যশোরে মন্দির সংলগ্ন বাড়িতে কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনা অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো ইসকনের মন্দির দখলচেষ্টার নানামুখী অপতৎপরতা

0
20

যশোর শহরের চাঁচড়া রাজবাড়ীসংলগ্ন দশমহাবিদ্যা নামে একটি মন্দির দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী সংগঠন ইসকনের বিরুদ্ধে। দৈনিক যুগান্তর এক প্রতিবেদনে জানায়, মন্দিরটির জায়গায় বসবাসকারী ৬টি পরিবারকে উচ্ছেদের লক্ষ্যে তারা নানামুখী অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে তথ্য মিলেছে। ওই মন্দির এরিয়ায় নিজ ঘর থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রী শিপ্রা ঘোষের লাশ উদ্ধারের পরই বিষয়টি সামনে এসেছে। ছাত্রীর স্বজনসহ বাসিন্দারা জানায়, মন্দিরের সম্পূর্ণ জায়গা গ্রাস করতেই ইসকন নানামুখী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে মন্দির চত্বরের একটি জরাজীর্ণ ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় মেয়েটির লাশ উদ্ধার হয়। শহরতলীর একটি প্রতিষ্ঠানে দশম শ্রেণিতে পড়ত সে। পরদিন শিক্ষার্থীর লাশ নিয়ে প্রেস ক্লাব যশোরের সামনে সড়কে বিক্ষোভ করে তার স্বজনসহ স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, মন্দির অধ্যক্ষের অসদাচরণ, যৌন হয়রানি, মারধর, অপমান-অপদস্তের শিকার হয়ে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে।

ছাত্রীর ভাই গণমাধ্যমে জানায়, বছর দশেক আগে এই মন্দিরের কমিটির কতিপয় সদস্যের মাধ্যমে ইসকন এখানে কার্যক্রম শুরু করে। তারা এখানে আসার পর থেকেই আমাদের বাস্তুচ্যুত করতে নানা অপরতৎপরতা চালাচ্ছিল। তাদের সেই প্রক্রিয়ার সর্বশেষ শিকার আমার ছোটবোন। তাকে গালাগালি, যৌনপীড়ন ও অপমানের শিকার বানানো হয়।’ তার দাবি, ‘আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। সেদিন ইসকনের অধ্যক্ষ অনুপম রায় (অপার গোবিন্দ দাস) ও তার লোকজন প্রথমে আমার মাকে অশ্লীল গালাগাল দেয় ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে নির্যাতন করে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, তারা এখানে ৭০-৮০ বছর বংশানুক্রমে বসবাস করে আসছে। ৬২ শতক জমিতে আগে ১০টি পরিবার থাকলেও বর্তমানে ৬টি পরিবার রয়েছে। মৌসুমি ঘোষ, সুরঞ্জন বিশ্বাস, শুভ ঘোষ ও মনি বিশ্বাস জানায়, ইসকনের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে তাদের এই জায়গা ছেড়ে দিতে হুমকি দিয়ে আসছে। এখানে তারা আরও বড় মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

বাসিন্দারা আরও জানায়, ‘ইসকন মন্দিরে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট ঘর রয়েছে। সেখানে বাইরের তরুণ ছেলেরা থাকে। তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে আসে। তাদের নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।’

মন্দিরে নতুন আসা সুমন বিশ্বাস ওরফে সুমুখ শ্যামহরিদাস নামে এক ব্যক্তির দাবি, ‘আগের প্রভূরা নেই, কিন্তু পূজা তো বন্ধ করা যাবে না। সেই কারণে আমাদের পাঠানো হয়েছে। মন্দিরের জমিতে থাকা লোকজন উচ্ছেদের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

জানা যায়, শান্ত রায় নামে এক যুবকের বাড়ি পঞ্চগড় জেলা সদরের হাড়িভাসা গ্রামে। তার দাবি, সে যশোর এমএম কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স প্রথমবর্ষের ছাত্র। প্রায় তিন মাস ধরে সে এখানে অবস্থান করছে। এখানে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা ভাড়া দিচ্ছে বলে দাবি তার। তবে সাংবাদিকদের কাছে বাংলাদেশের নাগরিকের কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানায় সে।


তথ্যসূত্র:
১। যশোরে মন্দির দখলে নিতে ইসকনের অপতৎপরতা
– https://tinyurl.com/4uetpdx8

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৃষি উন্নয়নে ইমারাতে ইসলামিয়ার ধারাবাহিক উদ্যোগে নানগারহারে বাড়ছে কৃষি উৎপাদন
পরবর্তী নিবন্ধমসজিদ অপসারণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মুসলিমদের বিক্ষোভ, মধ্য প্রদেশ পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ