শুধু সরকারকে নয়, প্রশ্ন করুন এই সেকুলার সিস্টেমকে

0
0

“সুদূর ফোরাত নদীর তীরে একটি কুকুরও যদি না খেয়ে মারা যায়, তবে কিয়ামতের দিন উমরকে সেটির জবাবদিহি করতে হবে।”
এই বিখ্যাত উক্তিটি ইসলামী খিলাফতের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ফারুক রদিয়াল্লাহু আনহুর।

“আমাদের পাহাড়গুলোর চূড়ায় চূড়ায় গমের দানা ছিটিয়ে দাও, যেন কোনো পাখিও বলতে না পারে—ইসলামী ভূখণ্ডে এসে কোনো পাখি ক্ষুধার্ত ছিল।”
কিংবা “জেনে রাখুন, আমি আপনাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ কেউ নই; বরং আপনাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ। তবে পার্থক্য হচ্ছে—আল্লাহ আমার ওপর এই বিশাল সাম্রাজ্যের প্রতিটি মানুষের গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেছেন।”
এই দুটো উক্তিই ইসলামী ইতিহাসের আরেকজন ন্যায়পরায়ণ খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহিমাহুল্লাহর।

তাঁরা শুধু বলে ক্ষান্ত থাকেন নি, বরং তাঁরা ছিলেন রজুলুন ফা’আল ( man of action)। ইতিহাস সাক্ষী, তৎকালীন পুরো ইসলামী খিলাফতের প্রতিটি মানুষ সাক্ষী- সে যে ধর্মেরই হোক, এমনকি তৎকালীন রোমান সম্রাটের সাক্ষ্যও পাওয়া যায়, এই খলিফাগণ প্রতিটি মানুষের হক আদায়ের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। চেষ্টা করেছিলেন প্রতিটি প্রাণীর হক আদায় করতে। প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব তাঁরা নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন।

এটা সত্য যে, সব খলিফা ঠিক একই রকম ন্যায়পরায়ণ ছিলেন না, কিন্তু পুরো ইসলামী ইতিহাসে খিলাফাতের কিংবা ইসলামী সালতানাতের অধীনস্থ মানুষেরা যতটুকু ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও অধিকার পেয়েছেন, আর কোনো সাম্রাজ্য বা শাসন ব্যবস্থা এর সাথে তুলনীয় নয়।

অথচ ইসলামপূর্ব আরব ছিল জুলুম নির্যাতনের আধার। ঠিক কোন বিষয়টি এভাবে রাতারাতি আরবের মানুষকে বদলে দিল? বদলে দিলে ইসলামের সংস্পর্শে আসা মানুষগুলোকে?
– এক আল্লাহ তা’আলার ভয়।
আল্লাহ তা’আলার কাছে জবাবদিহিতার ভয়, অধীনস্থ জনগণের কাছে জবাবদিহিতার ভয় ইসলামী ইতিহাসের এই শাসকদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল। আর এটাই ইসলামী খিলাফতের মূল ভিত্তি।

ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা, ইসলামী তালিম তারবিয়াহর মাধ্যমে ছোট থেকে বড় হওয়া একজন শাসক এই জবাবদিহিতার ভয়েই সবসময় তটস্থ থাকেন।

এই সেকুলার সিস্টেমকে প্রশ্ন করুন- তাদের কি এমন ব্যবস্থা আছে যা জবাবদিহিতার ভয়ে একজন শাসকের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে পারে?

প্রশ্ন করুন- এই সেকুলার সিস্টমের কি এমন মেকানিজম আছে যা একজন নৈতিক মানুষ তৈরি করতে পারে, যিনি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের কর্মকান্ডের হিসাব দিতে পারে?

প্রশ্ন এই করুন- এই নীতি বিবর্জিত সেকুলার বিশ্বব্যবস্থা কি এমন শাসন ব্যবস্থা আমাদেরকে উপহার দিতে পারে, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়?

আজকে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের সাথে যা হয়েছে, এটা কি বর্তমান দুনিয়ার প্রতিটি সেকুলার শাসন ব্যবস্থার চিত্র না? আটলান্টিকের ওপার থেকে এই বদ্বীপ- কোথায় মানুষের নিরাপত্তা আছে? কোথাও নিজের দেশে নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে আর অন্য দেশ বা জাতির উপর জুলুমের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে। আর কোথাও নিজের দেশেও নিরাপত্তা কিংবা ন্যায় বিচার শুধুই ফাঁপা বুলি।

এই দায় ও দুর্বলতা শুধু নির্দিষ্ট কোনো সরকারের না, বরং এই সেকুলার সিস্টেমের।

তাই প্রশ্ন করুন। আসমান জমিনের মালিকের ভয় ছাড়া কিভাবে কোনো ব্যবস্থা আদল বা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে?

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধসুকোট উৎসবে মসজিদুল আকসায় দখলদার ইহুদিদের তাণ্ডব