ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের একটি বিধানও ইসলাম পরিপন্থী নয়: মৌলভী জাবিউল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ

0
6

ইমারাতে ইসলামিয়ায় এমন কোনো আইন বা বিধান নেই যা ইসলামী শরিয়তের পরিপন্থী— পারিবারিক আইন ও অভিভাবকত্বকে কেন্দ্র করে কিছু মহলের সৃষ্ট বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এ কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের মুখপাত্র মৌলভী জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ। তিনি বলেন, ইসলামের বিধান ও শরিয়াহভিত্তিক নীতিমালার বিরোধিতা নতুন কোনো বিষয় নয়; বরং ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন অজুহাতে আপত্তি তুলে এসেছে। তবে ইতিহাস সাক্ষী, এসব অপপ্রচার ও বিদ্বেষপূর্ণ প্রচেষ্টা কখনোই ইসলামের অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারেনি।

মৌলভী মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ বলেন, যেসব গোষ্ঠী ইসলাম, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামী নীতিমালার বিরোধিতা করে, তাদের বক্তব্যকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ তাদের আপত্তির মূল ভিত্তিই ইসলামের অস্তিত্ব ও ইসলামি শিক্ষার বিরোধিতা করা। তিনি মুসলিম জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়ার এমন কোনো নিয়ম নেই যা ইসলামের বিরুদ্ধে যায়, এবং এমন কোনো সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয় না, দেশের উলামায়ে কেরাম যার বিরোধিতা করেন।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, ইসলামী শরিয়াহ ও হানাফি ফিকহ অনুযায়ী পিতা ও পিতামহের অভিভাবকত্ব একটি স্বীকৃত নীতি। তবে এই অভিভাবকত্ব কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। যেমন—অভিভাবককে ধার্মিক, দয়ালু, মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ হতে হবে; সন্তানের প্রতি নির্যাতনের ইতিহাস থাকা যাবে না এবং দারিদ্র্য বা অন্য কোনো অযৌক্তিক কারণে সন্তানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যাবে না।

মৌলভী জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আদালতের কার্যক্রম সহজ ও সুস্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে এসব বিষয় বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে বিচারকরা শরিয়তের আলোকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এটি কোনো সাধারণ অনুমতি নয় যে, সবাই ইচ্ছামতো নাবালিকা মেয়েদের বিয়ে দিতে পারবে। বরং এটি নির্দিষ্ট কিছু পুরোনো বা বিশেষ ধরনের মামলার শরিয়তসম্মত সমাধানের জন্য উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, আমীরুল মু’মিনীন হাফিযাহুল্লাহর পৃথক নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—কোনো মেয়েকে তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না। একজন মেয়েকে অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক ও নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার যোগ্য হতে হবে। এর আগেও এই ঘোষণাটি প্রচার করা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তিই মেয়ের অনুমতি ছাড়া তার বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারবে না।

মৌলভী মুজাহিদ বলেন, ইসলামী ইমারাতের সকল আইন ও নীতিমালা শরিয়তের আলোকে প্রণীত এবং জনগণের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য। তিনি মুসলিম সমাজকে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, ইসলামী বিধানকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে যারা বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য কখনোই কল্যাণকর নয়।


তথ্যসূত্র
1.Zabiullah Mujahid said criticism of the Principles of Separation of Couples
– https://tinyurl.com/2fpx6x68

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধরামিসা হত্যা: শরিয়াহ’র বিচার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য আরও কত উদাহরণ লাগবে?
পরবর্তী নিবন্ধগাজীপুরের শ্রীপুরে ঈদের ছুটি ও বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন, পুলিশের লাঠিপেটা