ভারতজুড়ে মসজিদ-মাদ্রাসা উচ্ছেদ অবিলম্বে বন্ধের দাবি জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের, মুসলিমবিরোধী ইউসিসি আইন প্রত্যাখ্যান

0
1

ভারতে মসজিদ, মাদ্রাসাসহ মুসলিমদের ধর্মীয় স্থাপনাকে টার্গেট করে চলমান উচ্ছেদ অভিযান অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। একই সঙ্গে মুসলিম পারিবারিক আইন নিষিদ্ধ করা এবং এর পরিবর্তে মুসলিমবিরোধী অভিন্ন দেওয়ান বিধির (ইউসিসি) প্রস্তাব সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) হরিয়ানার নুহ (মেওয়াত) জেলার পিপাকা এলাকায় সংগঠনটির এক অধিবেশনে দাবিগুলো উপস্থাপন করা হয়। উক্ত অধিবেশনে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানিসহ সংগঠনটির পরিচালনা পরিষদের প্রায় ২ হাজার সদস্য, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ইসলামি চিন্তাবিদ অংশ নেন।

অধিবেশনে প্রথম প্রস্তাবে মাদ্রাসাকে ঘিরে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন ও সমর্থক গোষ্ঠীর হয়রানি, ভিত্তিহীন প্রচারণা এবং বিতর্ক তৈরির ষড়যন্ত্র তুলে ধরা হয়। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে কেন্দ্রীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

প্রস্তাবে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিগুলোকেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণের আহ্বান জানানো হয়। এসব নথির মধ্যে রয়েছে জমির কাগজপত্র, অনুমোদিত ভবনের নকশা, আবাসিক শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র এবং নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব। সব নথি স্বচ্ছতার সঙ্গে সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে ভারতজুড়ে মসজিদ, ঈদগাহ, দরগাহ ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে লক্ষ্যবস্তু করার প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানানো হয়। এতে বলা হয়, মসজিদ শুধু একটি স্থাপনা নয়। এটি মুসলমানদের বিশ্বাস ও সম্মিলিত পরিচয়ের প্রতীক।

প্রস্তাবে আরও দাবি জানানো হয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে কোনো মসজিদে উচ্ছেদ অভিযান চালানো যাবে না। পৌরসভা, রাজস্ব বিভাগ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।

প্রস্তাবে ১৯৯১ সালের উপাসনালয় আইন বা প্লেসেস অব ওয়ারশিপ (স্পেশাল প্রভিশনস) অ্যাক্টের আলোকে সাংবিধানিকভাবেও উপাসনালয় রক্ষার যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়।

এছাড়া আগামী ছয় মাসের মধ্যে মসজিদ পরিচালনা কমিটিগুলোকে জমির আইনি নথিপত্র যাচাই ও সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব নথির মধ্যে খাসরা ও খতিয়ান এবং পৌরসভার করসংক্রান্ত কাগজপত্র রয়েছে।

তৃতীয় প্রস্তাবে অভিন্ন দেওয়ান বিধি (ইউসিসি) পাশ করার অজুহাতে মুসলিম পারিবারিক আইন নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করা হয়। আইনটিকে স্বভাবগতভাবেই বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

সভায় মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানি ভারতের মুসলমানদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। পরে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন বলে জানানো হয়েছে।


তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/4e8yc835

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধমালিতে যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট: উত্তর থেকে দক্ষিণ মালি পর্যন্ত জেএনআইএম প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ৭ অভিযান