তালেবান বিরোধী মিডিয়া প্রোপাগান্ডার স্বীকার হয়ে ইমারাতে ইসলামিয়ার বিরুদ্ধে মিডিয়া প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে ব্যারিস্টার ফুয়াদ

0
0

আল ফিরদাউস এর সম্পাদক মুহতারাম ইবরাহীম হাসান হাফিযাহুল্লাহ’র কলাম

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েম ফুয়াদ (ব্যারিস্টার ফুয়াদ) সম্প্রতি এক বক্তৃতায় ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান নিয়ে একাধিক বিতর্কিত ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছে। তার বক্তব্যে জিহাদ, কূটনীতি, ইসলামী শাসনব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক রাজনীতি সম্পর্কে এমন কিছু প্রোপাগান্ডামূলক দাবি উঠে এসেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত ১১ই জুলাই ২০২৬ তারিখে নিজ ফেসবুক একাউন্টে প্রকাশিত “জিহাদ ও জঙ্গী ব‍্যবসায়ীদেরকে প্রতিহত করুন; ওরা দেশ ও ধর্মের শত্রু” শিরোনামের দুই পর্বের এক ভিডিও বক্তব্যে ব্যারিস্টার ফুয়াদ দাবি করে, তালিবান জিহাদের নামে ব্যবসা করেছে, ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ তাদের আদর্শের পরিপন্থী, ইসরায়েলের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রয়েছে এবং মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধেই তাদের অবস্থান বেশি দৃশ্যমান। সে তালেবানদের প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ব্যবস্থাকে কটাক্ষ করেছেন এবং পাকিস্তানের আগ্রাসনকে সমর্থন করে আফগানিস্তানের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ করেছে।

প্রাথমিক দৃষ্টিতে এসব বক্তব্য দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী মনে হলেও, গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—এগুলোর একটি বড় অংশ এমন তথ্য ও বর্ণনার সঙ্গে মিলে যায়, যা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মূলধারার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং নিরাপত্তা-আলোচনায় প্রচারিত হয়ে আসছে। কিন্তু কোনো প্রচলিত বর্ণনা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সত্য হয়ে যায় না। প্রতিটি দাবিকেই প্রমাণ, তথ্য এবং বাস্তবতার আলোকে যাচাই করা প্রয়োজন।

গত কয়েক দশক ধরে আফগানিস্তানকে ঘিরে বিশ্বে যে সংবাদপ্রবাহ তৈরি হয়েছে, তার বড় অংশ এসেছে আমেরিকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে (ইসলাম এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত রাষ্ট্রগুলোর সংবাদমাধ্যম, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারণী মহল থেকে। ফলে আফগানিস্তানের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা ও বর্ণনা একসঙ্গে প্রচলিত রয়েছে। একজন গবেষক, আইনজীবী বা জনবুদ্ধিজীবীর কাছ থেকে প্রত্যাশা থাকে—তিনি প্রচলিত বক্তব্য পুনরাবৃত্তি না করে তার সত্যতা যাচাই করবেন এবং ভিন্নমত থাকলেও তা প্রমাণের ভিত্তিতে উপস্থাপন করবেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদের বক্তব্যে এমন কয়েকটি দাবি রয়েছে, যেগুলোর পক্ষে সে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য, সরকারি নথি বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। বিশেষ করে “জিহাদের নামে ব্যবসা”, “ইসরায়েলের সঙ্গে গোপন বৈঠক” কিংবা “ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগই আদর্শ বিসর্জনের প্রমাণ”—এসব দাবি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এসব দাবি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিষয়গুলো একেবারে ভিত্তিহীন মিথ্যা।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কূটনৈতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক স্বার্থ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আদর্শগত অবস্থান—এসব সবসময় একই সূত্রে গাঁথা থাকে না। বিশ্বের বহু রাষ্ট্র এমন দেশের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে, যাদের নীতির সঙ্গে তাদের মৌলিক মতপার্থক্য রয়েছে। তাই কেবল একটি বৈঠক বা কূটনৈতিক যোগাযোগের ভিত্তিতে কোনো রাষ্ট্রের আদর্শ বা নীতিকে বিচার করা গবেষণার গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি নয়।

ব্যারিস্টার ফুয়াদের এই বক্তব্যে সত্যের চেয়ে বিভ্রান্তি ও দ্বিমুখী নীতির পরিচয় ফুটে উঠেছে। চলুন তার দাবিগুলোকে বাস্তবতার আলোকে যাচাই করা যাক।

জিহাদ ব্যবসার অভিযোগ: ঐতিহাসিক ও বাস্তবিক প্রেক্ষাপট

ব্যারিস্টার ফুয়াদের সবচেয়ে বড় দাবি—তালেবান ‘জিহাদ ব্যবসা’ করে। অথচ ইতিহাস সাক্ষী, সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে শুরু করে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী পর্যন্ত—যারা আফগানিস্তান দখল করতে এসেছিল, তাদের বিরুদ্ধে তালেবানই ছিল প্রধান প্রতিরোধ শক্তি।

দশকের পর দশক ধরে আফগান মুজাহিদরা দখলদার সোভিয়েত, আমেরিকা ও অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের জীবন, সম্পদ ও পরিবার উৎসর্গ করে সংগ্রাম করেছেন। জিহাদের মাধ্যমে তারা কখনো ব্যবসা করেনি, বরং নিজেদের দেশ ও ধর্মকে রক্ষা করতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েছে।

ইমারাতে ইসলামিয়া ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো স্বীকার করেছে যে, তারা অর্থনৈতিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আফগান অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হয়েছে। একটি ‘জিহাদ ব্যবসায়ী’ গোষ্ঠী এতটা সংগঠিত ও কার্যকরীভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারে না—এটা তাদের জিহাদের প্রতি আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধেরই প্রমাণ। আফগানিস্তান এখন সম্পূর্ণ নিজস্ব রাজস্ব থেকে দেশব্যাপী একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছে। তাহলে ‘জিহাদ ব্যবসা’ বলতে কী বুঝিয়েছে ফুয়াদ?

ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক কি আদর্শ বিসর্জনের নাম?

ব্যারিস্টার ফুয়াদের অন্যতম অভিযোগ, ইমারাতে ইসলামিয়া ভারতের সঙ্গে বৈঠক করছে।

কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আবেগের নয়; রাষ্ট্রসমূহ স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। বর্তমান বিশ্বে এমন অসংখ্য রাষ্ট্র রয়েছে, যারা পারস্পরিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও কূটনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও আলোচনা অব্যাহত রাখে। যেমন, ভারত ও পাকিস্তান পরস্পর আজন্ম বৈরি শত্রু এবং সেই শত্রুতা থেকে উভয়ে দেশের মাঝে বারবার যুদ্ধ ও বিশ্বাসহীনতার অসংখ্য ঘটনা ঘটলেও আজও উভয় দেশের মাঝে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান।

ভারত শুধু আফগানিস্তানের সঙ্গেই নয়; বাংলাদেশ, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্কসহ বহু মুসলিম দেশের সঙ্গেও নিয়মিত কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখছে।

তাহলে প্রশ্ন হলো, যদি কূটনৈতিক যোগাযোগই অপরাধ হয়, তবে একই মানদণ্ড কি সব রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে? নাকি শুধু আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেই ভিন্ন মানদণ্ড ব্যবহার করা হবে?

রাষ্ট্রের কূটনীতি এবং কোনো রাষ্ট্রের নীতির প্রতি সমর্থন—এই দুটি বিষয় এক নয়। আলোচনায় বসা মানেই আদর্শ বিসর্জন দেওয়া নয়।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ ইমারাতে ইসলামিয়ার ভারতের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ নিজেই কি ভারতের সাথে বিপুল বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখে না? তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১.৩৯ বিলিয়ন ডলার, যেখানে ভারত থেকে বাংলাদেশ আমদানি করে ৯৪ হাজার ৩৩ কোটি টাকার পণ্য। অথচ ব্যারিস্টার ফুয়াদ কখনো বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বন্ধের দাবি করেনি। অথচ ইমারাতে ইসলামিয়ার ভারতের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকে তিনি ‘ভুল’ বলে আখ্যা দিচ্ছে—এটা স্পষ্ট দ্বৈত মানদণ্ড।

আঞ্চলিক কূটনীতি ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা প্রতিটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অধিকার। ইমারাতে ইসলামিয়া রাশিয়া, চীন, তুরস্ক, ইরান, কাজাখস্তানসহ বহু দেশের সাথে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ভারতের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে তারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ফুয়াদের এই সমালোচনা আঞ্চলিক কূটনীতির জটিলতা সম্পর্কে তার সীমিত ধারণাকেই প্রকাশ করে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তার সাথে বৈঠকের দাবি: সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন

ব্যারিস্টার ফুয়াদ যে ইসরাইলের সাথে ইমারাতে ইসলামিয়ার গোপন বৈঠকের কথা উল্লেখ করেছে, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। কিছু পাকিস্তানি মিডিয়া এই গুজব ছড়ালেও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ—ছবি, ভিডিও বা বিশ্বস্ত সূত্র—আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ইমারাতে ইসলামিয়া ইতিমধ্যে এই দাবি খণ্ডন করেছে। বাস্তবে, যেসব ছবি প্রচার করা হয়েছে, সেখানে শুধু ভারতীয় ও ইসরায়েলি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি দেখা গেছে—ইমারাতে ইসলামিয়ার কোনো প্রতিনিধি সেখানে ছিল না। তবে, ফুয়াদ সাহেব কেন এই প্রোপাগান্ডায় বিশ্বাস করলো, তা বিস্ময়কর!

ইসলামী খেলাফত ও কটাক্ষ: বাস্তবতা বনাম কুৎসা

ফুয়াদ ইমারাতে ইসলামিয়ার প্রতিষ্ঠিত ইসলামি খেলাফতকে কটাক্ষ করেছে, যা আফগান মুজাহিদদের দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল। সারা বিশ্বে যখন মুসলিমরা নিপীড়নের শিকার, তখন আফগানিস্তান ইসলামি শরিয়াহ ও খেলাফতের একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে—যা সৌদি আরবসহ বহু দেশও পারে নি। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তারা সুদমুক্ত ইসলামি অর্থনীতি বাস্তবায়ন করে দেশকে পুনর্গঠন করছে। বিশ্বব্যাংক পর্যন্ত তাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি স্বীকার করেছে। তাহলে এই ব্যবস্থাকে কটাক্ষ করার মানে কী? ফুয়াদের এই কটাক্ষ ইসলামি আদর্শ ও মুজাহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শন।

পাকিস্তানের আগ্রাসন ও ফুয়াদের নির্বাকতা

ফুয়াদ প্রশ্ন তুলেছে, ফুয়াদ সাহেব প্রশ্ন তুলেছেন, আফগানিস্তান কেন পাকিস্থানে হামলা করে? অথচ বাস্তবতা হলো, পাকিস্তানই বারবার আফগানিস্তানের সীমান্তে বিমান হামলা চালিয়েছে। কিন্তু লক্ষ্যবস্তু কখনো সন্ত্রাসী ছিল না—বরং ছিল নিরীহ বেসামরিক নাগরিক, স্কুল, মসজিদ, মাদরাসা এবং মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র। গত পাঁচ মাসে পাকিস্তানের হামলায় ৮০০-এর বেশি আফগান নাগরিক শহীদ হয়েছেন। অথচ ফুয়াদ এই নির্মমতার বিরুদ্ধে একটি বাক্যও উচ্চারণ করেনি। বরং সে বারবার তালেবানদের ওপরই আঙুল তুলেছে।

প্রকৃত বিরোধের কারণ: ইসলামের ভীতিই মূল

ফুয়াদ সাহেবের তালেবানবিরোধী অবস্থানের মূল কারণ হলো ইসলামী শাসনব্যবস্থার প্রতি তার বিদ্বেষ। তালেবানের মৌলিক অবস্থান হলো—ইসলামের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন। এই ভিত্তি যত শক্তিশালী হয়, ততই আন্তর্জাতিক মহলে ইসলামের প্রভাব বিস্তার লাভ করে। ফলে যারা ইসলামী আন্দোলনের উত্থানকে ভয় পায়, তারা এমন প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দেয়। ফুয়াদ সাহেব নিজেও সেই প্রচারণার অংশ হয়েছে, যেখানে সে প্রকৃত মুজাহিদ ও খারেজিদের মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

উপসংহার

ব্যারিস্টার ফুয়াদের বক্তব্য ইসলামের প্রকৃত চেতনা ও আফগানিস্তানের বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষিক। সে যে দ্বিমুখী নীতি ও তথ্যবিভ্রাট ছড়িয়েছে, তা আঞ্চলিক অস্থিরতা ও ইসলামের প্রতি বিদ্বেষের পরিচয় দেয়। তার দাবিগুলো তথ্যভিত্তিহীন, পরস্পরবিরোধী এবং পাকিস্তানি প্রোপাগান্ডা দ্বারা প্রভাবিত। আফগান জনগণ ও ইমারাতে ইসলামিয়া বহু বছর ধরে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে এবং আজ তারা একটি স্থিতিশীল ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে। যারা এই বাস্তবতা মেনে নিতে চায় না, তারা ইতিহাসের গতিপথকে থামাতে পারবে না।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধবুরকিনায় জেএনআইএম মুজাহিদদের অভিযানে খারেজী গোষ্ঠী আইএস নেতা সাদৌ তার দুই দেহরক্ষীসহ নিহত