অবমাননার বিষয়টা সবাই বেমালুম এড়িয়ে যাচ্ছে।

হিন্দুরা আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন একাউন্ট থেকে তাদের উপর হামলার গুজব ছড়াচ্ছে। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় “ধর্মীয় বিদ্বেষের জের ধরে একই পরিবারের মা-মেয়ে ও ১০ বছরের শিশু সহ তিনজন সদস্যকে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং ১০ বছরের শিশুটি আজ মারা গেছে”- এই মর্মে স্পর্শকাতর খবর প্রচার করা হয় ফাইসবুক ও টুইটার থেকে; ভারতের কয়েকটি নিউজ চ্যানেলে ঐ টুইটার একাউন্টের ছবি দিয়ে খবরটি ফালাও করে প্রচার করা হয়। অথচ খবরটি পুরোপুরি মিথ্যা এবং বানোয়াট, যা এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে হাজীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু রুহিদাস বণিক।

এছাড়াও হাজীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রাণকৃষ্ণ সাহা এবং হাজীগঞ্জ উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সত্যব্রত ভদ্র মিঠুন নিশ্চিত করেছে যে বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব। এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হারুনূর রশীদ বলেন, “হাজীগঞ্জে বুধবার রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর বিভিন্ন গুজব রটছে, এটিও গুজব। ধর্ষণের বিষয়ে কোন মামলা বা অভিযোগও নিয়ে কেউ আসেনি।”

ফেইসবুকে এই আইডি থেকে আন্তর্জাতিকভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে- https://www.facebook.com/Azam.bd/posts/10160191407196803. এই আইডির গুজব ছড়ানোর এজেন্ডা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

এমনই আরেকটি টুইটার অ্যাকাউন্ট “বাংলাদেশ হিন্দু ইউনিটি কাউন্সিল” (@UnityCouncilBD)। এই অ্যাকাউন্ট থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকার পুজামণ্ডপে ভাঙচুরের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়। পেজটি নিজেদেরকে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের (bhbcop.org) অফিশিয়াল টুইটার পেজ বলে দাবি করে।

কিন্তু ভারতীয় ফ্যাক্টচেকার “নিউজচেকার” জানিয়েছে, ওই পেজটি আসলে ভুয়া। ওই নামে টুইটারে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের।

অথচ এই ভুয়া পেজটি থেকেই কিনা সংবাদ প্রকাশ করেছে একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম! তাদের মধ্যে রয়েছে স্ক্রল ডটইন, টাইমস নাউ, ইন্ডিয়া টুডে, দ্যপ্রিন্ট, ওপিইন্ডিয়ার মতো বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম।

তবে যারাই গুজব রটিয়ে থাকুক, দেশেহিন্দু নির্যাতনের কাল্পনিক কাহিনী প্রচার করে এদেশে ভারতীয় আগ্রসি বাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার র’এর যে এজেন্ডা, তাঁর সাথে সঙ্গতি রেখেই যে এই কাজ করা হচ্ছে, সেটা বাঙালি মুসলিমরা এখন ভালভাবেই বুঝতে পারে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষ।

তথ্যসূত্র :
——-
১। হাজীগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ে ধর্ষণের ঘটনা গুজব – https://tinyurl.com/49xj4rxx
২। ভুয়া টুইট থেকে বাংলাদেশে পূজামণ্ডপে হামলার সংবাদ করলো ভারতীয় গণমাধ্যম – https://tinyurl.com/np8kt6nn

১টি মন্তব্য

  1. নিশ্চয় মুর্তাদরা কাফেরদের বন্ধু।এই দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মুর্তাদদের বসবাস। বন্ধুদের সাফাই গাওয়া ই এদের কাজ।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন