ইসলামিক শিক্ষা প্রদান ও কোরআন রাখার কারণে উইঘুর মুসলিম নারীর ১৪ বছরের কারাদণ্ড

মাহমুদ উল্লাহ্‌

0
1189
ইসলামিক শিক্ষা প্রদান ও কোরআন রাখার কারণে উইঘুর মুসলিম নারীর ১৪ বছরের কারাদণ্ড

দখলকৃত পূর্ব তুর্কিস্তানে প্রতিবেশী শিশুদের ইসলামিক শিক্ষা দেওয়া ও কোরআন রাখার কারণে এক উইঘুর মুসলিম নারীকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে বর্বর চীনা কমিউনিস্ট প্রশাসন। শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণে এবং কোরআন শিখা ও শিখানোর কারণেই চার বছর আগে এক মাঝরাতে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় নাস্তিক চীনারা।

পূর্ব তুর্কিস্তানের চাংজি হুই জেলার বাসিন্দা ৫৭ বছর বয়সী বৃদ্ধা মুসলিম নারী হাসিয়াত এহমাত। ২০১৭ সালের মে মাসে চীনা কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেফতার করার পর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার জন্য সাত ও গোপনীয়ভাবে কোরআন রাখায় আরও সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছে সশায় ওই মুসলিম নারীর।

মানাস কাউন্টির বাসিন্দাদের কাছ থেকে পুলিশ যখন ধর্মীয় গ্রন্থ জব্দ করছিল, তখন হাসিয়াত এহমাতের কাছে দুই কপি কোরআন পাওয়া গেছে। পরে মাঝরাতে পুলিশ তার বাসায় ঢুকে তাকে ধরে নিয়ে যায়। এমনকি তাকে পোশাক বদলানো কিংবা প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে নেওয়ারও সুযোগ দেওয়া হয়নি।

এছাড়াও উইঘুর ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের গ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। ২০১৭ সাল থেকে ১৮ লাখ উইঘুর ও তুর্কি সংখ্যালঘুকে পূর্ব তুর্কিস্তানের বিভিন্ন বন্দিশালায় আটক রাখা হয়েছে। কথিত বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের নামে এসব মুসলমানদের ওপর চরম নির্যাতন চালাচ্ছে নিষ্ঠুর চীনারা, দেওয়া হচ্ছে নাস্তিক্যবাদের প্রশিক্ষণ।
জুলুম নির্যাতনে এরা এদের পূর্বপুরুষ চেঙ্গিস হালাকুদেরকেও হার মানিয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।

উল্লেখ্য, দখলকৃত পূর্ব তুর্কিস্তানের উইঘুর মুসলিমদের উপরে নির্যাতনের ঘটনা অনেকদিন ধরেই গোপন করে রেখেছিল বর্বর চীনারা। জিনজিয়ান নাম দেওয়া এই স্থানের মুসলিমদের জন্য একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি। দাঁড়ি রাখা, বােরখা পরা, আরবী ভাষায় চর্চা বন্ধ করা হয়েছে। নিষেধ অমান্য করলেই গ্রেপ্তার করে ডিটেনশন ক্যাম্পে ভরে দিচ্ছে সরকার। বিশ্বেজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠলেও চীনের দাবি, উইঘুর মুসলিমদের চীনের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করাতেই এমন উদ্যোগ।

বিশ্ববাসীকে তাই উইঘুর মুসলিমদের এমন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারে এগিয়ে আসার এবং তাদের পক্ষে জোরদার আওয়াজ উঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামি চিন্তাবীদগণ।

তথ্যসূত্র:
—–
১। ইসলামিক শিক্ষা দেওয়া ও কোরআন রাখায় উইঘুর নারীর ১৪ বছরের কারাদণ্ড
https://tinyurl.com/2p8k5ek4
https://tinyurl.com/2p8rv87z

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন