
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের কলাবুনিয়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে দফায় দফায় তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টা থেকে এ গোলাগুলি শুরু হয়। প্রায় এক থেকে দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই যুদ্ধের কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও জুমচাষিদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাপক গোলাগুলির শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই হতাহতের সুনির্দিষ্ট বা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কলাবুনিয়া ও থাল কুম্ভ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এবং প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সন্ত্রাসীদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান ও গোলাগুলি শুরু হয়। তবে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে যৌথ বাহিনী বা পুলিশ সেখানে পৌঁছাতে পারেনি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর মতে, গত এক মাসে সাজেক এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ১৫ থেকে ২০ বার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে আতঙ্কিত হয়ে অনেক বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন।
এদিকে সাজেক থেকে জেএসএসের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ পাঁচ দফা দাবিতে ইউপিডিএফের ডাকে এলাকাটিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। ক্রমাগত গোলাগুলির ঘটনায় সাজেক ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। অবরোধ ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণ বন্ধ রেখেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।
তথ্যসূত্র:
১। সাজেকে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলি, আতঙ্কে স্থানীয়রা
– https://tinyurl.com/35rpfc2s


