
তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) ঘোষণা করেছে যে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না, কেননা পাকিস্তান প্রশাসন তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি, বরং তারা চুক্তির শর্তাবলী লঙ্ঘন করেছে।
টিটিপি জানিয়েছে যে, পাকিস্তান সরকার চুক্তির শর্ত অনুযায়ী দল গঠন এবং আলোচনা শুরু করেনি। এক মাসের যুদ্ধবিরতির শর্তে যেসকল বন্দী মুজাহিদ সদস্যদেরও মুক্ত করার কথা ছিল তাদেরকেও মুক্তি দেওয়া হয়নি।
সেই সাথে গাদ্দার সামরিক বাহিনী যুদ্ধবিরতির সময়েও বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। বেশ কয়েকজন মুজাহিদকে শহীদ ও বন্দী করা হয়েছে। তাই পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সাথে আমরা এক মাসের যুদ্ধবিরতি শেষে করার ঘোষণা করছি।
টিটিপির মুখপাত্র মোহাম্মদ খোরাসনী হাফিজাহুল্লাহ্ গত ৯ ডিসেম্বর এক মাসের যুদ্ধবিরতি শেষে দীর্ঘ একটি বিবৃতি জারি করেছিলেন। যেখানে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সর্বসম্মতিক্রমে আমাদের মাঝে এই চুক্তি হয়েছিল যে, এক মাসের যুদ্ধবিরতি বিনিমেয়ে পাকিস্তান সরকার আমাদের বন্দীদের মুক্তি দিবে এবং ইমারতে ইসলামিয়ার মধ্যস্থতায় বন্দী মুক্তিদের আমাদের কাছে হস্তান্তর করবে। সেই সাথে শান্তি আলোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করবে। কিন্তু পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী যুদ্ধবিরতির সময়ের মধ্যে এসবের কিছুই বাস্তবায়ন করেনি।
বিপরীতে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন পাকিস্তান সামরিক বাহিনী গান্দাপুর, লাক্কি মারওয়াত, সোয়াত, বাজোর, দির এবং সোয়াবিতে অভিযান চালিয়ে মুজাহিদদের আত্মীয়দেরকে শহীদ করেছে। এখানেই তারা ক্ষান্ত থাকেনি বরং ৪ জন বন্দীকেও শহীদ এবং একজনকে মুক্তি দেওয়ার পর পূণরায় গ্রেফতার করেছে। এছাড়াও তারা দির এবং বাজোরে নতুন ফ্রন্ট খুলেছে।
বিবৃতিতে তিনি সোয়াত ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান চুক্তির কথা উল্লেখ করে অতীতে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য দেশটির গাদ্দার সেনাবাহিনীকে দায়ী করেন।
বিবৃতি শেষে তিনি বলেন, “এখন পাকিস্তানের জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, কারা দেশে শান্তি ও ইসলাম চায়না, কারা চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন করেনা – টিটিপি নাকি পাকিস্তানি সেনা ও প্রশাসন?”
সর্বশেষ তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়।
এদিকে ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র- মুহতারাম জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিজাহুল্লাহ্ গতকাল একটি সাক্ষাতকারে বলেছেন যে, “পাকিস্তান সরকার ও এর ব্যবস্থাপনা ইসলামিক নয়, এটি এমন একটি ব্যবস্থা যা আফগানিস্তানে গত দুই দশক ধরে ছিল। মুলত পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের কাছে ইসলামের কোনো গুরুত্ব নেই।”



পাকিস্তান জন্ম নিয়েছে গাদ্দারির মাধ্যমে ধোকার মাধ্যমে।তার বাহিনি তো গাদ্দারি করবেই।