ইয়েমেনে মার্কিন বিমান হামলায় আল-কায়েদার মিডিয়া প্রধানের শাহাদাত বরণ

ত্বহা আলী আদনান

1
850
ড্রোন হামলায় শহীদ শাইখ আবু আবদুল আজিজ আদনানি (হামাদ বিন হামুদ আত-তামিমি) - ফাইল ছবি

আল-কায়েদা আরব উপদ্বীপ ভিত্তিক ইয়েমেনি শাখা নিশ্চিত করেছে যে, সম্প্রতি ইয়েমেনের মারিব প্রদেশে মার্কিন বিমান হামলায় গ্রুপটির মিডিয়া প্রধানসহ ২জন মুজাহিদ শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মার্চ ইয়েমেনের মারিব রাজ্যের আল-হুসেন অঞ্চলে একটি বাড়ি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এতে ঐ বাড়িতে থাকা দু’জন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

মার্কিন ড্রোন হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের একাংশ। হামলার পূর্বে এই ভবনেই অবস্থান করছিলেন শাইখ হামাদ বিন হামুদ আত-তামিমি

এই হামলার পর আল-কায়েদা আরব উপদ্বীপ শাখার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে উক্ত হামলা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি জারি করা হয়। সামাজিক মিডিয়া নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রচারিত বিবৃতিতে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত উক্ত বিমান হামলায় শাইখ আবু আবদুল আজিজ আদনানি (হামাদ বিন হামুদ আত-তামিমি) শাহাদাত বরণ করেছেন।

জানা যায় যে, শাইখ হামাদ বিন হামুদ রহি. সৌদির আত-তামিম গোত্রের বাসিন্দা, যাকে ইয়েমেনে আল-কায়েদার মিডিয়া প্রধান হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, উক্ত হামলায় মিডিয়া প্রধান আত-তামিমির সাথে একই বাড়িতে অবস্থান নেওয়া আরও একজন মুজাহিদ শাহাদাত বরণ করেছেন।

এই হামলার মাত্র ২দিন আগে অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজ্যটির আবিদা উপত্যকায় একটি ড্রোন হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র, যাতে আল-কায়েদার একজন মুজাহিদ আহত হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান। যদিও আহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায় নি।

উবায়দা উপত্যকায় মার্কিন ড্রোন হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত গাড়ি

একই প্রদেশের উবায়দা উপত্যকায় গত ৩০ জানুয়ারি একটি গাড়ি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলাতেও আল-কায়েদার গুরত্বপূর্ণ একজন বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ও একজন ফিল্ড কমান্ডার সহ ৩ জন মুজাহিদ শাহাদাত বরণ করেন।

ইয়েমেনে, ২০১৫ সাল থেকে যুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে। এসময় সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু ঘোষণার পরেও এই জোট বাহিনী আল-কায়েদাকেই তাদের হামলার প্রধান টার্গেটে পরিণত করে, যার ফলে দীর্ঘ ৮ বছরের চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও ইরান সমর্থিত হুতিদের থেকে রাজধানী সহ দেশের গুরত্বপূর্ণ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি তারা।

বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিলে কথিত আরব জোট আল-কায়েদার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা ও সামরিক অভিযান চালায়। আর তাদের গোয়েন্দা সহায়তার ফলে অব্যাহত দীর্ঘ এই যুদ্ধের সময় মার্কিন ড্রোন ও বিমান হামলায় আল কায়েদার অনেক সিনিয়র ব্যক্তিত্ব শাহাদাত বরণ করেছেন।

১টি মন্তব্য

  1. ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজি’উন। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন।

    আমরা আল্লাহর রাসুলের(সা) বাণীর সত্যায়ন দেখতে পাচ্ছি।

    عن أبي هريرة قال: ما زلت أحب بني تميم منذ ثلاث، سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول فيهم، سمعته يقول: «هم أشد أمتي، على الدجال»، قال: وجاءت صدقاتهم، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «هذه صدقات قومنا»، وكانت سبية منهم عند عائشة، فقال: «أعتقيها فإنها من ولد إسماعيل». -صحيح البخاري (3/ 148)، ط. دار طوق النجاة، كتاب العتق، باب: من ملك من العرب رقيقا، فوهب وباع وجامع وفدى وسبى الذرية، رقم الحديث: 2543 و كتاب المغازي، باب: وفد بني تميم، رقم الحديث: 4366
    আবু হুরায়রা রাদি. থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, বনু তামিম গোত্রের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যেদিন থেকে তিনটি কথা বলতে শুনেছি, সেদিন থেকে তাদের মুহাব্বাত করে আসছি: ১. শুনেছি তিনি বলেছেন, তারা –বনু তামিম- আমার উম্মতের মধ্যে দাজ্জালের ব্যাপারে সবচেয়ে কঠোর; ২. তাদের সাদাকা রাসূলের কাছে আসার পর তিনি বলেছেন, এ সাদাকা আমার নিজের কওমের সাদাকা; ৩. তাদের বংশের এক যুদ্ধবন্দী মেয়ে আয়েশা রাদি.র কাছে ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আয়েশা রাদি.কে বললেন, একে আযাদ করে দাও, সে ইসমাইল আলাইহিস সালামের বংশের মানুষ। -সহীহ বোখারি: ২৫৪৩, কিতাবুল ইতক।

    هم أشد الناس قتالا في الملاحم. -صحيح مسلم (4/ 1957)؛ رقم الحديث: 198؛ كتاب: 44 – فضائل الصحابة رضي الله تعالى عنهم؛ باب: 47 – من فضائل غفار، وأسلم، وجهينة، وأشجع، ومزينة، وتميم، ودوس، وطيئ؛ ط. دار إحياء التراث العربي – بيروت
    মালহামা তথা যুদ্ধের সময় এরা কঠিন যোদ্ধা। -সহীহ মুসলিম: ১৯৮, কিতাবু ফাজায়িলিস সাহাবা।

    وَنَالَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا، فَقَالَ: ” لَا تَقُلْ لِبَنِي تَمِيمٍ إِلَّا خَيْرًا، فَإِنَّهُمْ أَطْوَلُ النَّاسِ رِمَاحًا عَلَى الدَّجَّالِ “. -مسند أحمد ط الرسالة (29/ 74): 17533، قال المحققون: إسناده صحيح. اهـ
    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে একদিন এক লোক বনু তামিম গোত্রের ব্যাপারে মন্দ কিছু বললো। রাসূল তখন তাকে উপদেশ দিলেন, বনু তামিমের ব্যাপারে ভাল বৈ (মন্দ কিছু) বলো না। কারণ, দাজ্জালের বিরুদ্ধে এদের বর্শাই সবচেয়ে লম্বা। -মুসনাদে আহমাদ: ১৭৫৩৩

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিহারে মসজিদে আগুন, মুসলিমদের বাড়িঘর লুট
পরবর্তী নিবন্ধস্পেশাল ফোর্সের ঘাঁটিতে শাবাবের দুঃসাহসী হামলা: নিহত ৮৯ শত্রুসেনা, গণিমত ২০টি যুদ্ধযান