
টেকনাফ উপজেলার শামলাপুর এলাকায় মো. আরফাত (১৩) নামে এক কিশোরকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। দৈনিক আমার দেশ জানায়, শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে শামলাপুর এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে মহিষ আনতে গিয়ে বাড়ি ফিরেনি আরফাত। আরফাত শামলাপুর পুরানপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মাবুদের ছেলে।
আরফাতের বাবা আব্দুল মাবুদ সাংবাদিকদের জানান, শনিবার (১৮ জুলাই) একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয়, তার ছেলে অপহরণকারীদের কাছে রয়েছে। তাকে জীবিত ফেরত চাইলে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। অন্যথায় তাকে আর জীবিত পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, আমি একজন সাধারণ মানুষ। এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই আবেদন, আমার ছেলেকে যেন দ্রুত জীবিত উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর থেকে তার পরিবারে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন আরফাতের মা ও স্বজনরা। স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত কিশোরকে নিরাপদে উদ্ধারের পাশাপাশি অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবু সাঈদ সাংবাদিকদের জানায়, স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিউল কাদের কালু বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছেন। তবে এখনো পুলিশ কিশোরকে উদ্ধার করতে পারেনি।
উল্লেখ্য, গত দেড় বছরে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫০ জনের বেশি মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসেছে। উদ্ধার করা হয় বেশ কয়েকজনের লাশ।
পাহাড়ে গবাদিপশু চরাতে যাওয়া মানুষ,ক্ষেত খামারের সাথে জড়িত কৃষক, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহকারী এবং সাধারণ পথচারী, ডাক্তার,দোকানদার, শিক্ষক কেউ বাদ যাচ্ছেনা অপহরণকারীদের হাত থেকে। ফলে সীমান্তের উপকূলীয় জনপদ বাহারছড়া ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
তথ্যসূত্র:
১। টেকনাফে কিশোর অপহরণ, ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি
– https://tinyurl.com/4x6jec8a


