সংসদে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কুরআন সুন্নাহ বিরোধী আইন পাস করল বিএনপি সরকার

0
4

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে তিনটি বিল পাস করেছে বিএনপি সরকার। এর মধ্যে দুটি মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত এবং অপরটি পিতা-মাতাকে আজীবন ভোগস্বত্ব বজায় রেখে সন্তানদের কাছে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ প্রদান-সংক্রান্ত ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, যা কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী।

পাস হওয়া ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ গুমের ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। এ আইনে একজন উপপরিদর্শক (এসআই) বা নির্ধারিত তদন্ত কর্মকর্তা এসব মামলার তদন্ত করবে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে গুমের ঘটনা তদন্তের একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে। নতুন আইনে সেই কাঠামো পরিবর্তন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এ আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্তের ক্ষেত্রে কমিশনের প্রশাসনিক ক্ষমতা অনেকটাই সীমিত করা হয়েছে। বিরোধী দল ও দেশীয়-আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা শুরু থেকেই এই ধারাটি সংশোধনের দাবি জানিয়ে আইনটির সমালোচনা করে আসছিল।

এছাড়া ১৮৮২ সালের পুরোনো আইন পরিবর্তন করে পাস করা হয়েছে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন ২০২৬’। নতুন এই আইন অনুযায়ী, পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি যদি সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (কিংবা বিপরীতভাবে) অথবা স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে কোনো সম্পত্তি দান করে, তবে দানকারী ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি স্বাচ্ছন্দে ব্যবহার ও ভোগদখলের পূর্ণ আইনি অধিকার ধরে রাখতে পারবে।

শরিয়াহ আইন অনুযায়ী, হেবা বা দানের ক্ষেত্রে যাকে সম্পত্তি দেওয়া হবে, তার কাছে তাৎক্ষণিকভাবে মালিকানা ও ভোগদখলের অধিকার হস্তান্তর হওয়া আবশ্যক। কিন্তু নতুন আইনের বিধানে দাতা ব্যক্তিকে জীবদ্দশায় সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ ও ভোগদখলের অধিকার ধরে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা শরিয়াহর হেবা ও উত্তরাধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অথচ বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন পাস করা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

এ ধরনের বিধান কার্যকর হলে আল্লাহ’র নির্ধারিত মিরাস (উত্তরাধিকার) ব্যবস্থাকে পাশ কাটানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং বৈধ উত্তরাধিকারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শরিয়াহ বিধান অনুযায়ী, জীবদ্দশায় সম্পত্তি হস্তান্তর হলে গ্রহীতার মালিকানা ও দখল নিশ্চিত হতে হয়, আর মৃত্যুর পর কার্যকর হওয়ার বিষয়টি অসিয়তের আওতায় পড়ে, যারও নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে।


তথ্যসূত্র:
১। বিরোধী দলের ওয়াকআউটের মধ্যেই সংসদে ৩ গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস
– https://tinyurl.com/bpcn7a8t

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধইমারাতে ইসলামিয়ার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক কথিত সুশীলদের অন্ধ বিরোধিতার যৌক্তিক জবাব: রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় অভিযোগ নিষ্পত্তির যুগান্তকারী উদ্যোগ
পরবর্তী নিবন্ধদেশে ২,০৩৮ শিশু এখনো নিখোঁজ, নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের সদস্যদের সংবাদ সম্মেলন