মালি ও বুরকিনা ফাসোর ২২টি শহরে একযোগে জেএনআইএম-এর সমন্বিত সামরিক অপারেশন

0
185

আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট পশ্চিম আফ্রিকা শাখা জামায়াত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম)। দলটির অফিসিয়াল মিডিয়া শাখা আয-যাল্লাকা ৩ পৃষ্ঠার একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে মালি ও বুরকিনা ফাসোতে গত ৪ জুলাই জান্তা, রাশিয়ান বাহিনী এবং স্থানীয় মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে একযোগে শুরু হওয়া মুজাহিদদের সমন্বিত সামরিক অপারেশনের বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিবৃতিতে ঘোষণা করা হয়েছে যে, জেএনআইএম মুজাহিদরা একযোগে পরিচালিত সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে মালি ও বুরকিনা ফাসোতে শত্রু বাহিনীর অসংখ্য সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছেন। এই যুদ্ধে জেএনআইএম মুজাহিদরা বীরত্ব, আত্মত্যাগ এবং বিজয়ের সবচেয়ে বিস্ময়কর মহাকাব্য রচনা করেছেন। ফলশ্রুতিতে শত্রুপক্ষের অসংখ্য সৈন্য হতাহত, ব্যাপক বস্তুগত ক্ষতি এবং বাহিনীতে অনৈক্য তৈরির পাশাপাশি বহু সংখ্যক সৈন্য আত্মসমর্পণ করেছে।

প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, গত ৪ জুলাই শুরু হওয়া এই অপারেশনের ধারাবাহিকতায় জেএনআইএম মুজাহিদরা মালির রাজধানী বামাকোর পশ্চিমে অবস্থিত সেভারে, সুফারা ও কেনিরুবা এবং মধ্য মালির কুয়াকুরু, কোনা, লেরে, কোনা, সুমাদুগু, কারাকানি, সেইনি কোরো ও গোরলে বগ শহর, সেই সাথে বুরকিনা ফাসোর ডিগনে, টিউ, স্ফেঙ্গা, টিয়েরা, ডেলফান, কুকারনি, তৌগুই ও তগুরিত শহরগুলোতে বৃহৎ পরিসরে অভিযান চালিয়েছেন। উক্ত ১৯টি শহরে পরিচালিত এই অভিযানের মাধ্যমে মুজাহিদরা মালি ও বুরকিনা ফাসোর জান্তা বাহিনী এবং রাশিয়ার ভাড়াটে আফ্রিকান কর্পস বাহিনী ও স্থানীয় মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর অসংখ্য সামরিক ঘাঁটি, সদর দপ্তর, সামরিক স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন এবং আরও কতক সামরিক ঘাঁটি মুজাহিদের হামলায় ভারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেএনআইএম আরও জানিয়েছে যে, আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট (এফএলএ)-এর সাথে যৌথভাবে পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবে মুজাহিদরা উত্তর মালিতেও বৃহৎ পরিসরে সামরিক অপারেশন চালিয়েছেন।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এফএলএ এর ভাইদের সাথে যৌথ এই সামরিক অপারেশনের অংশ হিসেবে, জেএনআইএম-এর বীর মুজাহিদরা মালির উত্তরাঞ্চলের আনফিফ, গাও এবং আগুয়েলহোক শহরে অবস্থিত শত্রু বাহিনীর সমস্ত সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর এবং সদর দপ্তরগুলো লক্ষ্য করে বৃহৎ পরিসরে ভারী আক্রমণ শুরু করেন। এই আক্রমণে শত্রু বাহিনীতে মুজাহিদদের অনুপ্রবেশ, ইস্তেশহাদী হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বিস্ফোরক ডিভাইস বিস্ফোরণ, আত্মঘাতী ড্রোন হামলা, নজরদারি ড্রোন, অ্যাম্বুশ এবং অতর্কিত আক্রমণ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মুজাহিদদের এসকল বীরত্বপূর্ণ অভিযানের ফলে মালির জান্তা (সেনাবাহিনী) এবং রাশিয়ার আফ্রিকান কর্পস বাহিনীর শত শত সৈন্য নিহত এবং আহত হয়েছে। এছাড়াও কয়েক ডজন সৈন্য মুজাহিদদের হাতে বন্দী হয় এবং অনেক সৈন্য যুদ্ধের ময়দান থেকে পালিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে গেছে।

শত্রু বাহিনীতে বিপুল সংখ্যক হতাহত ও মুজাহিদদের হাতে বন্দী ছাড়াও, এই অভিযানগুলোতে শত্রুপক্ষের অসংখ্য সামরিক যান ও সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। রাশিয়ার তৈরি একটি এমআই-২৪ হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে, ফলে এর সমস্ত ক্রু নিহত হয়েছে। সেই সাথে এই অঞ্চলে শত্রুপক্ষের অনেক চালকবিহীন আকাশযানও মুজাহিদদের হামলার সফল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

জেএনআইএম বিবৃতিতে আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট (এফএলএ)-কে নিজেদের মিত্র এবং সৈন্যদের ভাই বলে সম্বোধন করে। এসময় যুদ্ধে এফএলএ যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ, বীরত্ব, সাহসিকতা এবং ভ্রাতৃত্বের নজির স্থাপন করার প্রশংসাও করে জেএনআইএম। একই সাথে মালি ও বুরকিনা ফাসোতে শরিয়াহ্ প্রতিষ্ঠার এই যুদ্ধে শত্রুর মোকাবেলায় যেসকল মুজাহিদরা নিজেদের জীবন দিয়েছেন, সেইসব নেককার ভাইদের জন্য মহান রবের দরবারে তাদের জিহাদ ও শাহাদাত কবুল করার জন্যও দোয়া করা হয়। তাদেরকে যেনো নবী, সালেহীন, শহীদ ও নেককারদের সান্নিধ্যে সমর্পণ করা হয়।

এসময় সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়। আর যারা দুটি উত্তম জিনিসের একটির জন্য অপেক্ষা করছে — হয় বিজয় ও সাফল্য, নয় শাহাদাহ —তাদের জন্য দৃঢ়তা ও ধৈর্যের দোয়া করা হয়।

জেএনআইএম তাদের বিবৃতির শেষে ঘোষণা করেছে যে, আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্টের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং তারা এই অঞ্চলের শরিয়াহ্ ও মুসলিম বিরুদ্ধে সরকার ও রুশ উপস্থিতির বিরুদ্ধে তাদের জিহাদ চালিয়ে যাবেন।


তথ্যসূত্র:
– https://tinyurl.com/3v4c55fr
– https://tinyurl.com/4t323kpw
– https://tinyurl.com/6nj227y6

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধমতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে সীমা লঙ্ঘনের কোনো স্থান ইসলামে নেই: আফগান প্রশাসনিক প্রধান শাইখ নূরুল হক হাফিযাহুল্লাহ
পরবর্তী নিবন্ধ১৮ বারের মতো পেছাল ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন