মালিতে জেএনআইএম এর বিস্তৃত সমন্বিত আক্রমণ: ২টি রাজ্য বিজয় সহ প্রকম্পিত ৮টি শহর

0
5

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি, শনিবার ভোরে দেশজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে সমন্বিত সামরিক অপারেশন শুরু করে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জেএনআইএম এবং তুয়ারেগ বিদ্রোহী গোষ্ঠী আজওয়াদ। দল দুটির তীব্র আক্রমণে কেঁপে উঠেছে পুরো মালি, জান্তা বাহিনী নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ২টি প্রদেশ, কয়েকটি শহর এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটির।

আঞ্চলিক গণমাধ্যম এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫শে এপ্রিল শনিবার ভোরে, আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জামা’আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) এবং আজওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট (এফএলএ) যোদ্ধারা একযোগে বৃহৎ পরিসরে একটি সামরিক অপারেশন শুরু করে। তাদের সমন্বিত আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় মালিয়ান সশস্ত্র জান্তা বাহিনী (এফএএমএ) এবং আফ্রিকান কর্পস নামে পরিচিত রুশ ভাড়াটে আধাসামরিক বাহিনীর দখলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রশাসনিক অবস্থানগুলো।

সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম ব্যাপক হামলা হিসেবে বর্ণিত এই অভিযানটি দেশটির উত্তরের শক্তিশালী ঘাঁটি কিদাল এবং রাজধানী বামাকোর নিকটবর্তী শহরগুলো উভয়কেই প্রভাবিত করেছে।

সমন্বিত এই আক্রমণের অংশ হিসেবে জেএনআইএম মুজাহিদিনরা প্রথমেই তাদের টার্গেট হিসাবে চিহ্নিত করেন রাজধানী বামাকো থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কাটি শহর, যেখানে মালির অন্যতম বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাসভবন রয়েছে। মুজাহিদিনরা হামলার প্রথমাংশেই জান্তা প্রশাসনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাসভবন এবং কিটা সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থিত চিফ অফ স্টাফের (সেনা প্রধান) অবস্থান লক্ষ্য করে বিস্ফোরক বোঝাই দুটি শক্তিশালী ইস্তেশহাদী হামলা চালান। এতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনা প্রধানের অবস্থান সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়। গুঞ্জন উঠেছে মুজাহিদদের হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামরা, সেনাপ্রধান এবং তার ডেপুটি ওমর দিয়ারা সহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছে।

এই ইস্তেশহাদী হামলার পর মুজাহিদিনরা রাজধানীর কাছে অবস্থিত কাটি শহর এবং এখানে অবস্থিত মালির অন্যতম বৃহৎ সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে তীব্র আক্রমণ শুরু করেন। সেই সাথে জান্তা প্রশাসনের প্রধান (রাষ্ট্রপতি) আসিমি গোয়িতার সদরদপ্তর লক্ষ্য করেও মুজাহিদিনরা তীব্র আক্রমণ চালিয়েছেন। ফলে রাজধানী জুড়ে বিকট বিস্ফোরণ এবং একটানা গোলাগুলির শব্দ শুনা গেছে।

একই সাথে মুজাহিদিনরা বামাকোর মোদিবো কেইতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও আক্রমণ শুরু করেন। রাজধানীর উপকন্ঠে জেএনআইএম মুজাহিদদের এই হামলার ফলে আতঙ্কিত এবং অস্থির হয়ে পড়ে জান্তা বাহিনী। জান্তা এবং রাশিয়ান ভাড়াটে বাহিনী যখন রাজধানীর প্রতিরক্ষায় ক্লান্ত ও ব্যস্ত, ঠিক তখনই জেএনআইএম এবং এফএলএ বিদ্রোহীরা দেশের উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর কিদাল ও গাও রাজ্যে সমন্বিত আক্রমণ চালাতে শুরু করেন। এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্ত রাজধানী থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয় উত্তরের শক্তিশালী ঘাঁটি ও শহরগুলোতে অবস্থানরত জান্তা বাহিনী এবং তাদের শরিক রাশিয়ান বাহিনী। সবমিলিয়ে মুজাহিদিনরা শত্রু বাহিনীকে দেশের কেন্দ্রে আটকে রেখে উত্তরে সমন্বিত আক্রমণ তীব্র থেকে আরও তীব্রতর করেন।

ফলশ্রুতিতে জেএনআইএম মুজাহিদিনরা এবং এফএলএ বিদ্রোহীরা যৌথভাবে উত্তরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য কিদাল এবং মোপ্তি শহরের নিয়ন্ত্রণ নেন। সেই সাথে উত্তরের আরেক রাজ্য গাও-এর অধিকাংশ শহর ও সামরিক স্থাপনাগুলো ধারাবাহিক আক্রমণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হন। এমন পরিস্থিতিতে ৩টি রাজ্যের কয়েকটি পরিত্যক্ত সামরিক ঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছে রাশিয়ান ভাড়াটে সৈন্যরা, আর জান্তা সদস্যদের বড় একটি অংশই পালিয়ে গেছে প্রতিবেশি দেশ নাইজারের দিকে। এদিকে আটকা পড়া সৈন্যদের ছাড়াতে জেএনআইএম এর সাথে আলোচনা শুরু করেছে রাশিয়া, আর জেএনআইএম পরামর্শ দিয়েছে রাশিয়া যেনো এই যুদ্ধে নিরপেক্ষ থাকে, যাতে ভবিষ্যতে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়।

এদিকে মুজাহিদদের অভিযান দেশের কেন্দ্রীয় অঞ্চল ও উত্তরেই সীমাবদ্ধ থাকে নি। এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে মধ্য মালির তেসালিত, আনেফিস এবং সেভারের মতো শহরগুলোতেও। এই শহরগুলোতেও জেএনআইএম মুজাহিদিনরা শত্রু বাহিনীর সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে তীব্র আক্রমণ চালাচ্ছেন।

জেএনআইএম অফিসিয়ালি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, আমরা এই বিজয় ঘোষণা করার সাথে সাথে নিশ্চিত করছি যে, এটি আকস্মিক কোন ঘটনা নয়; বরং এটি আন্তরিক ও নিরন্তর প্রচেষ্টার ফল, যার সর্বাগ্রে রয়েছে আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তারপর আমাদের দ্বীন, জাতি ও তার জনগণের স্বার্থে পরিচালিত এক প্রকৃত রূপান্তর।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানে ব্যাটারি শিল্প ক্রমশ প্রসার লাভ করছে